সৃতিচারণ, নর্থসাউথ জীবন - ২০০৯ থেকে ২০১৩ । Jogging the memory of our old North South.

অনেক দিন ধরে নিজের কাছে চাপিয়ে রাখা এই কথা গুলা আজকে লিখতে বসলাম । ৩/৪ বছর আগের নর্থসাউথ আর এখনকার নর্থসাউথ! হাইরে,সেই দিনগুলি এখন সপ্নের মতনই লাগে চিন্তা করলে । 09 থেকে 133 ব্যাচ পর্যন্ত নর্থসাউথ এর বেস্ট টাইম ছিলো ! । এর পরে থেকেই কঠোর নিয়ম-কানুন হওয়ার শুরু। ২০১৩ শেষে *ক্যাম্পাসের সব জায়গায় সিসিটিভি লাগানো যার করণে ক্যাম্পাসে সিগারেট খাওয়া একেবারেই বন্ধ হলো, *গ্যালারি সামনে থেকে প্রত্যেকদিন বিকেলের ক্রিকেট খেলা ফুটবল খেলা তুলে দেওয়া, *রাতে ক্যাম্পাসে থাকার সময় কমিয়ে দেয়া… নর্থসাউথ অবশ্যই ভালোর জন্যেই নিয়মগুলো চালু করেছিলো…ভালো হলো না খারাপ হয়েছে এটা যাচাই করার জন্যে এই লেখা না…লেখাটা আগের দিনের নর্থসাউথ জীবনের সৃতিচারণ ও নতুনদের তারা কি সময় টা পাই নি তার হালকা ধারনা দেয়ার জন্যে লিখা ।

যেহেতো এটা ৮ নাম্বার গেইটেই পোস্ট হচ্ছে এটা তাই আগেকার ৮ নাম্বার দিয়েই শুরো করা যাক। এখন যেমন দেখা যায় পোলাপান সিগারেট টানতে ৮ নাম্বারে গেইটে যেয়ে ভিড় করে…ওইখানেই ঘুড়াঘোড়ি করে…আড্ডা মারে… বসুন্ধরারই চিল করে … ক্যাম্পাসের বাইরে বাইরে থাকে…! ভাবলেই অবাক লাগে আগে ৮ নাম্বার গেইট বলতে পিছনের গেইট বাদে আর কিছুই ছিলো না ! পোলাপাইন ৮ নাম্বারে তেমন যেতই না আর গেলেও সিগারেট কিনে আবার ক্যাম্পাসে ব্যাক ! ওই সময় ক্যাম্পাসে এতো পোলাপান থাকতো যে ভিড়ে গ্যালারি তে বসার যায়গা পাওয়া যেতো না ! অলটাইম ক্যাম্পাসে হই-হল্লোর একটা পরিবেশ। সবাই যার যার গ্রুপ নিয়ে গ্যালারির বিভিন্ন যায়গায় বসে আড্ডা মারতো, কোন যায়গায় কোন গ্রুপ বসে এইটাও মোটামোটি নির্দিষ্ট থাকতো,সবগুলা গ্রুপই মোটামোটি সবগুলা গ্রুপ এর সাথে পরিচিত ছিল……Almost সবাই সবাইকে চিনতো ক্যাম্পাসে। ক্লাস থেকে বের হয়ে বন্ধুবান্ধব কে কল দিলেই “মামা কই আছিস ? এইতো মামা গ্যালারিতে আই ! ” কমন কথা! কলও দেয়ার লাগতো না …আর ক্লাস/মিড/প্রেজেন্টেশন দিয়ে এসেই গ্যালারিতে বিড়ি জ্বালানোর যে কি ফিলিং ছিলো ! ব্যাচ টু ব্যাচ,ভাই-ব্রাদার, বড়ভাই-ছোটভাই খুব আসাধারন একটা কালচার ছিলো ভার্সিটির ভিতরে ! আর যাই হউক না কেনো সিগারেট এর অভাব হতো নাহ কারো…সবাই প্যাকেট প্যাকেট সিগরেট নিয়ে আসতো ৮ নাম্বার থেকে ঢু মেরে। গ্যালারিতে যদি কারো বার্থডে কেক কাটা হতো তখন হঠাৎ করেই পুরো গ্যলারিতে সবাই একসাথে তাকে বার্থডে উইশ করতো, চিনা না চিনা কোন ব্যাপার ছিলো না…That was one of the sweetest thing about gallery back then.ব্রেক-আপ, প্যাচ-আপ, শো-অফ…যাইগা একটাই ছিলো গ্যালারি!

