ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স-(১০) আপনি কিভাবে মরবেন?
প্রথমেই সুখবরটা দিয়ে নেই আপনাকে হয়তোবা কেঊ খুন করবেনা অথবা কোন এক্সিডেন্টেও আপনি মরবেন না অথবা কোন ভয়ানক জন্তু জানোয়ারও আপনাকে খেয়ে ফেলবেনা, কারণ প্রতি বছর শুধু মাত্র ৭% লোক এই সব কারণে মারা যায়।
অধিকাংশ মানুষ জনই যতদিন বেঁচে থাকে সুস্থ থাকতে চায়, সুখে শান্তিতে থাকতে চায় এবং দ্রুত কোন কষ্ট ছাড়াই ঘুমের মধ্যে মরতে চায়, যাতে কম কষ্ট ভোগ করতে হয়। কিন্তু খুব কম সংখক মানুষই তা পায়।বাস্তবে তা হয়না, কারণ ৮৭ ভাগই মানুষই আজকাল কোন ক্রনিক রোগের কারণে মারা যায়।ক্রনিক রোগ মানে যা খুব আস্তে আস্তে আপনাকে কষ্ট দিতে থাকবে তারপর এক পর্যায়ে আপনার সুস্থ জীবন যাপনের ক্ষমতা বন্ধ করে দিয়ে অনেকদিন শয্যাশায়ী করে রাখবে। বিষয়টা অনেকটা স্লো পয়জনিং এর মত এবং আপনাকে পুরো প্রক্রিয়াতে অনেক অনেক কষ্ট পেতে হবে। অর্থাৎ আপনার মৃত্যু হয়তোবা হবে কোন হাসপাতালে, এখন শতকরা ৬০ ভাগ মানুষই হাসপাতালে মারা যায়, যার মধ্যে দশ ভাগের এক ভাগকে হয়তোবা ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে থাকতে হবে।শুধুমাত্র ১৮ ভাগ লোক বাড়িতে মারা যায়, একবারে নিজের আপনজনদের আশেপাশে, পরিচিত আবহে, পরিবেশে।
আরেকটা সুখবর হচ্ছে আপনি যতই ক্রনিক ডিজিজে মারা যান, আপনার তেমন কোন পেইন হবেনা, কারণ ৬০-৭০ ভাগ ক্রনিক ডিজিজের পেইনই আধুনিক ঔষধ নিয়ে প্রায় নাই করে ফেলা যায়। কিন্তু মৃতুর আগে কিছু নিঊরোলজিকাল ও বোন পেইন হয়, যা আসলে মডার্ণ সাইন্স এখনও কিঊর করতে পারেনাই, তা আপনাকে সহ্য করতেই হবে। এভাবেই আপনার আমার সবারই মৃত্যু হবে, কোন একদিন, কিন্তু কার কারণে আপনার মৃত্যু হবে?
শতকরা তিন ভাগের এক ভাগ লোকের মৃত্যু হয় হার্ট ডিজিজে অর্থাৎ হৃৎপিন্ড থেকে আপনার শরীরে যে ব্লাড পাম্প হচ্ছে সেই সিস্টেমের ফেইলার এর কারণে,যা আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন এখন ৮০ বিট পার ওয়ার এ ব্লাড পাম্প করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ১২ ভাগের মৃত্যু হবে হার্ট এটাকের কারণে আর ৮ ভাগের স্ট্রোক। অনেকের আগে স্ট্রোক হবে, কিছুদিন বা অনেকদিন প্যারালাইজড হয়ে থাকবে, তারপর একটু ভাল হয়ে আবার হার্ট এটাকের কারণে মৃত্যু হবে, আমার নিজের পিতারই তাই হয়েছিলো।
আর মৃত্যুর যেটা সবচেয়ে বড় কারণ তা হল, হাই ব্লাড প্রেসার, কিন্তু মজার বিষয় হল ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই হাই ব্লাড প্রেসার এর কারণ এখনও জানা যায়নি, পুরাই অজানা। এর পরে সবচেয়ে যে কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ মরে তাহলো ক্যান্সার। ক্যান্সার মানে আপনার শরীরে কোন এক জায়গায় কোষ নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছে এবং ইচ্ছামতো বেড়ে উঠছে এবং আস্তে আস্তে আপনার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পৃথিবীর শতকার ২৫ ভাগ মৃত্যুই ক্যান্সারের কারণে হয়। এবং আপনার আমার শরীরে হয়তোবা এখনি একটি ক্যান্সার সেল বাসা বেঁধেছে।
কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞান যতই আগাক এখন পর্যন্ত এমন কোন স্ক্যানার আবিষ্কৃত হয়নি যা দিয়ে আপনার পুরো শরীরে সব সেল স্ক্যান করে বলা যাবে ক্যান্সার হয়নি। এখন যেটা করা হয়, আপনার অসুখওয়ালা অঞ্চল থেকে ২-৩ টা টীস্যু নেওয়া হয়, তা নিয়ে বায়োপসি করে দেখা হয় কোণ এভিডেন্স আছে কিনা ম্যালিগনেন্সির । কিন্তু আপনার ঐ ২-৩ টা টিস্যু ছাড়া অন্য কোন টিস্যুতেও ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে, তাই অনেক সময় আমরা শুনি ক্যান্সার ঠিকমতো ডিটেক্ট হয়নি বা ভুল সময় ডিটেক্ট হয়েছে কারণ একেক সময় একেক টিস্যু দিয়ে চেক করা হয় আর এতে চিকিৎসকদের তেমন একটা দোষ নেই।
