মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল আরাবী ﷺ ৭-৪-১৫

তাঁর চেহারায় সবসময় স্মিতভাব বিরাজ করতো। কোন কিছু তাঁর পছন্দ হলে চেহারা দেখেই বোঝা যেত। কারো চেহারার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন না। দৃষ্টি নিচু রাখতেন এবং আসমানের চেয়ে যামীনের দিকেই তাঁর দৃষ্টি বেশী সময় নিবদ্ধ থাকতো। লজ্জাশীলতা ও আত্মসম্মানবোধ এতো প্রবল ছিল যে, কারো মুখের উপর সরাসরি অপ্রিয় কথা বলতেন না। স্বভাবগত কিম্বা অনিচ্ছাকৃতভাবেও কখন অশালীন কথা বলতেন না। বেশী উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। কারো প্রতি রুষ্ট হলেও ধমক দিয়ে কথা বলতেন না। কারো প্রশংসা করার সময় অতি মাত্রায় প্রশংসা করতেন না। অধিক সময় নীরবতা পালন করতেন। বিনা প্রয়োজনে কথা বলতেন না। অর্থবহ দ্ব্যর্থহীন কথা বলতেন। কারো প্রতি ইশারা করতে হাতের পুরো তালু ব্যবহার করতেন। বিস্ময়ের সময় হাত উল্টাতেন। ক্রুদ্ধ হলে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন, খুশী হলে দৃষ্টি নিচু করতেন। যে ব্যক্তি অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয় কথা বলতো, তাঁর দিক থেকে মুখ সরিয়ে নিতেন। অধিকাংশ সময়ই তিনি মৃদু হাসতেন। মৃদু হাসির সময় দাঁতের কিয়দংশ মুক্তার মতো ঝকমক করতো।

সাথীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতেন, তাঁদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি করতেন না। মন্দের বিনিময়ে ক্ষমার রীতি অবলম্বন করতেন। নিজের জুতো নিজে মেরামত করতেন, নিজের কাপড় নিজে সেলাই করতেন। সব বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতেন। যেকোন অবস্থার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতেন। সত্য ও ন্যায় থেকে দূরে থাকা অপছন্দ করতেন। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দানশীল, সহৃদয়, ক্ষমাশীল ও আন্তরিক। সবচাইতে কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি থাকতেন অটল-অবিচল। বিপদের সম্মুখীন হবার পরও তাঁর দৃঢ়চিত্ততায় এতোটুকু বিচলিত ভাব আসতো না। যুদ্ধে কখনো পিছপা হননি। প্রবল যুদ্ধের সময় সাথীরা তাঁর আড়ালে আশ্রয় নিতো। কখনো আল্লাহ-র দ্বীনের ক্ষেত্রে তিল পরিমাণ ছাড় দেন নি।

তিনটি বিষয় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতেন — ১) অহংকার, ২) কোন জিনিসের বাহুল্য, ৩) অর্থহীন কথা।

আর তিনটি বিষয় থেকে লোকদের নিরাপদ রাখতেন — ১) পরনিন্দা, ২) কাউকে লজ্জা দেওয়া, ৩) অন্যের দোষ প্রকাশ করা।

মানবতার সর্বোচ্চ চূড়ায় সমীসীন, সর্বোত্তম চারিত্রের অধিকারী — তিনিই হলেন খাইরুল বাশার, আল মাহী, আল হাশির, আশ শা’ফী, নাবীউর মারহামা, নাবীউল মালহামা, আল দাহুক আল কাত্তাল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, রাহমাতুল-লীল আল’আমিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল আরাবীﷺ 
[সূত্র — আর রাহীকুল-মাখতুম]

“তোমাদের কেউ ততোক্ষন পর্যন্ত প্রকৃত ঈমানদার হবে না যতোক্ষণ আমি তাঁর কাছে তাঁর নিজের চাইতেও অধিক প্রিয় হবো।“
[সাহীহ বুখারী]

নবী (ﷺ) মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ
[কুর’আন ৩৩ঃ৬]