প্রত্যেকদিন সকালের ক্লাস শেষ করে ডিরেক্ট গ্যালারিতে এসেই সবাইকে এক যায়গায় পেয়ে যাওয়া আর বিড়ি টানার মাধ্য দিয়ে শুরু হতো দিনের তারপর একের পর এক গ্রুপ পোলাপাইন ক্লাসে যেতো আরেক দল ক্লাস শেষ করে আসতো। তখন গ্যালারিতে প্রক্টর স্যার (কেএসওয়াই) ছিলো একটা আতঙ্কের নাম ! । স্যার কে আসতে দেখলে সবাই আগে থেকেই এলার্ট করে দিতো একজন আরেকজন কে যাতে কেউ স্যার ও সিকিরিউটির কাছে বিড়ি নিয়া কট না খাই । তবে খুব কম পোলাপানই ছিলো যারা একবারো কট খাই নাই প্রক্টর এর হাতে! কেএসওয়াই আসছে শুনলেই পোলাপান বিড়ি ফালে দোউড়! …আর উপরে যারা সিরিয়ালে 29 খেলতো তারা তো প্রক্টর স্যার আসছে শুনলেই অনেক সময় টাকা পইসা ফেলেও দউড় দিতে দেখা গেছে !! হাহা

:D …তবে কেএসওয়াই স্যার যেদিন আসছে গ্যালারি তে এক দুইজন কে তিনি বিড়ি নিয়া কট দিয়ে ধরে নিয়ে গেছেই…

মিনি গ্যালারির সামনের ছেলেপেলে ক্রিকেট , গ্যালারির সামনের ফুটবল খেলা এইগুলাই ক্যাম্পাসের একটা এক্সপ্যাকটেড চেহারা ছিলো । ভাবলে অবাক লাগে, ইদানিং এর ব্যাচ এর পোলাপান গুলা মিনি গ্যালারির সামনের ক্রিকেট আর ফুটবল খেলার মজা আর উত্তেজনা কখনো বুঝবেই না । আশা যাক জি-স্পট ইতিহাসে ! ওয়ার্ল্ড এর আর কয়টা জোশ জোশ ক্যাম্পাসের মতো নর্থসাউথের পোলাপানও “জি-স্পট” নামে একটা রিক্রিয়েশনাল চিলিং স্পেইস বানিয়ে নিয়েছিল ক্যাম্পাসে ! স্টাডি হলের ঠিক পাশেই। সারাদিন ক্লাস/এসাইনমেন্ট/প্রেসেন্টেশন দিয়ে পেরা খেয়ে পোলাপান রাতে ৮টা -৯টা পর্যন্ত জি-স্পটে চিলিং করতো আর আড্ডা দিতো আর একই সময়ে গ্যালারি তে চলতো গিটার আর গান আর হাসা হাসি! অনেক জীবন্ত ও মজ-মাস্তিতে ভরপুর ছিলো…আগে ক্যাম্পাস ক্লাব গুলাও মাতিয়ে রাখতো ! আরো কইদিন পর পরই কনসার্ট … বাংলাদেশের আর কোন ভার্সিটির ক্যাম্পাস, শুধু প্রাইবেটই না পাবলিকও, এতো Lively আর happening ছিলো কিনা সন্দেহ। বাইরের ইউনি এর কেউ আমাদের ক্যাম্পাসে ঢুকলে নর্থসাউথ এর ফ্যান হয়ে যেতো এতো সুন্দর একটা কমিউনিটি দেখে ! Those were the golden Days of NSU।

