ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিটস

( দুই দিনের রাজশাহী ভ্রমণ )

রাজশাহী ভ্রমনের একমাত্র কিউট ছবি। স্থান-রাবি। Courtesy by Shohag

আমি ও আমার বন্ধু জুবায়ের একটা প্রাইভেট ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রির আইটি তে জব করি। আমরা দুইজনই রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর একই ব্যাচের ছাত্র। পড়ালেখার সুবাদে আমরা অনেকটা সময় রাজশাহী তে কাটিয়েছি, আর আপনি যদি কখনো রাজশাহী যেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই জানেন রাজশাহী বাংলাদেশের শিক্ষা নগরী & অন্যতম গ্রীন এন্ড ফ্রেশ সিটি। সেখানে কোনো যানজট নেই, ধুলোবালির প্রভাব খুবই নগন্য, মানুষগুলোও খুব ফ্রেন্ডলি এন্ড ইন্টারেস্টিং। আর খাবার সেতো বলার অপেক্ষায় রাখে না, সাথে পদ্মার অসাধারণ মায়াবী রূপ, স্বচ্ছ জলধারা, বিকেলের ফ্রেশ বাতাস, পদ্মার বুকচিরে জেগে উঠা চরে দুরন্ত ছুটোছুটি । সবকিছু মিলিয়ে আমার প্রাণের শহর রাজশাহী। আমরা অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম পুনরায় রাজশাহীর এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে যাবো। সেই উপলক্ষে ১৬ অক্টোবর রাজশাহী গামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের দুইটা টিকেট বুক করলাম। শুরু হলো ভালোবাসার টানে প্রাণের শহরে ফিরে যাওয়া ………………..

Journey Begins:

১৬ তারিখ অফিস থেকে ফিরে ব্যাগ গুছালাম, রাত ১০ টার দিকে রুম থেকে বের হলাম ট্রেন ১১টা ৪২মিনিটে। রাস্তায় নেমে বুঝতে পারলাম ঢাকার অসহ্য যানজটে আটকা পড়েছি, অনেক অস্থিরতার পর ২০ মিনিটের পথ অবশেষে ১১টা ১১মিনিটে এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে পৌছালাম। দ্রুত অনলাইন কাউন্টার থেকে আমাদের বুক করা টিকেট এর প্রিন্টেড কপি নিলাম। অতঃপর ফ্রেশ হলাম এবং ট্রেনে খাবার জন্য হালকা কিছু স্ন্যাক্স কিনলাম তখনও আমার মানিব্যাগ পকেটেই ছিল। সঠিক সময়েই ট্রেন এসে উপস্থিত হলো। আমরাও ট্রেনে উঠলাম বাট পকেটে মানিব্যাগ নাই। অসাধারণ দক্ষতায় কেউ সেটা নিজের করে নিয়েছে। মোটের উপর যা হারালাম তা হলো — ট্রেন টিকেট, ১৬০ টাকা, NID কার্ডের ফটোকপি, ED স্যারের ভিজিটিং কার্ড ও আর কয়েকটা কাগজ। আপনি হয়ত ভাবছেন মাত্র ১৬০ টাকা, হ্যাঁ আমি পূর্বেই টাকা অন্য পকেটে সরিয়ে রেখেছিলাম। শুধু খুচরা টাকা গুলো মানিব্যাগে ছিল। আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্যই করেন। আলহামদুলিল্লাহ।

Rajshahi:

আমের শহর রাজশাহির আম চত্তর এর ছবি । সোর্স — ডিসি অফিস
রাজশাহী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের (উত্তরবঙ্গের) একটি শহর। রাজশাহী বাংলাদেশের অনত্যম একটি শহর। এটি রাজশাহী বিভাগ এর রাজশাহী জেলার অন্তর্গত। রাজশাহী শহর বিখ্যাত পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় শহর। রাজশাহী শহরের নিকটে প্রাচীন বাংলার বেশ কয়েকটি রাজধানী শহর অবস্থিত। এদের মাঝে লক্ষণৌতি বা লক্ষনাবতি, পুন্ড্র ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। রাজশাহী তার আকর্ষণীয় রেশমীবস্ত্র (Silk), আম, লিচু এবং মিস্টান্নসামগ্রীর জন্য প্রসিদ্ধ। রেশমীবস্ত্রের কারনে রাজশাহীকে রেশমনগরী (Silk City)নামে ডাকা হয়। রাজশাহী শহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের অনেকগুলির খ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। নামকরা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য রাজশাহী শহর শিক্ষানগরী নামেও পরিচিত। রাজশাহী শহরে এবং এর আশেপাশে বেশ কিছু বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয় তথা ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে।
source — Wikipedia

Day One:

