১৪ বছর পর পাল্টে গেল জিয়ানগর উপজেলার নাম : ক্ষুব্দ বিএনপি-জামায়াত, খুশি আওয়ামীলীগ

খালিদ আবু,পিরোজপুর >
 ১৪ বছর পর পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানি করায় বিএনপি-জামায়াত অনুসারীরা নাখোশ হলেও খুশি সরকার সমর্থক দলের লোকজন। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকালে ইন্দুরকানি বাজারে উপজেলা আ’লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে মিস্টি বিতরণ করেন। অপরদিকে সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
 সূত্রে জানাযায়, ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০২ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পিরোজপুর সদর উপজেলার পত্তাশী, পাড়েরহাট ও বালিপাড়া এ ৩টি ইউনিয়নের ৯২.৫৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে জিয়ানগর উপজেলা নামে একটি নতুন প্রশাসনিক উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা-২ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়। এই আদেশের বলে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পিরোজপুরের ইন্দুরকানি সফর করে ইন্দুরকানী কলেজ মাঠে এক বিশাল জনসভায় ইন্দুরকানি থানাকে জিয়ানগর উপজেলা নামে উদ্বোধন করেন।
 এদিকে সোমবার নাম পরিবর্তনের খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে এ উপজেলা জুড়ে বিষয়টি ’টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়’। নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে বিএনপি জামায়াত ঘরানার অনুসারীরা নাখোশ হলেও আ’লীগের নেতাকর্মিদের অনেকেই এ ব্যাপারে উচ্ছাস প্রকাশ করে ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। অপরদিকে রাজনীনৈতিক দলের বাইরে থাকা কিছু সাধারন মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, নাম পরিবর্তনের কারনে উপজেলাবাসীকে বিভিন্ন কাগজ পত্রের জন্য সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
 এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেন, আমি বলব এখানে জনমতের প্রতিফলন হয়নি। আর সরকারী সিদ্ধান্ত মেনে না নেয়ার তো সুযোগ নেই। তবে আমাদের উন্নয়ন কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, অন্যান্য উপজেলার মতো এ উপজেলাতেও সরকারী বরাদ্ধ দেন এবং এ উপজেলার সাথে যেন বিমাতাসুলভ আচরণ না করেণ এটাই কাম্য। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমান উপজেলা পরিষদের কোন সভা থেকে এ উপজেলার নাম পরিবর্তনের জন্য সরকারকে কোন অনুরোধ জানানো হয়নি। পূর্বের কোন পরিষদ নামকরণের জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে ছিলো কি- না তা আমার জানা নেই।
 উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ হাওলাদার বলেন, দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সংসদ সদস্য থাকাকালীন ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল এটিকে জিয়ানগর উপজেলা হিসেবে নামকরন করেন। তিনি ইচ্ছা করলে সে সময় এ উপজেলাকে তার নিজের নামে সাঈদী নগর করতে পারতেন। তিনি আরো বলেন, জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আর তার নামেই এ উপজেলার নামকরন করা হয়েছিল। উপজেলা গঠনের পর সে সময় এখানে প্রচুর উন্নয়ন মুলক কাজ হয়। তবে বর্তমান সরকার প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে জিয়ার নাম পরিবর্তন করার জন্যই উপজেলার নাম বদল করেছে। নাম পরিবর্তন হওয়ায় এ উপজেলার ৮০ ভাগ মানুষ অখুশি বলে তিনি জানান।
 অপরদিকে এ ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, সোমবার মন্ত্রী পরিষদের সভায় জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তণ করে ইন্দুরকানি উপজেলা নাম করণ করা হয়েছে। জিয়ানগর নামকরনের সময় আমাদের আপত্তি থাকলেও তারা তাদের ক্ষমতাবলে জিয়ার নামে উপজেলার নামকরন করেন। তাই দীর্ঘদিন পরে হলেও উপজেলার নাম পরিবর্তণ করায় আমরা উপজেলাবাসি খুশি।

Click to Post