স্টোরেজ ডিভাইসের নতুন মাত্রা ডিএনএ ডাটা স্টোরেজ

আমরা প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে যেটাই করছি সেটাই রেকর্ড হয়ে থাকছে। কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? আচ্চা, ইউটিউবে একটা ভিডিও দেখুন কিংবা গুগলে কিছু সার্চ দিন। একটু পর হিস্টোরি দেখুন অথবা ফেসবুক চেক করুন, দেখবেন সার্চ রিলেটেড কিছু আপনাকে বিজ্ঞাপন হিসেবে দিচ্ছে।

যাইহোক, এতো এতো ডাটা জমা রাখার জন্য তো স্টোজের ডিভাইস, ডাটা সেন্টার প্রয়োজন তাই না? সেই ১৯৪৭ সালের Williams-Kilburn tube দিয়েই এই স্টোরেজ ডিভাইসের সূচনা। এরপর ১৯৫০ এ Magnetic drum memory, ১৯৫১’র “UNISERVO” tape drive ইত্যাদি স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার হয়েছে। তবে সেগুলো ছিলো আকারে বড় এবং মেমোরি সাইজ অনেক কম। বর্তমানে যে সকল হার্ড ডিস্ক/মেমোরি আমরা ব্যবহার করছি সেগুলোও দিন দিন আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে ডাটা সেন্টারের সংখ্যাও।

আচ্চা যদি এমন হয় যে ইন্টারনেট জগতের যতো ডাটা আছে সেটা বড় বড় ডাটা সেন্টারের ডাটা বা ছোট ছোট ডাটা সার্ভারের ডাটা হোক এ সব ডাটা গুলোকে একত্রে একদম ছোট করে একটি পানির গ্লাসের সমান জায়গায় স্টোর করা সম্ভব!

কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো? বিশ্বাস করুন আর নাই বা করুন কিন্তু এটাই সত্য যে ডিএনএ ডাটা স্টোরেজ ব্যবস্থাপনায় অনেক ছোট পরিসরে অনেক ডাটা জমা রাখা যাবে।

source: google

২০১২ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্ররা এই বিষয়ের উপর গবেষণা করে এবং তারা ডিএনএ এর ভেতর ডাটা স্টোর করে দেখিয়ে দেয় যে ডিএনএ ডাটা স্টোরেজ এর অস্তিত্ব সত্যিই সম্ভব। সাম্প্রতিক একটি গবেষকদল ডিএনএ এর ভেতর ডাটা স্টোর করেন এবং তা রিকভার করতেও সফল হোন। এবং তারা সম্পূর্ণ ভাবে প্রমানিত করে ফেলেন যে ডিএনএ কে অবশ্যই ডাটা স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কারন তারা স্টোর এবং রিকভার দুটিই করেন।

গবেষকগনের মোতাবেক ১ মিলিমিটার কিউব ডিএনএ তে ১ এক্সাবাইট তথ্য সংরক্ষন করা সম্ভব। এর মানে ১ মিলিমিটার কিউব ডিএনএ = ১০,০০০,০০০,০০০ গিগাবাইট স্টোরেজ। তো বন্ধুরা আপনি ভেবে দেখতে পারছেন? আপনারা কি ভাবছেন জানিনা তবে আমার চোখ ইতিমধ্যে ছানাবড়া হয়ে গেছে

যাই হোক, ১ সেন্টিমিটার কিউব ডিএনএ তে ১ জ্যাটাবাইট ডাটা সংরক্ষন করা সম্ভব। আর সমগ্র ইন্টারনেট যেহেতু ১৫ জ্যাটাবাইট সুতরাং ১৫ সেন্টিমিটার কিউব ডিএনএ তে সমগ্র ইন্টারনেটকে বন্দী করা সম্ভব। মানে একটি পানি খাওয়া গ্লাসের সমান জায়গাতে সমস্ত ইন্টারনেট সংরক্ষিত থাকবে।

সাধারনত কম্পিউটার বাইনারি ডিজিট নিয়ে কাজ করে। আর ডিএনএ স্টোরেজ টা কাজ করে একটু ভিন্ন ভাবে। ডিএনএ স্টোরেজ এনকোড হয় G, T, C এবং A অক্ষরের উপর ভিত্তি করে। সমস্যা এইটা না। সমস্যা হলো এটা অনেক ব্যয়বহুল এবং ধীর গতি সম্পন্ন (৪০০ বাইট পার সেকেন্ড) । ধারণা করা হয় ২০২৫ সাল এর দিকে মানুষ এই প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারবে সেইসাথে গতিও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

মাইক্রোসফট 13,448,372 সংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন DNA নিয়ে কাজ করছে যার বাজার মূল্য $800,000. সেই সাথে তারা পরিকল্পনা করছে আগামী ৩ বছরের মধ্যে তাদের ক্লাউড স্টোরেজে ডিএনএ ডাটা স্টোরেজ যুক্ত করবে।

যাইহোক, অপেক্ষা করি কবে এটা আমাদের হাতে আসে।

লেখাটি আমার ব্লগে পাওয়া যাবে এখানে

সুত্রঃ

photo: google

Information: BBC, MIT Technology Review, Science Alert, Computer History, The Guardian and google