ভাই নাজমুস সাকিবের বক্তব্যের পর্যালোচনা

Abu Yunus
Abu Yunus
Jul 30, 2017 · 10 min read

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার যিনি আহলুস সুন্নাহ’র উত্তম ব্যক্তিদের উপর আরোপিত অন্যায় আক্রমণের প্রতিরোধে দু’কলম লেখার তাওফিক দিয়েছেন এবং তার প্রচার সহজ করেছেন।

ইসলামের নামে জঙ্গিবাদের পর্যালোচনার লেখার পর এর বিপরীতে আলোচনাযোগ্য তেমন কিছু পাইনি|

সম্প্রতি ফেসবুকের ইসলামী চিন্তাধারার ভাইদের মাঝে বেশ পরিচিত ভাই নাজমুস সাকিব আমার লেখার বিপরীতে কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন।

প্রথম কয়েক পর্বে আমি শায়খের সহজ সরল বিচ্যুতিসমূহ সহজ ভাষায় আলোচনা করেছি। ভাই নাজমুস সাকিবের লেখা পড়ে মনে হলো না উনি আমার কথা বুঝেছেন, না শায়খের কথা বুঝেছিলেন। আর সেগুলো ব্যাপক আলোচনার দাবী রাখে তাই আপাতত সেদিকে যাচ্ছি না।

মূলত পুরো বক্তব্য থেকে শুগারকোটিং করে ভিন্ন দিকে আলোচনা প্রবাহিত হওয়াতে সেগুলো আলোচনার দাবীও রাখেনা, যারা আমার লেখাগুলো পুরোটা পড়েছেন তাদের জন্য সেটা অনুধাবণ করা কঠিন হবে না ইনশা’আল্লাহ।

এখন মূলতঃ ষষ্ঠ পর্বের উপরে উনার দাবী-দাওয়ার বিপরীতে আমি কিছু লিখছি। আশা করি তা যথেষ্ট হবে ইনশা’আল্লাহ।

যদিও এটা জরুরী ছিল না তবে ইরজা ও খাওয়ালিফদের ফিতনার ব্যাপারে আন্তরিক ভাইদের অনুরোধেই লিখতে বসি।

নাজমুস সাকিব ভাই কিংবা অন্যান্যদের মোটিভেট করা উদ্দেশ্য না, সাধারণত এমনটা হয়ও না ইল্লা মা শা আল্লাহ। তবে তা যেন ভাইয়ের উপকারে আসে এটাই প্রত্যাশা।

উস্তাদ আবদুল্লাহ আদ’হাম রহঃ আমাদেরকে বলেছেনও নিবৃত্তকারী খাওয়ালিফ মুরজিয়াদের এড়িয়ে চলে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে।

তাই উক্ত লেখাটিকে কেউ তর্ক হিসেবে দেখবেন না।

এছাড়াও, এরপর এই প্রসঙ্গে উনারা যা ইচ্ছা বলতে পারেন। যার প্রকৃত অর্থেই আন্তরিক তারা আমার পূর্বের লেখাসমূহ পড়ে উভয়ের আর্গুমেন্টসমূহ তুলনা করলেই আশা করি বুঝতে পারবেন।

এখানে ভাইয়ের একটি আশ্চর্য বক্তব্যের বিপরীতে কিছু কথা বলব যা যথেষ্ট হবে ইনশা’আল্লাহ।

মুহতারাম ভাই বলেছেন ‘ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ’ বইটি আক্রমণাত্মক জিহাদিদের ব্যাপারে লেখা (!!)…

ভাই!

যদি এমন হতো তাহলে এত কথার কোনো প্রয়োজনই ছিল না… কেননা একথার সাথে আমরা সকলেই একমত ইকদামি জিহাদ যে কেউ ইচ্ছা পরিচালনা করতে পারে না।

দেখা যাক…

— -

ষষ্ঠ পর্বে আমি লিখেছিলাম,

পৃষ্ঠা ৪৯ এ দেখুন, মরহুম শায়খ লিখেছেন-
রাষ্ট্রের বিদ্যমানতা ও রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি বা নির্দেশ জিহাদের বৈধতার শর্ত বলে উল্লেখ করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:
الإمام_جنة يقاتل من ورائه#
“রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছে ঢাল, যাকে সামনে রেখে যুদ্ধ পরিচালিত হবে।”
(ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, পৃষ্ঠা ৪৯)
#প্রথমত, হাদিসের অর্থ বিকৃত করেছেন-ইমাম অর্থ রাষ্ট্রপ্রধান কীভাবে হয়?