সকাল ০৬ টাই রাজশাহীতে নামলাম রিকশা নিয়ে স্টেশন থেকে শালবাগান মোড়ে জুবায়েরের সাবেক ব্যাচেলর হোমে গিয়ে উঠলাম। পরিচিত ছোট ভাইদের আগেই বলে রেখেছিলাম তাই তারা আমাদের জন্য বিছানা রেডি করে রেখেছিলো। আমরা হালকা ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে ০৯টার দিকে জাগলাম। অতঃপর নাস্তা করে ফরমাল ড্রেসে ইনস্টিটিউটে গেলাম সার্টিফিকেট উঠানোর জন্য। আমাদের আরেক বন্ধু হিরেন রাজশাহীতেই থাকে, সে আমাদের সাথে যোগ হলো। কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ। ডিপার্টমেন্টের স্যারদের সাথে কথা-বার্তা (উইথ চা) শেষে শালবাগানের রুমে ফেরত গেলাম। দুপুরে লাঞ্চ সেরে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে গেলাম সেখান থেকে হিরেনের পদ্মা পাড়ের রুমে গিয়ে জুবায়ের ঘুমিয়ে পড়লো। বিকেলে পদ্মার বিস্তীর্ণ জলরাশির মাঝে নৌকা নিয়ে ঘুরলাম। সন্ধ্যায় আমি জুবায়ের, হিরেন, দিপু ও সবুজ পদ্মা পাড়ের হিমেল হাওয়ায় গা এলিয়ে বসে থাকলাম অনেকটা সময়। রাত ০৯ টা নাগাদ চা খেয়ে আজকের মতো পদ্মা কে বিদায় জানালাম।হিরেনের রুমে ডিনার সেরে আমাদের আরেক বন্ধু জুবায়েরের স্কুল ফ্রেন্ড সোহাগ এর কাছে রাত্রিবাস করতে রুয়েট গেলাম।সোহাগ রুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ফোর্থ ইয়ারের ছাত্র।

Rajshahi University of Engineering & Technology (RUET):

রুয়েট মেইন গেট এর বর্তমান চেহারা ।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি: Rajshahi University of Engineering and Technology; সংক্ষেপেঃ রুয়েট) বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং উত্তরাঞ্চলের একমাত্র প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
রুয়েট ক্যাম্পাস রাজশাহী শহর থেকে ৩ কি.মি. পূর্বে বহমান পদ্মার তীর ঘেষে অবস্থিত। তার পূর্বেই রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রুয়েট ক্যাম্পাসের আয়তন ১৫২ একর। এতে ডিপার্টমেন্ট ভবন, ল্যাবেরেটরি, ওয়ার্কশপ, লাইব্রেরী, জিমনেশিয়াম, কেন্দ্রীয় সাধারণ কক্ষ, ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা অবস্থিত। রুয়েট গেট থেকে পাঁচ কিমি পশ্চিমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কাঁটাখালী নর্দার্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েটে বর্তমানে ৪ টি পূর্নাঙ্গ অনুষদের অধীনে মোট ১৮ টি ডিগ্রী প্রদানকারী বিভাগ আছে।
Source — Wikipedia

সোহাগের রুমে আতিথিঃ

সবুজের ছায়া ঘেরা রুয়েট ক্যাম্পাস। রুয়েটে ৬ টি ছাত্রদের ও একটি ছাত্রিদের হল রয়েছে। শহীদ লেঃ সেলিম হলে সোহাগ থাকে। আমরা সেখানে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি এই সময় সোহাগের রুমমেটের অসাধারণ স্টাইলে জ্ঞানর্জন দেখে বিমোহিত হলাম। কারণ সে একই সাথে মিউজিক শুনছে, গিটার বাজাচ্ছে আর ইঞ্জিনিয়ারিং এর কঠিন একটা সাবজেক্ট পড়তেছে। আমরা পুরাই অবাক। হাউ ইটস পসিবল

Day Two:

সকালে সোহাগের ক্লাস টেস্ট ছিল তাই সে ক্লাসে চলে গেছে আমরা ০৮ টার পরে ঘুম থেকে উঠলাম। গোসল করে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে ট্রেনের ফিরতি টিকেট কাটলাম, রেলগেট বিন্দু হোটেলে নাস্তা করে দুইটা ইয়া বড়ো সাইজের আনারস কিনে সোহাগের রুমে ফেরত গেলাম। আনারস পার্টি শেষে ১২ টার দিকে আমরা রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ঘুরতে বের হলাম।

Rajshahi University:

Rajshahi University
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি: University of Rajshahi) বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার৷ বিশ্ববিদ্যালয় টি ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে রাজশাহী শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত৷ প্রায় ৩০৪ হেক্টর (৭৫৩ একর) জুড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৫টি উচ্চতর গবেষণা ইন্সটিটিউট, ৯টি অনুষদের অধীনে ৫৬টি বিভাগে বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম৷ ক্যাম্পাসের উত্তর পুর্ব দিক জুড়ে রয়েছে ১১টি ছাত্রহল ৷ ৬টি ছাত্রীহল ক্যাম্পাসের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত৷ পূর্ব দিকে গবেষকদের জন্য রয়েছে একটি ডরমিটরি। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে রয়েছে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক এলাকা৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা এদেশের সর্বপ্রথম স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর৷ রয়েছে সাবাস বাংলাদেশ নামে একটি ভাষ্কর্য৷ আর রয়েছে গোল্ডেন জুবিলি টাওয়ার৷
source — Wikipedia