আর এখন! এখন ক্যাম্পাসে আসলে মনে হয় শপিং মলে আসছি ! এখনকার কালচার টা অনেক বেশি individualistic ! সবাই যার মতো থাকে। ক্যাম্পাসের ভিতরের চেয়ে বেশি এখন বাইরেই স্টুডেন্ট রা বেশি থাকে । ২০১৩ সালে সিসিটিবি আর সিগারেট ব্যান করায় ক্যাম্পাস এর চ্যাহারাই চ্যাঞ্জ হয়ে গেলো। যেই গ্যালারিতে আগে এতো পোলাপান থাকতো সেই গ্যালারিতে এখন ফ্রেশাররা বাদে তেমন কেউই বসে না ! । সব সিগাড়েট খাওয়া/আড্ডা দেয়ার জন্যে ৮ নাম্বারে ভিড় করে …স্টুডেন্টরা ক্যাম্পাসের চেয়ে বাইরেই বেশি আড্ডা দিচ্ছে…আর ক্লাসের ফাকে ফাকে এইখানে সেইখানে ঘুরাঘুরি করেই টাইম পার করে দিচ্ছে। ক্যাম্পাস লাইফের মজা অনেকে স্টুডেন্টরা তো বুঝতেই পারছে না! বাইরে আড্ডা বেশি কারনে ইদানিং যেই পরিমাণ গ্যাঞ্জাম , মারামারির কথাও শুনা যাচ্ছে তা মনে হয় নর্থসাউথ এর বসুন্ধারা জীবনে হয় নাই !! । আর ক্যাম্পাসের ভিতর কেমন একটা রবোটিক পরিবেশ এখন ! সবাই আই-সোলেটেড ! অনেক স্টুডেন্ট এখন নর্থসাউথে আসে ক্লাস করে চলে যায়! স্টুডেন্ট রা ক্যাম্পাসমুখি হলেই কিন্তু এন্ড অফ দা ডে নিজেদের ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে পারে ! অনেক কিছু শিখতে পারে ! একটা ফ্রুটফুল নেটওয়ার্ক মেইক করতে পারে! একটা জিনিস বুঝতে হবে! শুধুমাত্র ক্লাব বেইজড পোলাপানই কিন্তু এনএসইউ রিপ্রেসেন্ট করে নাহ! জেনারেল স্টুডেন্টরাই এনএসইউ কমউনিটি রিপ্রেসেন্ট করে বেশি! এই জঙ্গি/ মঙ্গি কাহিনি গুলাও কিন্তু ২০১৩ এর পরেই শুরু হইসে। ২০১৩ এর পরেই কিন্তু আমাদের এমন একটা ধাক্কা খেতে হলো যা এনএনইউ এর জন্যে কল্পোনা অতিত ! যাই হউক ! ক্যাম্পাসে সিগারেট খাওয়া বা সিসিটিভি সড়াতে বলা হচ্ছে না মোটেও এই পোষ্টে ! শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের সাথে স্টুডেন্টদের বিশেষ করে নরমাল স্টুডেন্ট এর engagement বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। এখন এইটা যেই ভাবেই এনএসইউ অথরিটি করুক !

জানিনা ওই দিনগুলা আর ব্যাক আসবে কিনা কখনো তবুও সৃতিচারণ করি ! কারন, আর কয়েকটা ব্যাচ যাওয়ার পর হয়তো এই দিনগুলা সৃতিচারণ করারও কেউ থাকবে না।

পড়ে থাকলে শেয়ার করতে পারেন লেখাটি বন্ধু-বান্ধব্দের সাথে। আর কেউ মনে করে লেখা টা এনএসইউ এর গ্রুপ গুলা তে পোস্ট দিয়েন ইচ্ছা হলে।

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.