নাজমুস সাকিব ভাই এর বিপরীতে বলেন-

না, তিনি হাদিসের অর্থ বিকৃত করেন নি। কারণ ইমাম এর অর্থ যে ‘আহলুস সুন্নাহ এর একত্রিত মতের একজন লীডার’ সে বিষয়ে অনেক বড় আলেম আগেই বলে গেছেন।

— -

যদিও পুরো পোস্টটি পড়লে যে কারোরই বিষয়টি বুঝে আসার কথা তথাপি ভাই নাজমুস সাকিব আলোচনা করেছেন তাই আমি আবারও আলোচনা করছি বোঝার সুবিধার্থে ইনশা’আল্লাহ।

সংক্ষেপে ভাই শুনুন। হাদিসের ব্যখ্যায় কী আছে সেটা তো আসবে পরে। আপনি ইমাম অর্থ রাস্ট্রপ্রধান করে দিচ্ছেন এটাই হচ্ছে খিয়ানত। শুধু তাই নয়, এটাকে জিহাদের শর্ত আরোপ করা হয়েছে সরাসরি হাদিসের অর্থ থেকেই, আপনি যেভাবে কপি-পেস্ট মেরে দেখিয়েছেন (নিচে) এমন কিছুই ছিল না।

জামাতে সালাত আদায়, হজ্জের হাদিসে ইমাম শব্দের অর্থে “রাস্ট্রপ্রধাণ” করে দিলে সেটা কি খিয়ানত হতো না? ইমাম তহাবি রহঃ স্বীয় আকিদার কিতাবে লিখেছেন ইমামের পেছনে হজ্জ ও জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত চলবে।

তাহলে এভাবে হাদিসের অনুবাদ আর সালাফদের আম বক্তব্যের অপপ্রয়োগ চলতে থাকলে অর্থাৎ ‘মুসলিম রাস্ট্রপ্রধানের অধীনে হজ্জ ও জিহাদ পরিচালিত হবে কিয়ামত পর্যন্ত’ বললে তো হজ্জ পালনও একপ্রকার উগ্রপন্থা বর্তমানে (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)!!

কেননা হজ্জ তো এখন আহলুস সুন্নাহ’র একত্রিত মতের লিডারের অধীনে হচ্ছে না।

এছাড়া ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ নিজেও খলিফার অধীনে জিহাদ করেন নি। করেছেন একজন স্থানীয় শাসকের অধীনে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন!! তাহলে তো আপনাদের কওলের ব্যখ্যা মতে উনিও সন্ত্রাসী!

তাই ইমাম শব্দের ব্যখ্যা একেক জায়গায় একেক টা হতেই পারে; এটা এখানে তো আলোচ্য না। কিন্তু হাদিসের অর্থ এক্সক্লুসিভ্ললি এটা করা এবং এটা থেকেই সিদ্ধান্ত টেনে দেয়া খিয়ানত নয় তো কী ভাই!!!?

আশা করি এই জলবৎ-তরলং বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে।

এছাড়া, শায়খ অন্যত্র আরেকটি জায়গায় হাদিসের নামে জালিয়াতি করেছেন (ইনশা’আল্লাহ ৭ম পর্বে আলোচনা হবে)। তাই অহেতুক ধারনা করে আপনি বার বার শায়খের ভুলকে শুদ্ধ করতে পারবেন না।

