দশ কাপ কফি
প্লানজার
ক্রাইস্টচার্চ, ১৮-ই নভেম্বর।
সকাল ছ’টা | বাড়ির বাইরে অন্ধকার পাতলা হয়ে আসছে, দক্ষিণ আল্পস পেনসিলের রেখার মতন পশ্চিম দিগন্তে আবছায়ায় জেগে উঠছে । দক্ষিণ গোলার্ধে আমাদের এদিকটায় এখনো গরম পড়েনি, বরং একটা গা-শিরশির করা ঠাণ্ডা টের পাওয়া যায়। জল গরমের কেটলিটায় জল ভর্তি করে চালিয়ে দিই। জল গরম হবার আওয়াজে কাটে সকালের ধ্যানমগ্ন নৈ:শব্দ ।
কফির জার থেকে মেপে চায়ের চামচের চার চামচে গুঁড়ো কফি প্লানজারের(ফ্রেঞ্চ প্রেসের) কাঁচের বিকারটায় ফেললাম, তারপর গরম জল ঢেলে পিস্টনের জলে মধ্যে দিয়ে ঠেলে দিলাম। কফির মন-উদাস করা অরণ্যের আদিম গন্ধ জানিয়ে দিল আরেকটা দিন শুরু হল।
আজকের দিনটা আর চার-পাঁচটা দিনের মতন নয়। আজকে কলকাতা যাবার প্লেন ধরতে হবে। ধূমায়িত কফি হাতে দরজার ধারে এসে দাঁড়ালাম । মন এমনিতেই উড়ুউড়ু, তালুর রন্ধ্র বেয়ে কালো তরলের উষ্ণতা ঘুমের আমেজ কাটিয়ে দিল।
এক কাপ ফ্ল্যাট ওয়াইট
সকাল দশটা। ক্রাইস্টচার্চ এয়ারপোর্টে প্রকাণ্ড কাঁচের দেওয়ালের ধার দিয়ে হাঁটছি। টারম্যাকে দৈত্যাকার আকাশপাখি, একটু পরেই সে আমাদের নিয়ে উড়ে যাবে সমুদ্র পেরিয়ে সিঙ্গাপুরে। দূরে প্রান্তরে প্লেন উঠছে, নামছে। কয়েকটা দিন থাকব না, ভেবে মন খারাপও লাগছে। হেঁটে চলেছি, এমন সময় কফি কালচার কাফের পাশ দিয়ে যেতে যেতে নাকে টাটকা কফির গন্ধের ঝটকা লাগল।
তৃষ্ণা একটি কন্ডিশনড রিফ্লেক্স। টাটকা কফির গন্ধে তেষ্টা পেয়ে গেল। কাফেতে ঢুকলাম। কাউন্টারের ধারে একটা বিশাল বিশাল কাঁচের বাক্স ভর্তি গাঢ় বাদামী কফির বিন। দুতিনজন মহিলা পুরুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে, তাঁদের সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ তাঁদের ফোন আর ল্যাপটপের দিকে। পাশে কফির কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছে।
কাউন্টারের ভদ্রলোকের ঘন নীল মায়াবী চোখ, কবজিতে জটিল মাওরি-প্যাটার্নের উল্কি, মুখের হাসিটি অমলিন । তাঁর কাছে “এক কাপ ফ্ল্যাট ওয়াইট” চাইলাম ।
২০, ০০০ ফুটের পোড়া কফির ঘ্রাণ
উদুপী কাফেতে কাকভোরে একদিন
সিসিডিতে মলের অলস আড্ডায়
বইয়ের খোঁজে অকারণে অ ব প্যাঁ
সতৃষ্ণ বানানা লিফে
ছেড়ে আসা মন খারাপ করা ইনস্ট্যান্ট কফি
সিঙ্গাপুরে কায়াটোস্ট
নামার পরে ভিয়েতনামী
(লেখা চলবে)
