১০ই মে, ২০১৭ – জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

গত ১০ই মে আমি, রুমানা, ঋদা আর টিটু, আনিকা, হাফসা গিয়েছিলাম সাভার ঘুরে আসতে। ৯ তারিখ রাত ১০:০০ টায় টিটু কল করে বলল – “ভাই কাল জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটি যাব, চিন্তা করছি; যাবি নাকি?” আমি বললাম রুমার সাথে কথা বলে জানাই। রুমাকে বলার আগেই ঠিক করে ফেলেছিলাম যাব। আসলে আমাদের মধ্যে গত বেশ কিছুদিন ধরেই বোঝাপাড়াটা ভাল যাচ্ছিল না, এর মধ্যে আমি একাই সাজেক ঘুরে এসেছি বন্ধুদের সাথে। আবার এদিকে অনেকদিন রুমাকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। তো বুঝতেই পারছিলাম এই ঘুরতে যাওয়াটা বেশ হবে। তো যা ভেবেছিলাম রুমানাও এককথায় রাজী হয়ে গেল। আমি ১১:০০ টায় টিটুকে জানালাম যাব। ঠিক হল সকাল ১০:০০ টায় রওনা দিব।

পরদিন সকালে রওনা হওয়ার আগে টুকটাক কেনাকাটা সারলাম, সহযাত্রীদের অপেক্ষায় থেকে। এরপর সাভারগামী ঠিকানা পরিবহণে চেপে বসলাম।

পরবর্তী ৪৫ – ৫০ মিনিটির মধ্যেই পৌছে গেলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

পরে ক্যাফেটেরিয়ার এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ছিলাম। ছবি তুললাম সবাই মিলে।

এর পিছনের দিকে দেখলাম এটা পুকুর পদ্মফুলে ভরা। পুকুরের চারপাশের গাছগুলিও কাঁঠালে ভরা।

এই অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতেই ডাব খেলাম। তখন ছিল প্রচন্ড গরম। গরমের মধ্য ডাবের পানি অমৃত লেগেছে!

এরপর ভার্সিটির শহীদমিনারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম অনেক বড় এক গুইসাপ। এত বড় গুই আমি শেষবার দেখেছি নোয়াখালিতে। বয়সের কারনে দৌড়ে পারলাম না ওটার সাথে; ছবিটাও ঘোলাটে তাই।

হেঁটে এগিয়ে যেতেই দেখলাম বড় ডালপালা ছাড়ানো এক গাছের নিচে বসে পোলাপান আড্ডা দিচ্ছে। আমরাও সেখানে দাড়িঁয়ে ছবি তুলে ফেল্লাম।

শহীদমিনারে আমরা এবং ছবি উত্তোলনকারী আনিকা।

এবং আমরা দুই ভাই

এরপর একটা ভ্যান ভাড়া করলাম ১ ঘন্টার জন্য। ২০০৳। আমাদের ৫.৫ জনকে পৌনে ২টা পর্যন্ত ঘুরাতে হবে।

কেন পৌনে ২টা এটা শুধু আনিকাই জানে!?

ভ্রমন পথে কিছু জায়গা থেমে আমরা ছবি তুললাম। আসলে যায়গাগুলি এত সুন্দর, যে ছবি তোলার কথা মাথায় আসে না। অনেক যায়গায় ছবিও তোলা হয়নি।

…এরপর দুপুরের খাবার পর্ব সারলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পাশে বেশ কিছু ভাত খাবার রেস্টুরেন্ট পেলাম। যায়গাটা বটতলা বা বট বলেই ছাত্রদের কাছে পরিচিত।

খাবার ব্যাপক সুস্বাদু, রকমারিও বটে

যাক, তারপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেষ্টরুমে গিয়ে সবাই মিলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করলাম। প্রায় ৩০-৪০ মিনিটির মত ছিলাম ওখানে।

অবশেষে হল থেকে বের হয়ে অন্য আরেকটা ভ্যানে করে চলে এলাম ভার্সিটি গেট।

এরপর রওনা হয়েছিলাম জাতীয় স্মৃতিসৌধ, নবীনগর, সাভার।