পরবর্তীতে ভাই নিজ বক্তব্যের সপক্ষে সালাফদের কিছু বক্তব্য তুলে ধরেছে-

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেছেন,الإمام الذي يجتمع قول أهل السنة والجماعة عليه كلهم يقول هذا الإمام ইমাম হল সেই ব্যক্তি যার ওপর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’ এর সকলে একমত হয়েছেন। তারা সবাই বলে, এ আমাদের ইমাম।
এখানে ইমাম আহমাদ, ইমামের অর্থ রাষ্ট্রপ্রধানের চাইতেও বেশি করেছেন। এমন একজনকে তিনি ইমাম বলেছেন, যার ওপর সবাই এগ্রিড থাকবে। বিচ্ছিন্ন কেউ হবে না।
ইমাম ইবন তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ তার মিনহাজুস সুন্নাহ কিতাবে বলেছেন,الامامة عندهم تثبت بموافقة اهل الشوكة عليهاو لا يصير لرجل إماما حتي يوافقه اهل الشوكة عليها
তাঁদের কাছে (আহলুস সুন্নাহ) ইমামত প্রতিষ্ঠিত হয় আহলুশ শাওকার (ক্ষমতাবান জামা') একাত্মতা/সত্যায়নের মাধ্যমে। এবং একজন ব্যক্তি ততক্ষণ ইমাম হতে পারে না, যতক্ষণ আহলুশ শাওকা তার ইমামতের ওপর একাত্মতা ঘোষণা করেন না।
এখানেও তিনি বুঝালেন, ইমাম অর্থ সে ব্যক্তি যার কাছে ‘আহলুশ শাওকা’র মাধ্যমে ‘অফিশিয়ালি’ ক্ষমতা এসেছে। মাস'ঈল ইমাম আহমাদ কিতাবে উল্লেখ হয়েছে, ইমাম আহমাদ তাঁর এক ছাত্রকে প্রশ্ন করেন, ইমাম কে? উত্তরে ছাত্র বলেন,الذي يجمعون عليه مسلمون كلهمযার ওপরে সমস্ত মুসলিম ঐক্যমত পোষণ করে।ইমাম আহমাদ বলেন,فهذا الامامঅতএব, ইনিই হলেন ইমাম।

উপরের কথাবার্তার পর ভাই বলেছেন,

বল তো, কার ওপরে সমগ্র মুসলিম ঐক্যমত পোষণ করে? এখন তুমি নিশ্চই বলবে না, আল কায়দার ‘ইমাম’ এর ওপর সমস্ত উম্মাহ ঐক্যমত পোষণ করেছে কিংবা আহলুস সুন্নাহ ও আহলুশ শাওকা জাওয়াহিরির আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে। 
তাহলে যদি বিচ্ছিন্ন কারো নেতৃত্বে কেউ কোথাও হামলা করে তাহলে সেটাকে যদি আলেমগণ ‘বৈধ’ জিহাদ না বলে ‘সন্ত্রাস’ বলে, সেক্ষেত্রে কি সেটা ইলমি খেয়ানত হবে?

হাস্যকর কথাবার্তা। শায়খ আইমান কিংবা অন্য কেউ নিজেকে ইমারাতের ইমাম (যার তামকিন ও শাওকা আছে) কিংবা খলিফা দাবী করেছে কি!!?

বরং উনারা তো হচ্ছেন দিফায়ি জিহাদে লিপ্ত একেক জন ব্যক্তি। সালাতে যেমন মুসুল্লিরা ইমাম নিয়োগ করে জামাতে সালাতের ফরিজা আদায় করে একই ভাবে জিহাদের ফরিজাও স্থানীয়ভাবে ইমাম নিয়োগ করে আদায় করা হচ্ছে।

তাই দিফায়ি (আত্মরক্ষামূলক অর্থাৎ মুসলিম উম্মাহ’র হেফাজত ও ভুমি পুনুরুদ্ধারের জিহাদ) জিহাদের আলোচনায় আহলুস সুন্নাহ’র ইমামদের ঐ সকল আলোচনা কেন আনা হচ্ছে যেগুলো মূলত করা হয়েছে ইকদামি বা আক্রমণাত্মক জিহাদের ক্ষেত্রে !!!?

অনেকটা এমন হয়ে গেল যে,নিষিদ্ধ সময়ে সালাত আদায়ের ফিকহ দিয়ে সালাত আদায়কেই চিরতরে নিষিদ্ধ করে দেয়া (মা আজাল্লাহ)!

আর ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন!

