
টু ডু লিস্টের কার্যকারিতা
আমাদের এমন ও সময় থাকে যেখানে কাজের মাত্রা বেশি পরিমানে বিদ্যমান কিন্তু আমরা জানি না যে, কীভাবে এই সমস্ত কাজগুলো শেষ করব। এমন সময় হতভম্ব না হয়ে আমাদের উচিত একটি টু ডু লিস্ট তৈরি করা। কাজ অনেক সময় বাতাসে বেলুন ছড়ানোর মত। বেলুন ধরতে গিয়ে অনেক সময় আমরা হারানোর ভয়ে নিজস্ব ট্র্যাক হারিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভুলে যাই।
টু ডু লিস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ টাইম ম্যানেজম্যানট এর মৌলিক পদ্ধতি। এটি আপনার সকল কাজকে এক জায়গাই সমন্বিত করতে সহায়তা করে। এটি আপনাকে সর্বদা একটি ট্রেকে থাকতে সাহায্য করবে। যখন আমরা অনেক বেশি ব্যাস্ত হয়ে যাই তখন অনুভব করি যে, এখনি সব কিছু আমাদের মাথার উপর দিয়ে যাবে। কিন্তু নিয়মিত টাইম ম্যানেজম্যানট করে কাজ করে গেলে আমাদের এইসব সমস্যার কখনো সম্মুখীন হতে হবে না, এবং আপনি ও প্রোডাকটিভ ওয়ে তে আপনার মূল্যবান সময় ব্যাবহার করতে পারবেন।
একটা স্টাডি তে বলা হয়েছে, প্ল্যানিং এর জন্য ব্যয় করা আপনার পনের মিনিট সময় সেভ করে আপনার প্রোডাক্টইভ কাজের এক ঘণ্টা। তাই চলুন দেখে আসি কেন আমাদের টু ডু লিস্ট ব্যাবহার শুরু করা উচিত ।
অর্গানাইজেশন
যেকোন কাজের জন্য আমাদের অরগানাইজ হওয়া টা খুবই জরুরী। টু ডু লিস্ট ব্যাবহার করার অন্যতম কারণের মধ্যে অর্গানাইজেশন একটি গুরুত্ব পূর্ণ কারণ। আপনার সকল কাজকে একটি লিস্টের মাধ্যমে অরগানাইজ ওয়ে তে করা অনেক সময় বেশি ম্যানেজএবল হয়ে উঠে এবং আপনাকে কাজের প্রতি আরও বেশি একনিষ্ঠ করে তুলতে ভুমিকা পালন করে।
আপনি যখন আপনার সম্পূর্ণ এবং অসম্পূর্ণ কাজের আউটলাইনটা দেখবেন তখন এটি আপনাকে অরগানাইজ এবং মেনটালি ফোকাস হতে সহায়তা করবে। অনেক সময় যখন আমরা লিস্টের কাজ একটা একটা করে ক্রস করি তখন নিজের অনেক বেশি প্রোগ্রেস মনে হয় এবং কাজের প্রতি একটা অন্যরকম অনুভূতি চলে আসে যা আপনি টু ডু লিস্ট ব্যাবহার না করে কখনো অনুভব করতে পারবেন না। অনেক সময় একটি টু ডু লিস্টের মাধ্যমে আপনি আপনার জীবনকে ও বদলে ফেলতে পারেন।
আপনি যখন আপনার সম্পূর্ণ এবং অসম্পূর্ণ কাজের আউটলাইনটা দেখবেন তখন এটি আপনাকে অরগানাইজ এবং মেনটালি ফোকাস হতে সহায়তা করবে।
মনে রাখুন আপনার গুরুত্বপূর্ন কাজের লিস্ট
আমরা অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ন কাজ ভুলে যাই। ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিক বিষয় টাকে আপনি যখন আপনার টু ডু লিস্টে পরিণত করবেন তখন আপনি একটি আউটস্ট্যান্ডিং রেজাল্ট পেতে পারেন। যখনই আপনি সব কিছু ভুলে গেছেন বলে মনে হবে তখন এই লিস্ট আপনার সামনে ফোলপ্রূফ হিসেবে কাজ করবে। এই ক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় সব কিছু মনে রাখার দরকার নেই। আপনি যদি আপনার ডেইলি বেইস এ একটা টু ডু লিস্ট তৈরি করেন তখন সব কিছু আপনার কাছে রেকর্ডেড থাকবে।
আমাদের মেমোরির ধরণ হচ্ছে শর্ট টার্ম। এই শর্ট টার্ম মেমোরির কারণে আমরা অনেক বিষয় ভুলে যাই। প্রত্যেক এবারেজ মানুষ তিরিশ সেকেন্ড এ সাতটি তথ্য মনে রাখতে সক্ষম। কিন্তু আপনার যখন সাতটির বেশি তথ্য থাকে এবং সকল তথ্য আপনার মনে রাখা প্রয়োজন তখন টু ডু লিস্ট আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
প্রডাক্টিভিটি
আপনি যদি আপনার ডেইলি কাজ গুলো টু ডু লিস্টের মাধ্যমে রেকর্ড করে রাখেন তাহলে আপনি এই লিস্ট রিভিউ’র মাধ্যমে আপনি আপনার গুরুত্ব পূর্ণ কাজ গুলোকে প্রাধান্য দিতে পারেন।
হারবারড বিজনেস রিভিউ’র একটি স্টাডি তে দেখানো হয়েছে যে, নাইনটি পারসেনট ম্যানেজার পুউর টাইম ম্যানেজমেন্টের কারণে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় টু ডু লিস্ট আপনার এটেনশন কে ফোকাস রাখতে সাহায্য করবে।
অনেক সময় বিভিন্নধরণের ডিসট্রাকশান আমাদের কাজের এটেনশনকে ডাইভারট করে রাখে। আর মেনটালি ডিসট্র্যাক্ট হওয়া মানে কাজের ক্ষেত্রে অকার্যকর হওয়া। কিন্তু একটি টু ডু লিস্ট থাকা মানে আপানার রেস্ট নেওয়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আপনাকে কাজের দিকে আগ্রহী করে তুলা।
মোটিবেশন
অনেক মোটিবেশনাল স্পীকার আছেন যারা মনে করেন টু ডু লিস্ট একটা মোটিবেশনাল পদ্ধতি যার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের লক্ষ্য কে ক্লারিফাই করতে পারেন।
জীবনে সফল হতে চাই এটা বলা অনেক সহজ কিন্তু এই সফল হওয়ার জন্য এর পেছনে ধাপে ধাপে কাজ করাটা অনেক সময় কঠিন। এমন সময় একটি টু ডু লিস্ট আপনাকে সহজেই কাজে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করবে। নিয়মিত কঠিন পরিশ্রমের কারণে আপনি যখন নিজের উন্নতি হতে উপলব্ধি করবেন তখন নিজেকে আরও বেশি আত্নবিশ্বাসী মনে হবে সব ক্ষেত্রে।
