ঈগল জাগছে!

Image for post
Image for post
ঈগল নেবুলা, ছবিটি নভেম্বর, ২০০৪-এ নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে তোলা।

পেডেস্টালের ওপর দাম্ভিকের মত দাঁড়িয়ে দানবীয় ঈগল, বিশাল ডানাগুলো মেলে উড়তে যাচ্ছে বুঝি…

ঈগল জেগেছে!

The eagle has risen!

ডানা-যুক্ত রুপকথার কাল্পনিক প্রাণীর মত পেডেস্টাল থেকে ঊড্ডয়োন্মুখ বস্তুটি আর কিছুই নয় — শীতল গ্যাসপুঞ্জ আর ধূলিকণার ম্যাসিভ ক্লাউড। নক্ষত্রের নার্সারী হিসেবে পরিচিত ঈগল নেবুলার কেন্দ্রীয় অংশ ছবির দাম্ভিক গ্যাস দানবটি।

দানবীয় টাওয়ারটির উচ্চতা ৯.৫ আলোক বর্ষ, বা ৯০ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার। আমাদের হোম-স্টার সূর্য হতে সবচাইতে নিকটবর্তী নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টরাই-এর দূরত্বও ঈগল টাওয়ারের দৈর্ঘ্যের অর্ধেক।

ধূলিকণা, হিমশীতল হাইড্রোজেন, হিলিয়াম এবং অন্যান্য আয়োনাইজড গ্যাসের সুবিশাল মেঘপুঞ্জ — এর বৈজ্ঞানিক নাম নেবুলা। নেবুলাকে বলা হয় নক্ষত্রদের নার্সারী

গ্র্যাভিটি (অভিকর্ষ) বলের প্রভাবে নেবুলার গ্যাস ও ডাস্ট পার্টিকল এবং অন্যান্য ম্যাটেরিয়াল একত্রে জোটবদ্ধ হয়ে ভরবিশিষ্ট ম্যাস তৈরী করে। ক্রমে এই নবগঠিত ম্যাসটি চারপাশ হতে আরো পদার্থ (গ্যাস, ডাস্ট) আকর্ষণ করে নিজের বুকে টেনে নিতে থাকে। চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে ম্যাসটির ঘনত্ব এবং আয়তন। অন্তহীন কালের চাদরে গ্র্যাভিটি নিজের হাতে এভাবে গড়ে তোলে…

Saturne éclipsant le soleil

ক্যাসিনী-হয়গেনস মিশনের অংশ হিসাবে ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর নীচের অসাধারণ ছবিটি তুলেছিলো নাসার Cassini স্পেসক্রাফটঃ

Image for post
Image for post

চমৎকার ইমেজটি দেখে মনে হতেই পারে কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা (বা কম্পিউটার গ্রাফিক্সের) স্যাটার্ণ (শনি) এবং তার রিং/বলয়ের চিত্র।

না, এটি মানুষের আঁকার কোনো ছবি নয়, সত্যিকারের রিয়েল ফটোই!

ক্যাসিনী-হয়গেনস স্পেসক্রাফটের ওয়াইড-এ্যাংগল ক্যামেরাগুলো অনবরত ৩ ঘন্টা যাবৎ অসংখ্য ফটো তুলেছিলো এই অসাধারণ ইভেন্টের। ক্যাসিনির তোলা ১৬৫টি ইনফ্রা-রেড, আল্ট্রা-ভায়োলেট এবং ক্লিয়ার ফিলটার ইমেজগুলো একত্রে লেয়ারিং এবং কালার-এ্যাডযাস্ট করে নাসার বিজ্ঞানীরা তৈরী করেছেন ওপরের কম্পোজিট ছবিটি। তার ওপর এখানে কেবলমাত্র একটি ইমেজ-ও না, বরং ছবিটি আসলে ৩ X ৩ = ৯টি ওয়াইড-এ্যাংগল ক্যামেরা ম্যাটৃক্সের স্টিচিং করা মোযেইক।

ছবিটির সাবজেক্ট: স্যাটার্ণ এক্লিপ্স, “শনি গ্রহণ”। সূর্য্যকে প্রায় পুরোপুরিভাবে গ্রাস করে নিয়েছে শনি গ্রহটি। শুধু নীচে বাঁদিকের ছোট্ট করোনা দেখে বোঝা যাচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ডে সূর্য্যের অস্তিত্ব। গ্রহ এবং নক্ষত্রের এই অভূতপূর্ব অবস্থানের কারণে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে শনির বলয়। বিক্ষিপ্ত সূর্য্য রশ্মির কারণে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে স্যাটার্ণের A,B,C,D,E, F এবং G রিং-গুলো। আবছাভাবে দেখা যাচ্ছে Janu, Palin এবং অন্যান্য…

They’re made out of meat

“ওরা মাংস দিয়ে তৈরী।”

মাংস?”

“মাংস, এ্যামিনো এ্যাসিড। ওরা পুরোটাই মাংস।”

“মাংস!!!”

“কোনো সন্দেহ নেই। গ্রহটার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেকগুলো স্যাম্পল সংগ্রহ করে এনেছিলাম, মাদারশীপে নিয়ে গিয়ে সবগুলোকে ডীপ স্ক্যান করেছি — ওরা পুরোপুরি মাংস দিয়ে তৈরী!”

“অসম্ভব! হতেই পারে না! তাহলে রেডিও ওয়েভগুলো কোথা থেকে এলো? আর দূর তারায় যে সিগনালগুলো আমরা ইন্টারসেপ্ট করেছিলাম সেগুলোরই বা কি ব্যাখ্যা?”

“ওরা রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে কথা বলে। তবে ওই সিগনালগুলো ওদের থেকে আসে নি, ওগুলো এসেছে মেশিন থেকে।”

“তো সেই মেশিন বানিয়েছে কে? আমরা তো তাদের সাথেই কন্ট্যাক্ট করতে এতো দূর পাড়ি দিয়ে এলাম।”

“ওরাই বানিয়েছে মেশিনগুলো। এতক্ষণ ধরে তো এটাই বোঝাতে চেষ্টা করছি। মাংস… বানিয়েছে… মেশিন!” …

About

invarBrass

I, geek.

Get the Medium app

A button that says 'Download on the App Store', and if clicked it will lead you to the iOS App store
A button that says 'Get it on, Google Play', and if clicked it will lead you to the Google Play store