এখন পর্যন্ত মুজাহিদিন কর্তৃক নিকারাগুয়া, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা কিংবা পর্তুগাল আক্রমণ করা হয়েছে কি? তাহলে কীভাবে এই আশ্চর্য প্রশ্ন করা হচ্ছে যে, শায়খ আইমানের তামকিন বা শাওকা আছে কি নেই!!? উনি তো ইকদামি জিহাদের ডাক কখনই দেন নি!! কিংবা উনার পূর্বের মুজাহিদিন কায়েদরাও…

১৯৯০ এর পর থেকেই মুজাহিদিন শায়খরা বলে আসছেন শুধুমাত্র ঐ কাফিরদেরকেই আক্রমণ করা হবে যারা মুসলিমদের আগে আক্রমণ করেছে… এবং হয়েছেও তাই।

অনেকে বলতে পারে এসব কথা মুজাহিদিনরা গোপনে দিয়েছে জানব কীভাবে।

ভাই! এত ঘাটাঘাটির কিছুই নেই। এগুলো দুনিয়াতে যত প্রকাশ্যে বলা হয়েছে, প্রচারিত হয়েছে কাফির-মুসলিম নির্বিশেষে- অন্য কোনো মুসলিম জামাতের আকিদা-মানহাজ এত প্রকাশ্যে বর্ণিত হয়েছে কি না সন্দেহ আছে।

শায়খ উসামা রহঃ (যাকে শায়খ রহঃ একজন সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করেছেন) ১৯৯৮ সালে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তা আল-জাজিরাতে ব্রডক্যাস্ট হয়েছে,

তানজিম আল-কায়েদার আফগানিস্তান শাখার মাস’উল শায়খ মুস্তাফা আবু ইয়াজিদ রহঃ ২০১০ এ আল-জাজিরার আহমাদ জাইদানকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন-

এছাড়াও শায়খ আইমান আয-যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ স্বীয় কিতাব “আত-তাবরিয়া”তে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যে আমাদের জিহাদ কখনই ইকদামি জিহাদ নয়!

মুসলিম উম্মাহ’র প্রতিরক্ষা ও মুসলিমদের ভূমি পুনরুদ্ধারই উদ্দেশ্য।

একথাগুলো মুরজিয়া-মাদখালি থেকে শুরু করে তামাম দুনিয়ার কাফেররা পর্যন্ত জানে, খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির রহঃ জানতেন না এমন ধারণা করা শায়খের ব্যাপারে কুধারণা করারই নামান্তর।

আলহামদুলিল্লাহ! আমি শায়খের জানাশোনার ব্যাপারে উচু ধারণা রাখি বিশেষ করে তিনি ৮০’র দশকের খাওয়ারিজদের ব্যাপারে এতকিছু জানেন অথচ বর্তমানের মুজাহিদিনদের ব্যাপারে ক-খ লেভেলের জ্ঞান রাখেন না এমন নিচু ধারণা আমি শায়খের ব্যাপারে করি না আলহামদুলিল্লাহ।

… আশা করব নাজমুস সাকিব সহ ও অন্যান্য ভক্ত ভাইয়েরা জবরদস্তি করতে গিয়ে শায়খকে ছোট করবেন না।

দেখুন ভাই! কোনো আলেম যদি যাচাই-বাছাই না করে ‘পশ্চিমা’দের সাথে সুর মিলিয়ে স্বীয় মুসলিম ভাইদের অনুমানের উপর নির্ভর করে অপবাদ আরোপ করে তাহলে সেই আলেমকে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া যায় সহজেই।

কেননা এমন ব্যক্তির শাহাদাতই গ্রহণযোগ্য হবে না, দূরে থাকুক ফতোয়া আর ইজতিহাদ!

আসুন দেখা যাক মুসলিমদের ব্যাপারে অপবাদ আরোপের পরিণতি কী?

