স্কটল্যান্ড অফ দি ইস্ট

ঘটনাটা ২০১২ সালের,
তখন পর্যন্ত পাহাড় বলতে আমার ডিকশেনারী যা বলতো তা হচ্ছে কক্স বাজার এর হিমছড়ি অথবা সিলেট এর জাফলং থেকে দাঁড়ায় দেখা ইন্ডিয়ার উঁচু উঁচু পাহাড় গুলা। আর জাফলঙে দাঁড়ায় ইন্ডিয়ার পাহাড় গুলা দেখার মতো দুঃখ আর কিছুতে নাই। ওই জাফলঙে দাঁড়ায় অনেকবার একটা চিন্তা মাথায় আসত। কেমন ওই পাহাড় এর পিছের জায়গা গুলা। দেশের ব্যাপারে অন্য কিছু নিয়ে আফসোস না থাকলেও এই বেপারটায় আমার আফসোস ছিল অন্য লেভেল এর। যে সামনেই এইরকম এপিক জায়গা কিন্তু যাওয়া যাবে না।
হটাৎ করেই একদিন আমার ইউনিভার্সিটি এর এক ফ্রেন্ড বললো চল শিলং যাই। আমার সোজা প্রশ্ন — এইটা কই ? উত্তরে শুনলাম সিলেট থেকে যেই পাহাড় গুলা দেখা যায় ওই পাহাড় গুলার উপরের একটা শহর। ইন্ডিয়ার মেঘালয় রাজ্যের মধ্যে। ব্রিটিশরা নাকি ওই এলাকা কে ডাকতো প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড। এর পর আমাদের নিকটবর্তী প্রতিবেশীর দেশের ভিসা জোগাড় করা বাদে থামানোর মতো অন্য কিছু ছিল না। ভিসা নিয়ে ২০১২ সালের আগস্ট এর ২৪ তারিখ তামাবিল বর্ডার দিয়ে — সিলেট থেকে যেই পাহাড় গুলা দেখা, সোজা ওই পাহাড় গুলার ভিতরে।

যেই জিনিষটা সবথেকে বেশি ভালো লাগবে এই এলাকায় তা হলো চেরাপুঞ্জি এর আসে পাশের ঝর্ণা। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃষ্টিবহুল এলাকা হিসাবে চেরাপুঞ্জির কোনায় কোনায় খালি ঝর্ণা।




এরকম সবুজ যে আমাদের ঠিক পাশে ছিল তা আমার আইডিয়া আসে নাই। চেরাপুঞ্জি এবং শিলং এ যা দেখা যায় সবটা এইরকম তীব্র এক সবুজ। আর সেভেন সিস্টার্স ফলস এর একটা ইন্টারেস্টিং বেপার ছিল যে — এই ফলস এর উপরে বসে বাংলাদেশ দেখা যায়। এমনকি বেশ কিছু বাংলাদেশী মোবাইল নেটওয়ার্ক আরামে ঐখানে পাওয়া যায়।


বাংলাদেশ বর্ডার পার করে শিলং প্রায় ৩ ঘন্টার রাস্তা। যেই ড্রাইভার এর গাড়ি তে আমরা বর্ডার থেকে শিলং যাচ্ছিলাম। সেই ড্রাইভার রাস্তায় আমাদের একটা দামি কথা বলসিলো।
৩ ডাব্লিউ কে লিয়ে শিলং ব্যাহত ফেমাস হে।
আমরা বললাম — কেয়া হে ৩ ডাব্লিউ ?
উত্তরে সে বললো
- ওয়াইন
- ওমেন
- ওয়েদার
এখনো যাকেই এই শিলং ট্রিপ এর বেপারে বলি — ৩ ডাব্লিউ এর বেপার টা বলতে মিস হয় না।
