১০ই মে, ২০১৭ – স্মৃতিসৌধ, নবীনগর, সাভার

সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরেফিরে নিয়ে রওনা হয়ে ছিলাম স্মৃতিসৌধ দেখব বলে। দুপুরের খাবারটা আগেই সেরে নিয়েছি বটতলায়।

ভার্সিটিগেটে ফিরে আসার পথে ভ্যানে তোলা।

ভার্সিটিগেটে আসতেই ঠিকানা পরিবহণের আরেকটা বাস চলে এল … হুড়োহুড়ি করেই একরকম চেপে বসে রওনা হয়েছিলাম স্মৃতিসৌধের পথে। এর আগে দুইবার গিয়েছি স্মৃতিসৌধে, যতদূর মনে করতে পারি। দেখলাম টিটু বেশ ভাল করেই যায়গাটা চেনে।

দু:খিত, দাড়িয়ে আসতে হয়েছে বলে কোন ছবি তুলতে পরিনি।

গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়লো মহান স্মৃতিসৌধ। এই সৌধটি তৈরী করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের নাম না জানা শহীদদের অবদান স্মরণে রাখতে।

পরিবার নিয়ে কিছু ছবি তোলা হল আমার। আর বরাবরই আমার সাদাকালো ছবি দেখতে বা তুলতে পছন্দ।

কিছুক্ষণ বেদীর কাছে বসে বিশ্রাম নিলাম “খই-ভাজ” টাইপ ছবি তুললাম।

যারা ওখানে গিয়েছেন তারা জানেন খুবই সুন্দর পরিবেশ ওখানে। পাশেই সুবিস্তৃত উদ্যান। চারিদিকে বিস্তৃত গাছ-গাছালি।

আমি আর ঋদা ওদের রেখে কাছেই হেঁটে এলাম।


বিকাল ৫টার মত বাজে তখন। উঠে পড়লাম স্মৃতিসৌধ হতে। রওনা হলাম CRP – র উদ্দেশে, কারণ ওখানেই এই এলাকার PizzaHut। স্মৃতিসৌধ হতে বের হয়ে রাস্তা পার হয়েই একটা বাসে উঠে পড়লাম, আর করে বসলাম আমার এই মাসের শ্রেষ্ঠ ভুল। বাসে উঠে বসার আগেই ড্রাইভার চালানো শুরু করতেই আমি ভারসাম্য হারিয়ে ফেল্লাম। ঋদা তখন আমার কোলে। ওকে নিয়েই পড়ে গেলাম ৫-৬ হাত দূর! আল্লাহর কাছে শোকর, ওকে আমার বুকের উপর নিয়ে পড়েছিলাম। আঘাত পায়নি। অবশ্য আমার পিঠে সিটের হ্যান্ডেলের ঘষাটা যুৎসই হয়েছিল।

দম আটকে গিয়েছিল আমার, ব্যাথায়। পরে অবশ্য PizzaHut – এ গিয়ে ওদের কাছ থেকে বরফ নিয়ে ম্যাসেজ করলাম বেশ অনেক্ষণ। ধীরে ধীরে ব্যাথা কমে এল।

ঋদার সাথে দুষ্টামী করে ওর ভয় কাটালো আনিকা। প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছিল। ২টা Pizza, Garlic breads, Chicken Wings, Soft drinks খেলাম।

(ছবি: আনিকা)

খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নিলাম অনেক্ষণ। ব্যাথাটা কমে আসলে, রওনা হলাম বাসার উদ্দেশ্যে। আবারও সেই ঠিকানা পরিবহণ। অবশ্য আসার পথে বাস খালিই ছিল। আরাম করে বসে এসে নেমে গেলাম সোবহানবাগ।

এই হচ্ছে বর্তমানে আমার পিঠের অবস্থা।

ধন্যবাদ।