আবু যার রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

وَمَنِ ادَّعَى قَوْمًا لَيْسَ لَهُ فِيهِمْ نَسَبٌ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ

“যে ব্যক্তি কোন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোন বানোয়াট অভিযোগ আনল, সে যেন নিজেই নিজের স্থান জাহান্নামে করে নিল।” [সহীহ বুখারী:৩৫০৮]

“ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত রয়েছে যে, সতিসাধ্বি নারীর উপর অপবাদ দেওয়ার শাস্তি পুরুষের উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে (ফাতহুল বারী ১২/১৮১)।

তাহলে উম্মাহ’র শ্রেষ্ঠাংশ মুজাহিদিনদের ব্যাপারে অপবাদ আরোপের কী ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে!!?

শায়খের মুহিব্বিন নাজমুস সাকিব ভাইরা কেন এমনটা প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যে, শায়খ আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির অনুমানের উপর ভিত্তি করে শায়খ উসামা রহঃ ও মুজাহিদিনদের উপর অপবাদ আরোপ করেছেন!!!!!?

তাই আমরা বলি, শায়খ অজ্ঞতা ও অনুমানের আশ্রয় নিয়ে মুসলিমদের উপর অপবাদ আরোপ করেন নি বরং ইলমি খিয়ানত করেছেন। ওয়াল্লাহু তা’আলা আ’লাম।

আরেকটি বিস্ময়কর বিষয়ের অবতারণা ভাই করেছেন,

“ডিফেন্সিভ জিহাদের ক্ষেত্রে তাঁর সমর্থন ভূমিকাতেই পাওয়া যায়। তিনি ইরাকের যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইরাকি যোদ্ধাদের মার্কিন জোটের বিরুদ্ধে ‘ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধাগণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে বোঝাই যাই, পুরো বইটিই তিনি অফেন্সিভ জিহাদের ক্ষেত্রে লিখেছেন।”

ভাই,

খ্রিস্টানদের স্বভাব হচ্ছে সুস্পস্ট বাক্য এড়িয়ে গিয়ে অস্পষ্ট বাক্যের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রতিষ্ঠা করা। হাল জমানার মুরজিয়াদেরও এই স্বভাব রয়েছে। আমরা বিশ্বাস রাখি- মুহতারাম নাজমুস সাকিব ভাইরা এদের উভয়ের থেকেই মুক্ত।।

ভাই! ইরাকে তো তানজিম আল-কায়েদাই জিহাদ করছিল, বইটাও সেই সময়েই লেখা। শায়খ যা বলেন নি জোর করে তার মুখে সেটা তুলে দিচ্ছেন কেন ভাই??

যেখানে পুরো বইই আল-কায়েদার সমালোচনা করে লেখা কেননা তখন আইএসের অস্তিত্বই ছিল না… জঙ্গিবাদ বলতে কেবল তানজিম আল-কায়েদাতুল জিহাদ ও তালিবানের মুজাহিদিনদের বোঝানো হতো। তাহলে আপনি একথা কীসের ভিত্তিতে বলছেন!!!?

এছাড়াও, কাশ্মীর জিহাদ, আফগান জিহাদের ক্ষেত্রেও শায়খ বলেছেন সেখানে জিহাদ সহিহ হচ্ছে না এবং রাস্ট্রের অপরিহার্যতা উল্লেখ করেছেন। আশা করি বইটি পড়ে নিবেন।

এছাড়াও, শায়খ অন্যত্র ইরাকের যুদ্ধকে শিয়া-সুন্নি ইনফাইটিং বলেছেন, আপনি হয়তো এড়িয়ে গেছেন। আশা করব, পুনরায় কীবোর্ডের বাটন চাপার পূর্বে বইটি ভালো করে পড়ে নিবেন ইনশা’আল্লাহ।

যেখানে শায়খ এত বড় বইয়ের কোথাও এমন কথা বলেন নি উল্টো দিফায়ি জিহাদে লিপ্তদের কর্কশ আক্রমন করেছেন সেখানে আপনি একটা বিচ্ছিন্ন অস্পষ্ট বক্তব্য থেকে নিজে নিজে অনুমানভিত্তিক ব্যাখ্যা করে দিচ্ছেন। সুবহান’আল্লাহ!