সুতরাং ধরেই নেওয়া যেতে পারে আমার আপনার শরীরে হয়তোবা এখনি কোন ক্যান্সার সেল বাসা বেঁধেছে যা বড় হয়ে টিঊমার হতে অনেক অনেক বছর লাগবে এবং যখন ধরা পড়বে আমাদের আসলে করার কিছুই থাকবেনা। এটা হতে পারে আপনার বাওয়েল অথবা লাং এ , এই দুইটা ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, আর মেয়ে হলে ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, ছেলে হলে প্রস্টেট ক্যান্সার।
আপনি যদি স্মোকার হন আপনার ক্যান্সার হওয়া সম্ভাবনা ২২ ভাগ বেশি, কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ ক্যান্সারের কোন প্রিভেনশনই নাই, সুতরাং নন-স্মোকার হলেও খুব বেশি খুশি হওয়ার কিছু নেই। অর্থাৎ আপনার লাইফ-স্টাইলে বা ডায়েট যতই চঞ্জ করেন, এসব ক্যান্সার হবেই,কোন লাভ নেই।
আর সবচেয়ে বড় একটা কারণ মরার হল, বয়স, ৬৩ ভাগ মানুষ যাদের ক্যান্সার হয় বয়স ৬৫ এর উপরে থাকে। যদি ক্যান্সার অথবা হার্ট ডিজিজেও আপনার মৃত্যু না হয় তাহলে শ্বাস কস্টে আপনার মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। নয় দশমিক চার ভাগ মানুষ শ্বাসকষ্টে মারা যায় প্রতি বছর, এর মধ্যে কিছু কমন রোগ হল, ব্রংকাইটিস বা এমন কিছু যা তাদের লাংস এর ক্ষতি করেছিলো।
এর পরে আসে ছোটখাটো অনেক রোগ, যেমন ডিম্যানশিয়া, কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে যেসব রোগী অন্য কারণে মারা যায় তাদেরও ডিম্যানশিয়া হয়েছে। আপনি যদি বেশি ভাগ্যবান না হোন,তাহলে এটা মোটামুটি সিঊর আপনার মৃত্যু হবে বৃদ্ধ বয়সে, ষাটোর্ধ হয়ে।
যদি ধনী দেশে থাকেন তাহলে ৮০ এর পরে আর গরীব দেশে একটু আগেই। এখন এভারেজ এজ হিসেব করে আমরা অনেক কম বেশি করে বলতে পারে যে আপনি কোন দেশ এ থাকলে কতদিন বাঁচার আশা করতে পারেন, যেমন উন্নতি বিশ্বে মোটামুটি ৮০ পর্যন্ত।
এর মধ্যে কিছু কিছু বিষয় বেশিদিন বাঁচাতে সাহায্য করবে, যেমন ভাল ইউনিভার্সিটি ডিগ্রী, স্ট্যাবল ইকোনমিক লাইফ, ক্লোজ দাম্পত্য জীবন এবং ভাল দাম্পত্য সঙ্গী যে আপনাকে একটু কম পেইন দিবে। কারণ এটা সত্যই আপনি যাকেই বিয়ে করেন অনেক অনেক পেইন নিতে হবে, কিন্তু যার পেইনটা আপনার কাছে মধুর হয়ে যাবে অথবা বেশি সহ্য করতে পারবেন সেই আপনার প্রকৃত সঙী।
আর আপনি যদি একটু মোটা হন তাহলে কিছুদিন কম বাঁচবেন আর অনেক বেশি মোটা হলে ১০-১৫ বছর কম বাঁচবেন ।
এখন এইসব হিসাব নিকাশ বা যতই কিছু করেন না কেন, আপনি কোন ভাবেই মৃত্যুকে আটকাতে পারবেননা। একদিন না একদিন যেতেই হবে পরপারে, যদি বিলিভার হন সৃষ্টীকর্তাকে হিসাব নিকাশ দিতে হবে, আর যদি না হন, আনন্দ ফুর্তির দিন শেষ হয়ে গেলো। তবে পাশ্চাত্যের কিছু ধনী মানুষজন, একেবারে অর্গানিক ফুড, ফ্রেশ এয়ার আর তরূণদের ব্লাড দিয়ে নিজেদের ব্লাড রিপ্লেস করে অনেকদিন বাঁচার চেষ্টা করছে, তারা হয়তোবা ১০০ ক্রস করবে ম্যাক্সিমাম এভাবে।
সুখের অথবা দুখের খবর হল, আপনি আমি সবাইকে একদিন মরতে হবে এইটা শতভাগ সত্য। সুতরাং যে কয়দিন সময় আছে, নিজের প্রতি এবং আশেপাশে যারা আছে তাদের প্রতি সহানূভুতিশীল হোন, কারও ক্ষতি করে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিন, আপনার যা যা করার ইচ্ছা তা করার চেষ্টা করছেন, নিজের মেধা মননের সঠিক ব্যবহার করেন আর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য সৃষ্টা অথবা প্রকৃতির( যদি স্রষ্টায় বিশ্বাসী না হন) কাছে কৃতজ্ঞ থাকেন। কারণ আপনার মৃত্য হয়তোবা আজ রাতেই হতে পারে অথবা খুব শীঘ্রই।
- বুক অফ লাইফ অবলমবনে — বেশিরভাগ উপাত্তগুলো উন্নত বিশ্বের আ্লোকে, বাংলাদেশের মত দেশে জন্ম হলে কিছু কম বেশি হতে পারে।
- ভাল লাগলে পুরো সিরিজটি পড়তে পারেন এখানে
