৮৯. সূরাহ আল-ফাজ্‌র্‌ (উষালগ্ন, অর্থের রূপান্তর)

শপথ স্নিগ্ধ ভোরের; হজের মাসের দশ রাতের; জোড়-বেজোড় আর ভোরের পানে ছুটে চলা রাতের। বিবেকবান মানুষদের জন্য এই শপথগুলোয় আছে যথেষ্ট প্রমাণ: আল্লাহ অধার্মিকদের শাস্তি দিতে পারেন যেকোনো সময়।

তোমরা কি জানো, আদ, সামুদ আর ফিরাউনের পরিণতি?

আদ জাতি ইরাম শহরে নির্মাণ করেছিল আকাশছোঁয়া দালান। এত সুন্দর আর সুউচ্চ দালান ওদের আগে কেউ বানায়নি।

সামুদ জাতি বাসা করেছিল পাথুরে পাহাড় কেটে।

ফিরাউনের ছিল বিশাল সেনাবাহিনী, প্রাসাদ-অট্টালিকা।

এগুলোর দাম্ভিকতায় ওরা সবাই পৃথিবীতে বাড়াবাড়ি করেছিল, সৃষ্টি করেছিল বিপর্যয় আর অশান্তি। যে কারণে ওদের সবার উপর তিনি হেনেছিলেন শাস্তির চাবুক।

কাজেই খেয়াল রেখো, আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজকর্ম ও গতিবিধির উপর অবশ্যই কড়া নজর রাখছেন।

মানুষকে ধন-সম্পদ আর সম্মান দিয়ে পরীক্ষা করলে সে মনে করে, আল্লাহ তাকে সম্মান দিয়েছেন। আবার জীবনোপকরণ কমিয়ে যদি পরীক্ষা করেন, তাহলে মনে করে আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেছেন। আসলে, এদুটোই তার ঈমানের পরীক্ষা।

তোমরা যারা নীতিহীন তারা আল্লাহকে দেওয়া কথা রাখোনি। তোমরা এতিমকে অকাতরে দান করো না। গরিবদের খাওয়াতে একে অপরকে উৎসাহিত করো না। লোভীর মতো গিলে ফেলো ওয়ারিশের সব সম্পদ। টাকাপয়সার প্রতি প্রচুর আসক্তি তোমাদের।

মারাত্মক ভুল করছ তোমরা। কারণ, পৃথিবী যখন বালুর মতো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাবে, সারিসারি ফেরেশতাদের সাথে আল্লাহ নিজে আসবেন বিচারের ময়দানে, যখন চোখের সামনে মানুষ দেখবে জাহান্নামের অগ্নিশিখা, তখন তারা এই ভুল বুঝবে। কিন্তু এই বুঝ তখন আর তার কোনো কাজে আসবে না। সে তখন আফসোস করে বলবে, “হায় রে, এই জীবনের জন্য যদি কিছু ভালো কাজ করে পাঠাতাম!”

দোষীদের সেদিন এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যার মুখোমুখী কেউ হয়নি কখনো। এমন কড়ায়গণ্ডায় হিসেব নেওয়া হবে, যা আগে কখনো হয়নি।

শুধু পুণ্যবানদের বলা হবে, “প্রশান্ত আত্মা, ফিরে এসো তোমার ভালোবাসার প্রভুর কাছে। তুমি যেমন তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট, তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট।”

“আজ শামিল হও আমার ভালোবাসাসিক্ত দাসদের মাঝে। দাখিল হও আমার জান্নাতে।”