বহুগামিতার নিন্দা বনাম বাকস্বাধীনতার বিরোধিতা
কারো বহুগামিতার কথা যখন পাবলিক হয় তা আর ব্যক্তিগত থাকে না, সামাজিক হয়। নায়িকা মিথিলার বহু জনের সাথে সম্পর্কের আলাপটি এখন আর প্রাইভেসির বিষয় নয়, বরং কৌতূহলোদ্দীপক সামাজিক আলাপ।
আমাদের যাদের যাদের এ রকম সম্পর্কের কথা এখনো গোপন আছে তা প্রাইভেসির বিষয় তা মানা যাচ্ছে। কথা হচ্ছে, অন্যের বহুগামিতার কথা গোপন রাখার দায় আছে কি সমাজের সদস্যদের?
মনে হয় এমন দায় নাই।
অতএব, সামাজিক প্রসঙ্গে মানুষ তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাসের জায়গা থেকে নিন্দা, কুৎসা বা পরচর্চা করবেই। এটা তাদের অধিকার। এই অধিকার আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাপোর্টে তৈরি বাকস্বাধীনতার অধিকার।
রুচিহীন হইতে পারে, বাট অধিকার।
এই অধিকারকে রদ করা মানে বহুগামিতার নিন্দাকারীদের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা।
বাকস্বাধীনতাময় রাষ্ট্রে মানুষকে বহুগামিদের নাম ধইরা তাদের বিপক্ষে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
শুভঙ্করের ফাঁকিটি হচ্ছে, ধর্মীয় বা সামাজিক জায়গা থেকে যারা বহুগামিদের সমালোচনা করছেন তারা সেক্যুলার বাকস্বাধীনতার কারণেই তা করতে পারছেন।
তথাকথিত রুচিহীনদের বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে আপনাদের রুচিগত যে সমালোচনা বা অবস্থান তা বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধেরই অবস্থান।
যে কারণে রাষ্ট্র এই ইস্যুতে আপনাদের পক্ষে থাকার কারণ নাই, বরং আপনি যখন উদারতাবাদী হিসাবে বহুগামিতার পক্ষে থাকবেন তখন রাষ্ট্র এমনকি আপনাকেও কথা বলতে দিবে — এখন যেমন বহুগামিদের বিরুদ্ধে কট্টরপন্থীদেরকে কথা বলতে দেয়।
কথা বলার সুযোগ তৈরি করা মানে সকলেরই কথা বলার সুযোগ তৈরি করা। কেবলই বামে আর নারীবাদীতে আর সেক্যুলারে কথা বলবে কিন্তু হুজুরেরা বলতে পারবে না — তা হয় না, সোনা বন্ধুরা।
সদাপ্রভু বাকস্বাধীনতা তা করিতে আমাদেরে নিষেধ করিয়াছেন।
ঢাকা, বাংলাদেশ ৬/১১/২০১৯
