রহস্য প্রধান এলাকা
Aug 24, 2017 · 2 min read
সন্ধ্যাবেলায় হঠাৎ করে ভ্যাপসা গরম পরতে লাগল। বাতাসের কোনও অস্তিত্ব নেই। ব্যাটারি নষ্ট হওয়ায় ঘড়ির সময় পুরোপুরি থেমে গেছে। এমন সময়েই দশ বছর বয়সী এক মেয়ের সঙ্গে দেখা। বেণী করা চুল। দুঃখী দুঃখী চেহারা। কাছে এসেই বলল, আমি তোর ভবদি।

এই নামের কারও সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। আমার চেহারা দেখে এটা বুঝতে পারা তার জন্য অসম্ভব কিছু ছিল না। সে আবারও বলল, আমার পুরো নাম ভবতারিণী দেবী।
আমি বললাম, দিদির বাড়ি কি খুলনায়?
সে বলল, হ্যাঁ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা এখন নেই। কিন্তু মেয়েটি এরকম পরিচয় দিলে তাকে তার স্ত্রী না ভেবেও উপায় নেই। এ জন্যে আমি বললাম, তুমি তো উনত্রিশ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলে। দশ বছর বয়সী কেমন করে হলে?
মরবার পর আমাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কোন বয়সে ফেরত যেতে চাও? আমি বললাম, দশ বছরে।
দশ বছরে কেন?
ঐ বয়সেই তো তোদের জামাইবাবুর সঙ্গে বিয়ে হল। তারপর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে লেখাপড়া শিখলাম। উনার সঙ্গে বিয়ে না হলে মুর্খ থেকে যেতাম রে।
বুঝছি, ইচ্ছাপূরণ গল্পটার নারীরূপ। তা, হঠাৎ এখানে আসার কারণ?
তোর সঙ্গে তো অনেক কবিদের পরিচয় আছে, এই কারণে আসলাম।
ঠিক আছে, ঝেড়ে কাশি দাও।
উনার কাছে শুনলাম, এখন যারা কবিতা লেখে, তারা নাকি তোদের জামাইবাবুর কবিতাগুলো বাতিল করে দিচ্ছে? ওগুলো নাকি প্রায় অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাচ্ছে?
হু। অনেকেই তো বলে। কথাটাও মিথ্যে নয়।
কী সব উল্টাপাল্টা বলছিস। তুই আমাকে কথা দে, এখন থেকে যারা ওইসব বলবে তাদের একটু বুঝিয়ে বলবি। তোরা এইসব করে বেড়াস, আর ওইদিকে উনি আমার ওপর রাগ দেখান। আর বলেন, আমার শালাবাবুরা দেখছি চোখে দেখে না। পনের’শর মত কবিতা লিখে রেখেছি। তার মধ্যে ভাল কবিতাগুলোও খুঁজে বের করতে পারে না।
উনি এইসব বলে?
হ্যাঁ রে, না হলে আর বলছি কী! জানিস, গতরাতে আমার সঙ্গে একটুও কথা বলেন নি। বিছানার অন্যদিকে ক্যাঁৎ হয়ে ছিলেন। অনেকবার বলেছি, তোরা শালা মানুষ, তাই একটু মজা করছিস। কিন্তু উনি এইসব কিছুই বোঝেন না। বলেন, শুধু কবিতা না, তোরা নাকি তার গানের সুর কোথা থেকে এসেছে — তা নিয়েও হাসাহাসি করিস।
বড় মানুষ চুরি করে ধরা খেলে হাসাহাসি তো হবেই।
আচ্ছা বাদ দে। তুই আমাকে কথা দে, এইসব বন্ধ করার চেষ্টা করবি। বেঁচে থাকতে জা’দের জন্য শান্তি পাই নাই। এখন মরবার পর একটু সুযোগ পেয়েছি—উনার সঙ্গে সঙ্গে থাকার, কিন্তু তোদের জন্য শান্তি পাচ্ছি না। উনি না হয় ভুলে যায় যে তোরা শালা মানুষ, কিন্তু তোরা কেমনে ভুলিস যে উনি তোদের জামাইবাবু?
হু।
উনার কাছে আমার মুখটা রাখ। তোদের এইসবের জন্য উনার সামনে যেতেই ভয় লাগে।
আচ্ছা, ঠিক আছে। অন্যরা মানবে কি-না জানি না, আমি কিছু বলব না এখন থেকে।
তুই বড় লক্ষ্মী রে। বাতাস দেখবি?
হু।
উত্তরে দেখ বাতাস আসছে। ওদিকে তাকালেই মজা হবে।
আমি উত্তর দিকে তাকাতেই বিরক্ত হলাম। রহস্য প্রধান এলাকায় এক লোক দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করছে। বাতাস নিশ্চয়ই এভাবে প্রস্রাব করে না। তারপর তাকানো বন্ধ করতেই দেখলাম, ভবদিও আর নেই। অদ্ভুত ব্যাপার। যাওয়ার সময় এতো বড় একটা মজা করে গেল!
একটু পর মনে হল, দশ বছর বয়সী দিদির কাছে আর কী’ই বা আশা করা যায়!
এপ্রিল, ২০১৭