‘দ্য রিডার’ || The Reader
‘দ্য রিডার’
কালবৈশাখী আর কালোমেঘের আকাশ দেখেই নাকি জানি জ্বর জ্বর লাগছিলো, বাসায় এসে সটান তাই বিছানায়। গতকাল রায়হান আর আমি এক হেডফোন দুইজনের কানে লাগিয়ে দেখা শুরু করেছিলাম ‘দ্য রিডার’ , আজ এইসময়ে রায়হান হয়ত পৌঁছে গেছে সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার দূরে।
ল্যাপটপে আব্র ও ‘দ্য রিডার’ চালিয়ে কাঁথাটা গায়ে জড়িয়ে হেডফোন কানে গুঁজ়ে নেই… । গতকাল কিছুটা বিরক্তই হয়েছিলাম প্রথমাংশ দেখে। মনে হয়েছিলো পশ্চিমা অস্বাভাবিক সম্পর্ক বা যৌন্সম্পর্ক আর তার উদ্ভুত কমপ্লেক্সিটি এর মাঝেই ঘুরপাক খাবে বুঝি কাহিনীচিত্র। আজ ও তাই মনে হচ্ছিলো।
হঠাৎ ভুল ভাংলো, আর মনে হলো মগ্ন হয়ে দেখার মত একটা মুভি পেলাম অনেকদিন পর।
রিডার এর কাহিনী প্রথমে অনেকটাই সরল । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের কাহিনী। পনের বছরের মাইকেল ট্রামের টিকিট চেকার হানা স্মিথ (কেট উইন্সলেট) এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে,বাহ্যিকভাবে যার অনেকটাই ছিলো শারীরিক। কিছুকাল পরেই সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পায়, যেখানে মাইকেল হানাকে বইগুলো পড়ে শোনাতে থাকে।
বই পড়ে না শোনালে বিছানায় প্রেমে যাওয়া যাবে না এমন শর্ত ও দেয় হানা। কারণ হানা নিরক্ষর (জার্মানীর প্রেক্ষিতে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে এটা) । মাইকেলের বন্ধুদের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্কও ছিলো না, কারণ তার মনে এর মাঝে ভালোবাসার অব্যাখানীয় অনুভূতিটি দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
এরপরেই হানা তার ক্ষুদ্র চাকরীটির প্রমোশন ফেলে অনেকটাই নিরুদ্দেশে যায় (এই অংশ কিছুটা অব্যাখাত আমার কাছে); মাইকেল হেইডেলবার্গে আইনের উপর পড়তে থাকে… পাঠ্যক্রম হিসাবে নেয়া এক সেমিনারে তার প্রফেসর নিয়ে যান এক ট্রায়ালে। ট্রায়ালে বিচার হচ্ছিলো দ্বিতীর বিশ্বযুদ্ধের এসএস/ গেস্টাপো সহযোগীদের।
বিবাদীদের একজন — হানা স্মিথ। মাইকেল মুখ তোলে না, অদ্ভুত অভিব্যাক্তির এক মিশেল খেলা করে আত্র মুখে । বেদনা? হতাশা? অবিশ্বাস? জানি না।
ট্রায়ালে অবিশ্রান্ত প্রশ্ন, কেন হানা সিমেন্স এর চাকরী ছেড়ে এসএস এ যোগদান করেছিলো? কেন এসএসদের হয়ে সে সিলেকশান প্রসেস এ অংশ নিতো? হানা ট্রাইবুনালের চীফকেই প্রশ্ন করে… আপনি হলে কি করতেন?
অমোঘ প্রশ্ন। অশউইৎস থেকে বেঁচে যাওয়া গাইড মার্চিনকে ঠিক এই প্রশ্নটিই আমি করেছিলাম অশউইৎস এর ক্রিমেটোরিয়াম এর সামনে দাঁড়িয়ে। যে প্রশ্নের উত্তর মনে হয় আসলেই কেউ জানে না। যাই হোক, দুই ভিক্টিম ( একজন মা আর একজন মেয়ে) , অশউইৎস থেকে অন্য ক্যাম্পে স্থানান্তর করার সময়
এক গির্জায় তালাবন্ধ করে রাখা বন্দীদের উপর বোমা আর আগুনের বেঁচে যাওয়া , হানাকে সনাক্ত করে । অবশেষে, ট্রাইবুনাল চীফ সবাইকে চার বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিলেও , হানাকে আজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়!
কারণ আইনের বিচারে হানা এসএস কুখ্যাত রিপোর্টটি লিখেছিলো ঘটনার পরে…, চীফ জুরি তার হাতের লেখা সনাক্ত করার জন্য কাগজ কলম দেন … হানা জানিয়ে দেয়, প্রয়োজন নেই। সেই রিপোর্ট টি লিখেছে!!
ট্রায়ালের অংশটি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলাম। এইটা সত্য, পোলান্ডের অশুইৎস ক্রাকাউ যেদিন গিয়েছিলাম (অক্টোবর ২২,২০০৮) তখন যেমন গা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিলো, ঘৃণার স্তর ও তৈরী হয়েছিলো একটা তার সাথে একটা জিনিষ মনে হয়েছিলো , জায়নিস্ট ইহুদীবাদকে কি অতি প্রশ্র্য দেয়া হচ্ছে না এই মূল্ধন দিয়ে?
