কৌতূহল

বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে, জানলা দিয়ে সামনের বাসার মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে, মেয়েটির নাম ও বৃষ্টি। দেখে মনে হচ্ছে আষাঢ়ের বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে বৃষ্টি মেয়েটিও কাঁদছে। মাস দেড়েক হলো এই এলাকায় থাকি এলাকার নাম বন্ধু নিবাস।

কিন্তু এই এলাকার লোকজন একে অপরের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করেছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

লোক মুখে শুনেছি এই গাছ গাছালি ঘেরা, রংচটা, পুরোনো ধাচের ঘুটঘুটে অন্ধকার বাড়িটা নাকি পূর্ণিমার রাতেও আলোকিত হয় না , তাই বাড়িটিকে এলাকার লোকজন ভুতুড়ে বাড়ি বলে। আমি অবশ্য ওই ভুতুড়ে বাড়ির সামনেই থাকি, আর বৃষ্টি মেয়েটি ওই ভুতুড়ে বাড়ির মেয়ে।

প্রায় দিনেই বারান্দায় দাড়িয়ে থাকে, রাত নেই, দিন নেই বারান্দায় আনমনে দাড়িয়ে যে কি ভাবে আর প্রায় সময়ই কাঁদে। লোকজন বলে মেয়েটির ওপর নাকি জ্বিনের আছর আছে। কেউ মেয়েটির কাছে যায় না, ভয়ে কেউ কথা ও বলে না।

এই তো বেশ কিছু দিন আগের কথা বিকেল বেলায় জানলায় দাড়িয়ে কৌতূহলবসত ওই বারান্দার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, মেয়েটি খুব সুন্দর করে সেজেছিলো, দূর থেকেই কেমন যেন বেলী ফুলের ঘ্রাণ আসছিল। শ্যামবর্ণ মেয়েটিও যে সুন্দরের অধিকারী তা বুঝিনি, তবুও সুন্দরের মধ্যে কোথায় যেন খুঁত আছে তা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কে যেন বলে উঠলো আমি বৃষ্টি, আর আমার সুন্দরের খুঁত হচ্ছে আমি দেখতে পাই না, এই বলে মেয়েটি একটি ভয়ঙ্কর হাসি হাসলো, হাসতে হাসতে ফুঁপিয়ে কাঁদা আরম্ভ করলো আর তখন সেই বেলী ফুলের ঘ্রাণটা হঠাৎ চলে গেল।

ঐ দিনের পর থেকে মেয়েটিকে নিয়ে কৌতূহল আরো বেড়েছিল। আসলেই কি জ্বিনে আছর করেছে না মানুষের মন পড়তে পারে। হয়তোবা ইএসপি ক্ষমতাটা প্রবল। প্রশ্নোত্তরের কৌতূহলে ঐ ভুতুড়ে বাড়িটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ঐ বাড়িটিতে ঢুকতেই সেই বেলী ফুলের ঘ্রাণ ……

তারপর কি হলো তা না হয় পাঠক দের কৌতুহলের বিষয় হয়েই থাক ……

মেয়েটি আজও কাঁদছে তবে বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে ।