অভিযোগের সাতকাহন

অভিযোগের অভ্যাস

অভিযোগ করে না এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। আমরা সবাই কম বেশি অভিযোগ করি। সেটা দোষের কিছু না। কিন্তু যখন আমাদের অভিযোগ আমাদের উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করে, আমরা যখন ধীরে ধীরে সবকিছু নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করি তখন এইটা একটা খারাপ অভ্যাসে পরিনত হয়। আমরা আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান খোজার বদলে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে সাময়িক প্রশান্তি খুজি। কিন্তু আমরা কোন কিছু নিয়ে যতই অভিযোগ করি না কেন, যতক্ষন না আমারা আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করছি সেগুলো সমাধান হবে না। বরঞ্চ অবহেলার দরুন একটা সহজ সমস্যা হয়ত জটিল আকার ধারন করতে পারে।

যখন আমরা কোন কিছু নিয়ে অভিযোগ করি, তার প্রাথমিকভাবে দুটো প্রভাব থাকে, একটা স্পাইকোলজিকাল, আরেকটা বাস্তবিক। কোন কিছু নিয়ে অভিযোগ করলে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি সে সমস্যায় আমাদের কোন হাত নেয়। আমরা সেটা সমাধানের জন্য দায়ী না। একি সাথে আমরা মনে করি আমরা সমস্যাটাকে আরো জটিল হতে সহায়তা করি। চলুন দেখে নেয়া যাক অকারনে অভিযোগ করার মানসিকতা আমাদের জন্য কি কি সমস্যার কারণ হয় এবং আমরা কিভাবে এই মানসিকতা এড়াতে পারি।

অভিযোগ করা একধরনের পলায়নপর মানসিকতা

অভিযোগ করা একপ্রকার এডিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। সমস্যা হল, কোন কিছু এডিয়ে গেলেই সেটার সমাধান হয়ে যায় না। অনেক সময় সেটা আরো জটিল আকার ধারণ করে।

আমাদের উচিত কোন সমস্যা হলে সেটার দায় অন্যের উপর না চাপিয়ে এবং এডিয়ে না গিয়ে সমস্যার মোকাবেলা করা।

অভিযোগ না করে একটু ধৈর্য সহকারে যেকোনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলে এই ধরণের পলায়নপর মানসিকতা থেকে দূরে থাকতে পারব।

অভিযোগ করা এক প্রকার শক্তির অপচয় ও বটে। এটা আমাদের মানসিক শক্তির ক্ষয় করে। কিন্তু কোন কিছুর সমাধান খোজার থেকে, অভিযোগ করাটা অনেক সহজ। স্বাভাবিকভাবে তাই আমরা সহজকে বেচে নেয় যদিও তা স্বল্পকালিন।

অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে বরং আমাদের উচিৎ ভুল থেকে কীভাবে ভাল কিছু শেখা যায় এবং নিজ জীবন ও মানসিকতা দুটোকে কীভাবে পরিবর্তন করা যায়। কেননা, সব জায়গা থেকে আমাদের কিছু না কিছু শেখার মত অবশ্যই থাকে।

যখন আমরা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করি তখন চিন্তা করি না যে এর মাত্রা কতটুকু ভয়াবহ! কিঞ্চিৎ পরিমাণ যদি আমরা পজিটিভ কিছু করতে চাই তাহলে প্রথমে আমাদের উচিত অভিযোগের মত বদঅভ্যাস টা প্রথমে পরিবর্তনের চেষ্টা করা।

আমাদের সমাজে সমস্যার কোন অন্ত নেই। সমস্যা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। না থাকাটা আন্যাচারাল। কোন সমস্যার স্বাভাবিক উত্তর হল সেটাকে পরীক্ষা করা। সমস্যার মূলে প্রবেশ করা। কিন্তু বেশীরভাগ সময় এটা বেশ কঠিন এবং আনপ্লিজেন্ট একটা কাজ যা আমরা অনেকেই করতে চাই না।

আমরা কখন এবং কেন অভিযোগ করি?

আমাদের সমাজে সমস্যার কোন অন্ত নেই। সমস্যা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। না থাকাটা আন্যাচারাল। কোন সমস্যার স্বাভাবিক উত্তর হল সেটাকে পরীক্ষা করা। সমস্যার মূলে প্রবেশ করা। কিন্তু বেশীরভাগ সময় এটা বেশ কঠিন এবং আনপ্লিজেন্ট একটা কাজ যা আমরা অনেকেই করতে চাই না। প্রথম যখন আমরা অভিযোগ করি তখন আমরা নিতান্তই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করি যা ধীরে ধীরে এক ধরনের অভ্যাসে পরিনত হয়। ধরুন, আপানার রুমটা পরিস্কার না, আপনি দায় দিলেন আপনার মা অথবা বোনকে। কিন্তু আপনি চাইলেই নিজে রুমটা গুছিয়ে রাখতে পারেন। তারপর এই সমস্যা আরো গভীর হয়। আপনার রেজাল্ট খারাপ হল, শিক্ষক আপনাকে ভাল নাম্বার দেয় নি। আসলে আপনি কম পড়াশোনা করেছেন। এইবার আপনার অভিযোগ সত্যিই আপনার ক্ষতি করতে পারে যদি আপনি ভাল পড়াশোনা না করেন।