কারণ অধিকাংশ ব্যাখায় মানবতার চাইতে ইহুদীবাদের প্রশস্তি অনেক বেশী, যা অস্বস্তি জাগায়।এই মুভির শেষাংশে ও এমনি কিছু উপাদান আছে। একজন মানুষ , এই পরিচয়ই যথেষ্ট ঘৃণা ছুড়ে দেবার জন্য…।বার্লিনের পার্লামেন্ট ভবনের সেই স্বেচ্ছাসেবক মেয়েটিকে মনে পড়ে , নাজী কনসেপ্টের কথা বলায় যে বলেছিলো — তার পরিবারের তিনজনকে এসএসরা মেরেছিলো,যদিও তার বাবা ছিলো জার্মান আর্মি… কত্তো কি…।
যাই হোক, ট্রায়ালের পর হানার বন্দীজীবনে ডাকে আসে কিছু এল।পি ক্যাসেট…, বয়স্ক মাইকেলের গলা, পড়ে শোনাচ্ছে তাকে অডেসী। এইভাবে ক্যাসেট এর পর ক্যাসেট আস্তে থাকে… অসমাপ্ত ‘দ্য লেডি উইথ দ্য লিটল ডগ’ ও আসে। হানা বইটা নিয়ে আসে জেলের লাইব্রেরী থেকে, তারপর দাগিয়ে দাগিয়ে পড়তে শিখতে থাকে
………………।
মুক্স আলোয় মাইকেলের গলায় আর কোনো বই না শোনা হানা তার জীবনের সামান্য সঞ্চয়টুকু দিয়ে যায় গির্জার আগুন আর বোমা থেকে বেঁচে যাওয়া সেই মেয়েটিকে……
শুরুর বিরক্তি আর সুড়সুড়ি ছাপিয়ে নিশ্চুপ বসে থাকি। ভালোবাসার অনুভূতি বা প্রকাশ আসলেই কি ‘জ্ঞাপিত’ বা ‘সংজ্ঞায়িত’ করা যায়? যে সত্য অপ্রকাশিত ছিলো , মাইকেল কেন তা অশউইৎস ভিক্টিম আর তার মেয়েকে বলতে গিয়েছিলো? ভালোবাসার শুরু কোথায়? অমোঘ বিষন্নভাবেই ভাবি, একেক্টি যুদ্ধ কি পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ী মানবিক
আগের কমেন্ট গুলোঃ
Asrar Chowdhury Oscar’s are ‘usually’ given for a current cinema. You have to realise that Oscars serve one purpose that goes un-noticed. They are a marketing mechanism. Kate Winslet may have done cinemas better than The Reader. But its contemporariness that wins at the end of the day… Thanks for the tag. TC (May 4, 2009 at 8:22pm )
Mahadib Hadi হ্যাঁ, অস্কার এর বানিজ্যিক প্রনোদনা বা আরো নির্দিষ্ট করে বললে হলিউডি সমসাময়িক ছবির জন্য বিজ্ঞাপন। কান উৎসব এর অস্কারের সমান্তরালে চলে আসার এটাও একটা কারণ মনে হয়। এটা এই নোটের সাব-ফোকাল।
ফোকাল দুইটা, তার মাঝে একটা নোটে বলা আছে। আরেকটা ও বলিঃ
প্রথমতঃ মুভিতে ট্রায়াল এবং শেষদিকে এসে ইহুদী ‘কল্যাণমূলক’ সংঘঠন গুলোকে নিয়ে ডায়লগ কি খুব বেশী প্রাসঙ্গিক? অশুইৎস এ দাঁড়িয়েই আমার গা শীতল হয়ে গিয়েছিলো ঘৃণায়, কিন্তু সেটার জন্য কোণো জায়নবাদী সংঘঠনের বা রাষ্ট্রের
উল্লেখ কেন দরকার? এটাও কি অবচেতনে আমাদের একধরনের বিজ্ঞাপন গেঁথে দেওয়া, আর সেই পুঁজি নিয়ে জায়ন০বাদী ইস্রায়েল রাষ্ট্রটি তার কর্ম জায়েজ করে নেবে?
(May 7, 2009 at 12:10am )
Mahadib Hadi দ্বিতীয়তঃ ফোকাল পয়েন্টটি পুরো উলটো। আমার পোলিশ সহকর্মী গ্রেগস আর কাশার সাথে যখন কথা বলি, তখন তারা অন্যদিকে ক্ষুব্দ। দুজনের পরিবারের পাঁচজন ক্রাকাউ-অসভিয়েচিমের চিম্নি দিয়ে মিলিয়ে গিয়েছেন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে।
তাদের মন্তব্য, হানা স্মিথ কে দিয়ে নাজী গ্রাউন্ড এর উপর একধরনের অবচেতন ইতিবাচক impose দেয়া হয়েছে, কোনো প্রকারেই যেটা তারা মানতে রাজী না?
আসলেই ব্যাপারটা কি? মুভিগুলোকে কি একধরনের ম্যানিপুলেশনে

Tell of Some Cities [ Part Three: Wroclaw-Osemwitch ]
অশউইৎস- বিরকেনিঊ, নাজী কনসেনস্ট্রেশান গ্যাস চেম্বারের গনহত্যা, আমাদের বিষণ্ণ যাত্রা…