অন্যত্র ভাই আবারও বলেছেন,

অবশ্যই এটা ডিফেন্সিভ জিহাদের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে অফেন্সিভ জিহাদের কথা। শায়খ জাহাঙ্গির যেই কিতাব লিখেছেন, তা অফেন্সিভ জিহাদের প্রেক্ষাপটেই লিখেছেন।

(এটার উত্তর কিছুটা আগের পয়েন্টে এসেছে তবুও ভাই পুনরায় বলায় আবার বিস্তারিত লিখছি, কিছু কথার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, তবুও বার বার বলা হচ্ছে যাতে সহজ বিষয় বোঝা যায় সহজে।

আল্লাহ’র রাসুল সাঃ গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনবার বলতেন। ভাইদের সুবিধার্থে আমি না হয় দুইবার বললাম। আল্লাহ মাফ করুন।)

ভাই! এত জোর দিয়ে “অবশ্যই” বলছেন কিন্তু এগুলো আপনার অনুমাননির্ভর বাৎচিত বৈ কিছুই নয় ভাই। শায়খ এত বড় বই লিখেছেন আমাকে দেখিয়ে দিন ঠিক কোথায় তিনি একথা বলেছেন!!? এত বড় বইয়ে এই কথাটি একবার লেখার সময়-সুযোগ হলো না!?

বরং অন্যত্র এর বিপরীতটিই প্রকাশ পেয়েছে বার বার।

দুনিয়ার কোথাও ইমাম উসামা রহঃ ইকদামি (অফেন্সিভ) জিহাদ করার আহবান করেন নি… দুনিয়ার একজন মুজাহিদও একথা বলেনি আজ পর্যন্ত।

শায়খ খন্দকার রহঃ কতই না আক্রমণাত্মক ভাষায় উম্মাহ’র মুজাহিদিনদের আক্রমণ করেছেন আর আপনি নিজের মন চাহি বুঝ থেকে বলে দিলেন শায়খ অফেন্সিভ জিহাদের উপর বই লিখেছেন।

এটা তো শায়খের অজ্ঞতা ও যাচাই না করে অপবাদ আরোপ করার বিষয়টিকে সামনে তুলে আনে। তাই নয় কি? যিনি গ্লোবাল পলিটিক্সের এত কিছু জানেন, এর উপর বিশাল বই লিখছেন অথচ বেসিক লেভেলের জ্ঞান রাখেন না এটা কেমন হয়ে গেল না!!?

ইরাকের জিহাদে তো তানজিম আল-কায়েদাই ছিল… আফগানিস্তানেও তাই… সোমালিয়া ও মাগরিবেও… তাহলে শায়খ উসামা রহঃ কে সন্ত্রাসী সাব্যস্ত করা হলো কেন!!!!? এটা থেকে কী আপনার বুঝে আসেনা যে শায়খ এখানে ইকদামি জিহাদের কথা বলছেন না!!?

কেন কাশ্মীর ও আফগানের জিহাদকেও বাতিল বলা হলো!!!?

ইকদামি জিহাদের জন্য তামকিন ও শাওকা জরুরী এটা সকলেই জানে… যেখানে আমরা জিহাদকে ফরজে আইন মনে করি, একথা কি কেউ বলেছে মুজাহিদিনদের থেকে যে ইকদামি জিহাদ ফরজে আইন!!?

সুবহান’আল্লাহ!

তানজিম আল-কায়েদার এমন কোনো বিবৃতি বা অপারেশন নাই যাকে ইকদামি জিহাদ বলার বিন্দুমাত্র সুযোগ আছে। ওয়েস্টে হামলার ব্যাপারেও শায়খ উসামার পাবলিক ইন্টারভিউ আছে। এমন না যে এটা দুষ্প্রাপ্য।

দিফায়ি জিহাদ মানে এই নয় যে, আমাকে শুধু মারবে আর আমি ঘরে বসে তা ফিরাব। মদীনার বাইরের জিহাদও দিফায়ি জিহাদ ছিল। যেমন- বদর, উহুদ।

আলহামদুলিল্লাহ! আমরা শায়খ খন্দকার রহঃ’র ব্যাপারে এত বড় কুধারণা রাখি না যে তিনি এগুলো না জেনে কিংবা জেনেও অন্যায়ভাবে একথা দাবী করবেন যে, “মুজাহিদিনরা ইকদামি জিহাদে লিপ্ত।“

