ইন দ্যা শ্যাডো অব স্যাটার্ণ

Saturne éclipsant le soleil


ক্যাসিনী-হয়গেনস মিশনের অংশ হিসাবে ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর নীচের অসাধারণ ছবিটি তুলেছিলো নাসার Cassini স্পেসক্রাফটঃ

চমৎকার ইমেজটি দেখে মনে হতেই পারে কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা (বা কম্পিউটার গ্রাফিক্সের) স্যাটার্ণ (শনি) এবং তার রিং/বলয়ের চিত্র।

না, এটি মানুষের আঁকার কোনো ছবি নয়, সত্যিকারের রিয়েল ফটোই!

ক্যাসিনী-হয়গেনস স্পেসক্রাফটের ওয়াইড-এ্যাংগল ক্যামেরাগুলো অনবরত ৩ ঘন্টা যাবৎ অসংখ্য ফটো তুলেছিলো এই অসাধারণ ইভেন্টের। ক্যাসিনির তোলা ১৬৫টি ইনফ্রা-রেড, আল্ট্রা-ভায়োলেট এবং ক্লিয়ার ফিলটার ইমেজগুলো একত্রে লেয়ারিং এবং কালার-এ্যাডযাস্ট করে নাসার বিজ্ঞানীরা তৈরী করেছেন ওপরের কম্পোজিট ছবিটি। তার ওপর এখানে কেবলমাত্র একটি ইমেজ-ও না, বরং ছবিটি আসলে ৩ X ৩ = ৯টি ওয়াইড-এ্যাংগল ক্যামেরা ম্যাটৃক্সের স্টিচিং করা মোযেইক।

ছবিটির সাবজেক্ট: স্যাটার্ণ এক্লিপ্স, “শনি গ্রহণ”। সূর্য্যকে প্রায় পুরোপুরিভাবে গ্রাস করে নিয়েছে শনি গ্রহটি। শুধু নীচে বাঁদিকের ছোট্ট করোনা দেখে বোঝা যাচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ডে সূর্য্যের অস্তিত্ব। গ্রহ এবং নক্ষত্রের এই অভূতপূর্ব অবস্থানের কারণে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে শনির বলয়। বিক্ষিপ্ত সূর্য্য রশ্মির কারণে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে স্যাটার্ণের A,B,C,D,E, F এবং G রিং-গুলো। আবছাভাবে দেখা যাচ্ছে Janu, Palin এবং অন্যান্য রিংসমূহ।

তবে ছবিটিতে কেবলই শনি আর সূর্য্যের লুকোচুরি না, আরো একজন অতিথিও উঁকি ঝুঁকি মারছে…. ১ লক্ষ কিলোমিটার স্কেলের এই ইমেজটিতে তাকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না, তাকে দেখার জন্য কমপক্ষে 5X (500%) ম্যাগনিফিকেশন দরকার হবে…

ইমেজটির টপ-লেফ্ট কর্ণারের যুম-আপ…

শনির কৃষ্ণ ছায়ায় একটি মলিন বিন্দু — In the shadow of Saturn: the pale blue dot.

ক্যাসিনী-র সাপেক্ষে গ্রহ-নক্ষত্রগুলোর অভূতপূর্ব অবস্থানের কারণে কালচে নীল মার্বলটিকে দেখে মনে হচ্ছে বুঝি শনির বহির্বলয়েরই একটি অংশ…

ছবিগুলো তোলার সময় Cassini ক্রাফ্ট সোয়া দুই মিলিয়ন কি.মি দূরত্বে ছিলো।

ফটোর অন্যান্য ডিটেলস পাবেন নাসার ক্যাসিনি-হয়গেনস মিশনের “সাইক্লপস” (CICLOPS) সাইটে।

ছবিটির আরো বড় রেজুলুশন এখানে