উম্মাহর দুরবস্থা ও প্রতিকার ১৮-০৪-১৫

কোন সমস্যার জন্য ইসলাম কি সমাধান দেয় সেটা খোজার আগে আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের কিছুটা চিন্তা করা উচিত। বিশেষত ইসলাম-কে কোন লেন্স দিয়ে আমরা দেখবো ব্যাপারে সুপস্ট ধারনা থাকা অপরিহার্য। আমাদের বেশকিছুটা আত্মঅনুসন্ধানের প্রয়োজন। আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত শুধু এই সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রেই না, বরং যেকোন ইস্যুতে ইসলাম আমাদের যেই সমাধান ও নির্দেশ দেয় সেটা মেনে নেওয়া এবং পালন করার জন্য আমরা প্রস্তুত কি না। অর্থাৎ আমরা কি “শুনলাম এবং মানলাম” — বলার জন্য নিজেরা প্রস্তুত কি না। এটা হল প্রথম ধাপ।

আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর (সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে) ভিন্নমত পোষণ করার ক্ষমতা নেই । আর যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়। [সূরা আহযাব, ৩৬]

তারপর আমাদের দেখতে হবে ইসলামী অ্যাপ্রোচটা আসলে কি। দেশের সংবিধান কি বলে, গণতন্ত্র কি বলে, সমাজতন্ত্র কি বলে, এই সমাজবিজ্ঞানী কি বলে, ঐ রাস্ট্রবিজ্ঞানী কি লেখে, জাতিসঙ্ঘ,বিশ্বব্যাঙ্ক আর আইএমএফ কি সাজেশান দিচ্ছে — এগুলোর বিন্দুমাত্র মূল্য ইসলামীক অ্যাপ্রোচের ক্ষেত্রে নেই। বরং ইসলামীক অ্যাপ্রোচ হল, প্রথমে কুর’আন এবং হাদীসের মধ্যে এই সমস্যার ব্যাপারে কিছু আছে কি না তার খোজ করা। যদি থাকে তাহলে সেই অনুযায়ী কাজ করার যথাসাধ্য চেস্টা করা। যদি এই দুটো সোর্সে না পাওয়া যায় তাহলে বিষয়ে সাহাবা [রাঃ]গণ এর মধ্যে কোন ভিন্নমত ছাড়া যে ইজমা হয়েছে সেটা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। মুসলিম উম্মাহ-র সমস্যাগুলোর সুস্পষ্ট সমাধানের জন্য এই দুটো ধাপ — অর্থাৎ

১)ইসলাম থেকে যা সুপস্ট ভাবে জানা যায় সেটা বিনাবাক্যব্যয়ে মানা এবং
২)কোন সমস্যার অ্যানালাইসিস এবং সমাধান খোজার সময় ইসলামীক মেথডোলজির প্রয়োগ — অপরিহার্য।
আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এ দুটো ধাপ অনুসরণ করা বেশ কঠিন অথবা বলা যায় আজকের যুগে মুসলিম সমাজে এটা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।

যেমন আমাদের সমাজের মধ্যে কিছু মানুষকে বেশ জোরেশোরে দাবি করতে দেখা যায় ইসলামের বেশ কিছু বিধিবিধান টাইম-স্ট্যাম্প সহ অবতীর্ণ হয়েছিল এবং সেগুলো শুধু বিশেষ একটা সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল। বিশেষ করে শারীয়াহ প্রতিষ্ঠা, পালন এবং জিহাদের ক্ষেত্রে এ ধরণের মন্তব্য বেশী দেখা যায়। এই ধরণের মানুষরা বলে চান, যে জিহাদ এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠা [ইসলাম প্রতিষ্ঠা এবং ইসলাম দিয়ে বিচার করা] সম্পর্কিত যে আয়াতগুলো আল্লাহ আযযা ওয়াজাল কুর’আন শরীফে নাযিল করেছেন এবং হুকুম দিয়েছেন সেগুলো শুধুমাত্র রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সময়কাল এবং ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল- নাউযুবিল্লাহ।

তারা আরো দাবি করেন যে এই জিহাদ [যেন জিহাদ নেগেটিভ একটা কিছু !] হল মুসলিম উম্মাহ-র সমস্যার জন্য দায়ী। এবং আমাদের জন্য সমাধান হল, পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া, তাদের কালচার ফলো করা, “গোঁড়ামি” [তারা কখনো ব্যাখ্যা করেন না গোঁড়ামি বলতে তারা এক্সাক্টলি কি বোঝাচ্ছেন] ত্যাগ করা, ইত্যাদি। মোট কথা তাদের বক্তব্য হল জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতির মাধ্যমে মুসলিমদের কাফিরদের পরাজিত করতে হবে। আর এর স্বপক্ষে তারা যুক্তি হিসেবে দাড় করাতে চান মধ্যযুগের বিখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানীদের, স্পেনে মুসলিমদের প্রযুক্তিগত এবং সাংস্কৃতিক উন্নতি ইত্যাদিকে। সাধারনত যারা আধুনিক সেক্যুলার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পশ্চিমের তৈরি লেন্স দিয়ে ইসলামকে দেখতে এবং বিচার করতে চান তাঁদের মধ্যে এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে দেখা যায়। এই মানুষগুলো এই দুটো ধাপকেই অস্বীকার করছেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যা বলছেন সেটা তারা অগ্রাহ্য করছেন এবং তারা যে সমস্যার সমাধান একমাত্র ইসলামের মাধ্যমে সম্ভব তার সমাধান ইসলামের মধ্যে না খুজে পশ্চিমাদের সৃষ্ট আবর্জনার মধ্যে খুজে মরছেন।

সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন — https://justpaste.it/thetruepromise2