মুজাহিদিনরা ইকদামি জিহাদে লিপ্ত এমন কথা মুজাহিদিনরা দূরে থাকুক, মুরজিয়া-মাদখালিরাও বলে না।

এত কিছুর পরেও যদি কেউ বলে যে, মুজাহিদিনরা ইকদামি জিহাদে অর্থাৎ রাস্ট্র ছাড়া জিহাদে লিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে (সুবহান’আল্লাহ এরপরেও প্রকৃতপক্ষে একে সন্ত্রাস বলা চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি হতো) তাহলে সে স্বীয় মুসলিম ভাইদের গায়ে না জেনে অপবাদ আরোপ করলো।

তাহলে নাজমুস সাকিব ভাই কি শায়খ রহঃ’র উপর নামিমার অভিযোগ আনছেন !!!??

ওয়ালা হাওলা ওয়া লা ক্কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!!

ষষ্ঠ পর্বের শেষ দিকে আমি বলেছিলাম (সকলকে পুরো লেখাটি পড়ার অনুরোধ)

কোথায় পেলেন এই শর্ত!! কোথায়? কোন ফিকহের কিতাব? এই হাদিসের ব্যখ্যায় কোন মুহাদ্দিস এই কথা বলেছেন!!?! রাস্ট্রপ্রধান শব্দটি কোথায় আছে!!??

এগুলো আল্লাহ্‌’র রাসুল সাঃ এর নামে মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই না…

এর বিপরীতে নাজমুস সাকিব ভাই বলেছেন-

আল্লাহ সেই ভাইকে ক্ষমা করুক, যিনি ইলমের অভাবে এইভাবে বলেছেন। তাঁর কথা অনুযায়ী ইমাম আহমাদ, ইবন তাইমিয়া সবাই মোটামুটি আল্লাহর রাসূলের নামে মিথ্যাচার করে গেছেন।

আমিন।আল্লাহুম্মা আমিন। অতঃপর,

ভাই আবেগপ্রবণ হবেন না। শুরুতে শায়খ রাহিমাহুল্লাহ’র কথাটি পড়ুন এরপর আবার আমার লেখাটি ভালো করে পড়ুন।

আপনি তো ভালো করেই বুঝতে পারছেন আমি আগাগোড়া দিফায়ি জিহাদের আলোচনাই করে আসছি। তাহলে আপনি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে ইকদামি জিহাদের দুই-একটা কওল কপি-পেস্ট করে আমার বক্তব্যকে সাইডলাইনে ঠেলে দিচ্ছেন কেন??

আবারও বলি,

আমরা যখন জিহাদের কথা বলি তখন ডিফেন্সিভ/দিফায়ি/আত্মরক্ষামুলক জিহাদের কথাই বলি। শুরুতে অনুমান করলেন যে শায়খ দিফায়ি জিহাদের উপর কথা বলেন নি। সেই অনুমানের উপর ভিত্তি করে এই কথাগুলো আনলেন যেখানে আপনি পরিস্কার বুঝতে পারছেন আমি দিফায়ি জিহাদ নিয়ে কথা বলছি। অথচ ইকদামি জিহাদের কওল এনে ব্যাক্তি আক্রমণ করছেন।

আশ্চর্য পরিস্থিতি! লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

দিফায়ি জিহাদের জন্য রাস্ট্রপ্রধাণ শর্ত এটা ফিকহের কোন কিতাবে আছে এটা আমাকে দেখিয়ে দিন। এটাই ছিল আমার প্রশ্ন… যে পরিমাণ তড়িৎ গতিতে ইমামদের বক্তব্য এনেছেন সম্ভব হলে তার অর্ধেক গতিতে যে কোনো সালাফ-খালাফ আলেমের বক্তব্য এনে দিন।

