তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বিশাল আকৃতির গাড়ি৷ ১৩৮ চাকা তার৷ দিনেরবেলায় রাস্তা বের করার অনেক ঝক্কি৷ সন্ধ্যে গড়ালে রাস্তাঘাট যখন শুনশান, তখন রাস্তায় বের করা হয়৷ ভোরের আলো ফোটার আগেই থামিয়ে দেওয়া হয় তার চলাচল৷ রবিবার ভোরেই এমন নজিরবিহীন বিশালাকার ট্রাকটি এসে পৌঁছেছে বাঁকুড়া শহরে৷

ব্যস্ততম সড়ক পথগুলিতে দিনের বেলায় বিশালাকার এই গাড়িটি যাতায়াতের ফলে যানযটের সৃষ্টি হবে। সেই কারণেই রাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই গাড়িটি৷ আর সেই সুযোগে দিনের সময়টুকু বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন ওই গাড়ির চালক-সহ অন্যান্য কর্মীরা।

এভাবেই পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া বন্দর থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করে ৪১ দিনের মাথায় রবিবার ভোরে এসে পৌঁছল বাঁকুড়া শহরে৷ শহর সংলগ্ন ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের এক্তেশ্বরের কাছে একটি বেসরকারি সংস্থার পেট্রোল পাম্প রয়েছে। আর সেখানেই এক দিনের অতিথি এই ১৩৮ চাকার বিশালাকার গাড়িটি৷ এদিকে এই গাড়ি দেখতে ভিড় করছেন আট থেকে আশি সকলেই।

অতি উৎসাহী হয়ে অনেকেই এই গাড়ির সামনে মোবাইল ক্যামেরায় ‘সেলফি’ তুলতে ব্যস্ত। যা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে স্থানীয় পুলিশকে। সূত্রের খবর, বিদেশে নির্মিত অক্সিজেন তৈরির মেশিন বহনকারী এই গাড়ির গন্তব্য বাঁকুড়ার শিল্প শহর বড়জোড়া। কয়েক মাস আগেই জল পথে বিদেশ থেকে এসে পৌঁছে ছিল হলদিয়ায়।

তারপর ৪১ দিন আগে সড়ক পথ ধরে যাত্রা শুরু বড়জোড়ার উদ্দেশ্যে। অবশেষে ১৩৮ চাকার বিশালাকার ওই গাড়িটি বাঁকুড়া শহরে এসে পৌঁছতেই অঘোষিত মেলার চেহারা নেয় ওই এলাকা। ভিড় সামলাতে হিমশিম অবস্থা পুলিশের। বাধ্য হয়ে এলাকার রাস্তায় ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ড ঝোলাতে হয়েছে পুলিশকে।

এলাকাবাসী রাধামাধব দাস, সানিয়া খাতুন, ধনঞ্জয় লোহার জীবনে এই প্রথম বার ১৩৮ চাকার ট্রলার দেখলেন৷ তাঁরা বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গাড়ির ছবি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এতদিন ছবিতে দেখছিলাম৷ আজ নিজের চোখে দেখলাম৷ ভালো লাগছে।’’ মানুষেরই তৈরি বিশালাকার এই ট্রলারে ১৩৮টি চাকা তাঁরা গুনে উঠতে পারেননি বলেও জানান।