সৃতিচারণ, নর্থসাউথ জীবন - ২০০৯ থেকে ২০১৩ । Jogging the memory of our old North South.

133 ব্যাচ পর্যন্ত নর্থসাউথ এর সুবর্ণ সময় ছিল। এরপরের থেকেই কঠোর থেকে কঠোর নিয়ম-কানুন হওয়ার শুরু। *সবখানেই সিসিটিভি লাগানো যার করণে ক্যাম্পাসে সিগারেট খাওয়া একেবারেই বন্ধ হওয়া, *গ্যালারি সামনে থেকে প্রত্যেকদিন বিকেলের ক্রিকেট খেলা ফুটবল খেলা তুলে দেওয়া, *রাতে ক্যাম্পাসে থাকার সময় কমিয়ে দেয়া…হ্যা নর্থসাউথ অবশ্যয় ভালোর জন্যেই নিয়মগুলো চালু করেছিলো…ভালো না খারাপ হয়েছে এটা যাচাই জন্যে এই লেখা না…এই লেখা টা আগের নর্থসাউথ জীবনের সৃতিচারণ ও নতুনদের তারা কি সময় টা মিস করেচগে তার হালকা ধারনা দেয়ার …! যাইহওক, এখন যেমন দেখা যায় পোলাপান একটা সিগারেট টানতে যে ৮ নাম্বারে যায় ওইখানেই ঘুড়াঘোড়ি করে… ছেলেপেলের ভির লেগে থাকে ৮ নাম্বারে! ক্যাম্পাসের বাইরে বাইরে থাকে…! ভাবলেই অবাক লাগে আগের ৮ নাম্বার গেইট ! পোলাপাইন ৮ নাম্বারে তেমন যাইতো ই না আর গেলেও সিগারেট কিনে আবার ক্যাম্পাসে ব্যাক ! ওই সময় ক্যাম্পাসে এতো পোলাপান থাকতো যে ভিড়ে গ্যালারি তে বসার যায়গা পাওয়া যেতো না ! এলটাইম ক্যাম্পাসে হইহল্লোর একটা পরিবেশ। সবাই যার যার গ্রুপ নিয়ে গ্যালারির বিভিন্ন যায়গায় বসে আড্ডা মারতো, কোন যায়গায় কোন গ্রুপ বসে এইটাও মোটামোটি নির্দিষ্ট থাকতো,সবগুলা গ্রুপই মোটামোটি সবগুলা গ্রুপ এর সাথে পরিচিত ছিল……Almost সবাই সবাইকে চিনতো। ক্লাস থেকে বের হয়ে পোলাপান কে কল দিলেই “মামা কই আছিস ? এইতো মামা গ্যালারিতে আই ! ” কমন কথা! …আর এসেই বিড়ি টা জ্বালানোর যে কি ফিলিং ছিলো সবার। ব্যাচ টু ব্যাচ,ভাই-ব্রাদার, বড়ভাই-ছোটভাই খুব আসাধারন একটা কালচার ছিলো ভার্সিটিতে ! আর যাই হউক না কেনো সিগারেট এর অভাব হতো নাহ কারো…সবাই প্যাকেট প্যাকেট সিগরেট নিয়ে আসতো ৮ নাম্বার থেকে ঢু মেরে। গ্যালারিতে যদি কারো বার্থডে কেক কাটা হতো তখন হঠাৎ করেই পুরো গ্যলারিতে সবাই একসাথে তাকে বার্থডে উইশ করতো, চিনা না চিনা কোন ব্যাপার ছিলো না…That was one of the sweetest thing about gallery back then.
প্রত্যেকদিন সকালের ক্লাস শেষ করে ডিরেক্ট গ্যালারিতে এসেই সবাইকে এক যায়গায় পেয়ে যাওয়া আর বিড়ি টানার মাধ্য দিয়ে শুরু হতো দিনের। তখন গ্যালারিতে প্রক্টর (কেএসইউ স্যার) ছিলো একটা ভিবিষিকার নাম ! । স্যার কে আসতে দেখলে সবাই আগে থেকেই এলার্ট করে দিতো একজন আরেকজন কে যাতে কেউ স্যার এর কাছে বিড়ি নিয়ে ধরা না খাই । অনেক পোলাপান তো বিড়ি ফালে দোউড়! …আর উপরে যারা তাশ খেলতো তারা তো প্রক্টর স্যার আসছে শুনলেই অনেক সময় টাকা পইসা ফেলেও দউড় !! :D …তবে কেএসইউ স্যার যেদিন আসছে গ্যালারি তে এক দুইজন বিড়ি নিয়া কট খাইছে মাস্ট …
মিনি গ্যালারির সামনে একদল ছেলেপেলে ক্রিকেট খেলতো , গ্যালারির সামনের ফুটবল খেলা এইগুলাই ক্যাম্পাসের একটা এক্সপ্যাকটেড চেহারা ছিলো । ভাবলে অবাক লাগে, ইদানিং এর ব্যাচ এর পোলাপান গুলা মিনি গ্যালারির সামনের ক্রিকেট আর ফুটবল খেলার মজা আর উত্তেজনা কখনো বুঝবেই না । এখন আশা যাক জি-স্পট ইতিহাসে ওয়ার্ল্ড এর আর কয়টা জোশ জোশ ক্যাম্পাসের মতো নর্থসাউথের পোলাপানও “জি-স্পট” নামে একটা রিক্রিয়েশনাল চিলিং স্পেইস বানিয়েছিল ক্যাম্পাসে ! সারাদিন ক্লাস/এসাইনমেন্ট/প্রেসেন্টেশন দিয়ে পেরা খেয়ে পোলাপান রাতে ৮টা -৯টা পর্যন্ত জি-স্পটে চিলিং করতো আর আড্ডা দিতো আর একই সময়ে গ্যালারি তে চলতো গিটার আর গান। অদ্ভুত সুন্দর পরিবেশ ছিলো !