অভিযোগ আমরা তখনি করি যখন সবকিছু আমাদের নিজের মত করে হয়না। আমরা ভুলে যাই যে যতটুকু পরিশ্রম আমরা করব ততটুকু ফল আমরা ভোগ করতে পারব। তাই মূল্যহীন অভিযোগ করে নিজের মূল্যবান সময়টুকুকে নষ্ট করা আমাদের কোনভাবেই উচিত না।

অনেক সময় আমরা না বুঝেই একে অপরের অভিযোগ করা শুরু করি কিন্তু এই অভিযোগ এক সময় আমাদের গভির সম্পর্ক টাকে ও নষ্ট করে দেই।

উদাহরণস্বরূপ, আমার এক বন্ধু ছিল যে কিনা সবসময় তার শরীর, পরিবার, স্কুল, রিলেশনশিপস ইত্যাদি নিয়ে সবসময় মনের মধ্যে নেগেটিভ ধারণা পোষণ করত। সবসময় যেহেতু আমি তার সাথে থাকতাম তাই তাকে বুঝানোর চেষ্টা ও করতাম। তারপর ও আমি কখনো তাকে চিয়ার আপ করার করতে দেখিনি। এমন না যে সে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সবসময় নেগেটিভ এটিটিউট এর কারণে জিনিস গুলো আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আমরা অভিযোগ করি কারণ আমরা দ্বায়িত্ব নিতে চাই না

অনেক সময় আমরা অভিযোগ করি কারণ আমরা আমাদের নিজ দায়িত্ব নিতে চাইনা। যেমনটা পরীক্ষার রেজাল্ট এর মত। অনেক সময় আমরা পরীক্ষায় আউটস্ট্যান্ডিং মার্কসের আশা করি। আর যদি ভাল মার্কস না পায় তাহলে বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম কথা বা অভিযোগ করা শুরু করি। তখন আমরা চিন্তা করিনা যে, ভাল মার্কস পাওয়ার জন্য কি পরিমান পরিশ্রম করেছি। না তখন আমাদের নিজেদের দোষটাও অন্যের উপর চাপায় দেই। কারণ আমরা সবসময় আমদের নিজেদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে তা বুঝতে চেষ্টা না করে বরং সেগুলো থেকে দূরে ভাগতে চাই।

অভিযোগ একটি সহজ কাজ বলে আমরা অভিযোগের মাধ্যমে আপাতত নিজেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে চাই। জানি এসব বদঅভ্যাস ও সহজে আমাদের পিছু ছাড়ে না। তাই নিয়মিত কিছু জিনিস মনে রাখলে এই ধরণের খারাপ ম্যানটালিটি থেকে মুক্ত থাকতে পারি যা ভবিষ্যতে আমাদের কঠিন সময় গুলোতে অনেক কাজ দিবে।

চলুন সমাধান খুজি

প্রথমত, আমাদের চিন্তার ধরণটা পরিবর্তন করা। জানি এটা বলার চেয়ে করা কঠিন। আমাদের ব্রেইন তাতক্ষনিক গ্রাটিফিকেশান খোজে। একটা উপায় হচ্ছে মাইন্ডফোল থাকা। যখনই মনে কোন নেগেটিভ চিন্তা আসে তখন উচতি কোন পজিটিভ কিছু চিন্তা করা। যখন কোন কিছুর আর্জ আসে চিন্তা করা। কিছুক্ষন আর্জটাকে দেখা। সেটা আস্তে ধীরে চলে যাবে।

দ্বিতীয়ত, অনেক সময় আমরা কোন কিছুই না জেনে অন্যেকে জাজ করতে থাকি যেটা আসলে ঠিক না। বিভিন্ন জ্ন বিভিন্ন রকমের অবস্থাই থাকতে পারে। তাই অন্যকে জাজ করার আগে আমাদের উচিত তাদের অবস্থার কথা চিন্তা করা।

তৃতীয়ত, আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব গ্রহন করা। যখন কোন কিছু আমাদের শান্তিতে থাকতে দিবে না তখন উচিত সেই জিনিস টা করা অথবা ছুড়ে ফেলে দেওয়া। অভিযোগ একটি নিষ্ক্রিয় কাজ। আমাদের উচিত কমপ্লেইনিং কে কাজের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করা এবং সমস্যার সমাধান করা।

চতুর্থত, কোন জিনিসটা আমাদের সবসময় খুশি রাখে আমাদের উচিৎ সেই গুলো মেইনটেইন করতে চেষ্টা করা। এই ক্ষেত্রে আমাদের নেগেটিভ কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করার সময় ও থাকবে কম যা আবার শরীরের জন্য ও অনেক বেশি লাভ জনক।

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.