আপনি দুজন হাম্বলি ইমামের বক্তব্য দিয়েছেন। হাম্বলি মাজহাবের ফকিহ হওয়া সম্ভব না যে কিতাব অধ্যায়ন ব্যাতীত সেই কিতাবের উদ্ধৃতি দিচ্ছি। নিঃসন্দেহে ইমাম আহমাদ রহঃ’র বক্তব্য আমার, আপনার কিংবা কোনো মাদখালি শায়খের চেয়ে ইমাম ইবনে কুদামা আল হাম্বলি রহঃ ভালো বুঝেছিলেন-

فان عدم الامام لم يؤخر الجهاد لان مصلحته تفوت بتأخيره، وان حصلت غنيمة  قسموها على موجب الشرع، قال القاضي وتؤخر قسمة الاماء حتى يقوم إمام  احتياطا للفروج.اهـ
“যদি ইমাম না থাকে তাহলে এ কারণে জিহাদ পিছিয়ে দেয়া যাবে না। কেননা, পিছিয়ে দেয়ার দ্বারা জিহাদে নিহিত মাসলাহাত ও কল্যাণসমূহ হাতছাড়া হয়ে যাবে। গনীমত লাভ হলে হকদারদের মাঝে শরীয়তে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী বণ্টন করে নেবে।
তবে কাজী রহ. বলেন, ইমাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতাবশত দাসীদের বণ্টন স্থগিত রাখবে।”
[আল-মুগনী: ১০/৩৭৪]

সুবহান’আল্লাহ! এখানে দিফায়ি জিহাদের কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে ইকদামি জিহাদের কথা।

তাহলে ইমাম না থাকলে (যেমন- এখন) কেউ যদি ইকদামি জিহাদ করে তবুও তাকে সন্ত্রাস বলা হবে ইমাম ইবনে কুদামাকে সন্ত্রাসের উস্কানিদাতা বলার নামান্তর!

আলোচনার সারসংক্ষেপঃ

শায়খের বই আদৌ অফেন্সিভ জিহাদের প্রেক্ষাপটে লেখা না। এবং তানজিম আল-কায়েদাতুল জিহাদ কখনই ইকদামি জিহাদে লিপ্ত নয়, বরং বারংবার বলা হয়েছে তানজিম আল-কায়েদার ‘জঙ্গি’রা দিফায়ি জিহাদে লিপ্ত। আরও জানতে শায়খ আইমান হাফিজাহুল্লাহ লিখিত “আত-তাবরিয়া” পড়তে পারেন।

ইকদামি জিহাদের জন্য তামকিন ও শাওকা আছে এমন আমির জরুরী এটা নিয়ে কারো সন্দেহ নাই। তাই ইমাম আহমাদ, ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুমুল্লাহ’দের ইকদামি জিহাদ সংক্রান্ত ক্ক্ওলগুলো অহেতুক এখানে আনার কোনো মানে নাই।

এছাড়াও, ইমামের অনুপস্থিতিতে ইকদামি জিহাদ পরিচালনা করাও বৈধ হবে। কিন্তু যদি ইমাম থাকে তবে অধীনস্ত মামুররা নিজে থেকে কিছু করবে না যেহেতু ইমামের আনুগত্য ওয়াজিব। যদিও নফিরে আম হলে তখন ইমাম জিহাদে না বের হতে না দিলে তার আনুগত্য করা হবে না (এগুলো ফিকহের কিতাবে বিস্তারিত আছে, আমি অন্য পোস্টে উল্লেখও করেছে। সময় করে দেখে নিতে পারেন)। আর এই সময়ে যে ইমাম নেই একথা তো আপনিও মানছেন।

যেদিক থেকেই দেখুন আপনার বক্তব্যের কিংবা আপনার শায়খদের বক্তব্যের বিন্দুমাত্র গ্রহণযোগ্যতা নেই।

আল্লাহ তা’আলা সহজ বিষয়কে অহেতুক জটিল করার মত বাজে স্বভাব হতে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

এবং সর্বশেষ কথা হচ্ছে- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার!

    Abu Yunus

    Written by

    Abu Yunus

    Welcome to a place where words matter. On Medium, smart voices and original ideas take center stage - with no ads in sight. Watch
    Follow all the topics you care about, and we’ll deliver the best stories for you to your homepage and inbox. Explore
    Get unlimited access to the best stories on Medium — and support writers while you’re at it. Just $5/month. Upgrade