অনেক জীবন্ত ও মজা মাস্তিতে ভরপুর ছিলো…আগে ক্যাম্পাস ক্লাব গুলা মাতিয়ে রাখতো আরো কইদিন পর পরই কনসার্ট এরেঞ্জ করে। বাংলাদেশের আর কোন ভার্সিটির ক্যাম্পাস, শুধু প্রাইবেটই না পাবলিকও, এতো Lively আর happening ছিলো কিনা সন্দেহ। কোন ভাবে যদি বাইরের ইউনি এর কেউ আমাদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারতো নর্থসাউথ এর ফ্যান হয়ে যেতো এতো সুন্দর একটা কমিউনিটি ছিলো ! Those were the golden Days of NSU।
২০১৩ সালে সিসিটিবি আর সিগারেট ব্যান করায় ক্যাম্পাস এর চ্যাহারাই চ্যাঞ্জ হয়ে গেলো। যেই গ্যালারিতে আগে এতো পোলাপান থাকতো সেই গ্যালারিতে এখন ফ্রেশাররা বাদে তেমন কেউই বসে না ! । সব সিগাড়েট খাওয়া/আড্ডা দেয়ার জন্যে ৮ নাম্বারে ভিড় করে …স্টুডেন্টরা ক্যাম্পাসের চেয়ে বাইরেই বেশি আড্ডা দিচ্ছে…আর ক্লাসের ফাকে ফাকে এইখানে সেইখানে ঘুরাঘুরি করেই টাইম পার করে দিচ্ছে। ক্যাম্পাস লাইফের মজা অনেকে স্টুডেন্টরা তো বুঝতেই পারছে না! বাইরে আড্ডা বেশি কারনে ইদানিং যেই পরিমাণ গ্যাঞ্জাম , মারামারির কথাও শুনা যাচ্ছে তা মনে হয় নর্থসাউথতের বসুন্ধারা জীবনে হয় নাই !! । আর ক্যাম্পাসের ভিতর কেমন একটা রবোটিক পরিবেশ এখন ! সবাই আই-সোলেটেড ! অনেক স্টুডেন্ট এখন নর্থসাউথে আসে ক্লাস করে চলে যায়! স্টুডেন্ট রা ক্যাম্পাসমুখি হলেই কিন্তু এন্ড অফ দা ডে নিজেদের ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে পারে ! অনেক কিছু শিখতে পারে ! একটা ফ্রুটফুল নেটওয়ার্ক মেইক করতে পারে! একটা জিনিস বুঝতে হবে! শুধুমাত্র ক্লাব বেইজড পোলাপানই কিন্তু এনএসইউ রিপ্রেসেন্ট করে নাহ! জেনারেল স্টুডেন্টরাই এনএসইউ কমউনিটি রিপ্রেসেন্ট করে বেশি! এই জঙ্গি/ মঙ্গি কাহিনি গুলাও কিন্তু ২০১৩ এর পরেই শুরু হইসে। ২০১৩ এর পরেই কিন্তু আমাদের এমন একটা ধাক্কা খেতে হলো ! যাই হউক ! ক্যাম্পাসে সিগারেট খাওয়া বা সিসিটিভি সড়াতে বলা হচ্ছে না মোটেও এই পোষ্টে ! শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের সাথে স্টুডেন্টদের বিশেষ করে নরমাল স্টুডেন্ট এর engagement বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে এখন এইটা যেইভাবেই এনএসইউ এথরিটি করুক ! জানিনা ওই দিনগুলা আর ব্যাক আসবে কিনা তবুও সৃতিচারণ করি ! আর কয়েকটা ব্যাচ যাওয়ার পর হয়তো এই দিনগুলা সৃতিচারণ করারও কেউ থাকবে না।