রাবি তে কোনো একটা ডিপার্টমেন্ট এর RAG DAY চলছিল। তারা রাস্তায় রাস্তায় খুব আনন্দ করছিলো আমরাও আনন্দ করছিলাম। ৭৫৩ একর এলাকা নিয়ে গঠিত রাবির একাংশ ঘুরতেই ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। রুয়েটের পাশের এক হোটেলে দুপুরের লাঞ্চ করলাম এবং বিল দিতে গিয়ে পুরাই অবাক হলাম। তিন জনের লাঞ্চ বিল টোটাল ৭০ টাকা মাত্র। খাবারের আইটেম ছিল। সাদা ভাত, মাছের মুড়িঘন্ট, মাছের ভর্তা ও ডাউল। দাম অনেক কম হলেও খাবারের মান অনেক ভালো।

আবার পদ্মা ঃ

লাঞ্চ এর পর ইলেকট্রিসিটি ছিলোনা বাট আমরা দেদারসে ঘুমাচ্ছিলাম। বিকেল ০৪ টার পর ঘুম থেকে উঠে আবারো পদ্মা নদীর টানে পদ্মা পাড়ে ছুটে গেলাম। সন্ধ্যা বেলায় পদ্মার মাঝে জেগে উঠা চরের হালকা নরম মাটিতে হেটে বেড়ালাম আর বুক ভোরে বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ করলাম। সেখানে আমাদের মতো অনেক মানুষ এসেছেন পদ্মার সুখ উপভোগ করতে। কিছু তরুণ-তরুণী খুব আনন্দের সাথে কাঁদার মাঝে হেটে বেড়াচ্ছে। একটা মেয়ে শখ করে কাঁদায় নেমেছে বাট উঠতে পারছেনা। নদী পাড়ের এক যুবক তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে উঠতে সাহায্য করলো। সন্ধ্যার পরে পদ্মা গার্ডেন এলাকায় হিরেন আমাদের সাথে যোগ দিলো। আমাদের আরেক বন্ধু মোস্তফা ও তার বউয়ের সাথে দেখা হল। তাদের সাথে কিছু সময় কাটিয়ে রাজশাহীর বিখ্যাত বাটার মোড়ের জিলাপি খেলাম, সাহেব বাজারের মরিচ চার স্বাদ নিলাম। দুপুরের সেই হোটেলে এসে পুনরায় ডিনার করলাম। এবার আইটেম ছিল — মাছের ভর্তা, সবজি এবং মাছ ও ডাউল। তিন জনের ডিনার বিল ৯০ টাকা মাত্র। সেখান থেকে সেলিম হলে ফিরে এসে বাংলাদেশ বনাম সাউথ আফ্রিকার খেলা দেখলাম।

Back to the Pavilion:

রাত ১০ তার পরে স্টেশনের উদ্দেশে হল ত্যাগ করলাম। বিদায় বেলায় সোহাগ ও তার রুম মেটরা আমাদের কে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিল।সোহাগ ও তার রুম মেটরা সবাই অনেক ফ্রেন্ডলি ছিল। তাদের সাথে সময় কাটাতে অনেক ভাল লাগছিল। এখন লিখতে বসে সোহাগ, তার রুমমেট ও রুয়েট ক্যাম্পাস কে অনেক মিস করছি। They are all good guys. ভাল থেকো বন্ধুরা।

কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ১০ মিনিট লেটে রাত ১১ টা ৩০ মিনিটে যান্ত্রিক নগরী ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেন রওনা হলো। মনের মাঝে প্রিয় শহরের স্মৃতি গুলো মনে করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল ৫ টাই এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে বৃষ্টির মুখোমুখি হলাম। অতঃপর বাস ও রিকশা যোগে কর্মস্থলে ফিরে এলাম ৬ টা নাগাদ। এসেই আবার ঘুম।

পাদ্মার চরে আমরা সোহাগ, আমি ও জুবায়ের, ছবি — সোহাগের মোবাইল
পাদ্মার চরে সোহাগ ও জুবায়ের, ছবি — সোহাগের মোবাইল
রাবি তে আমরা, ছবি- সোহাগের মোবাইল

Thanks for reading. Give us a thumbs up and inspired us to write more about our glorious moment.

দায় মুক্তিঃ প্রথম বারের মত ভ্রমণ কাহিনী লিখলাম, বিজ্ঞজনেরা ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

Happy Reading.

Like what you read? Give Jamal Uddin a round of applause.

From a quick cheer to a standing ovation, clap to show how much you enjoyed this story.