গরুঃ পশুদের কাঁঠাল (পর্ব ২)
Boanthropy হচ্ছে এমন একটা মানসিক রোগ যা হলে মানুষ নিজেকে গরু ভাবে। (এরপর উক্ত সমস্ত চিন্তা ভাবনা এবং মন্তব্য একান্ত আমার।)
প্রতি ইঞ্চি পিৎজা ৪৫ টাকা হলে আড়াই কাঠা পিৎজার দাম কত? প্রতি বছর ভাদ্র মাসে ৩০০০ টন তাল পাকলে দেশের গড় তাপমান কত? গরু আর কাঁঠালে মিল কত? এ সবগুলো প্রশ্নের উত্তর হলঃ অনেক। পাওয়ার অদম্য ইচ্ছে মানুষের ধ্বংসকে আটকে রাখতে পারেনি ট্রয়ে, এ তো কোন ঘোড়ার ডিমের ঢাকা। রাস্তা ভর্তি কাঁঠালের চামড়া আর গরুর গোবরে। এতো থাকলেও যে চাওয়া যায় , কে জানত?
I’ll tell you কে জানত না, পুওর কাঁঠালের বাচ্চা কাঁঠাল। বৃথা জন্মেছিল এ দেশে। আমাদের চাওয়া পাওয়ার হিসেব মেটাতে গিয়ে জাতীয় ফল হয়েছে শেষ পর্যন্ত। জাতীয় কিছু হলে একটা বিশাল দুশ্চিন্তা, বাঘ মেরে খালপাড় করে দিয়েছে, মাছ মেরে নদীপাড় করে দিয়েছে, কাঁঠাল থাকবে তো? থাকার মত হলে অবশ্য থাকবে, স্মৃতিসৌধের বিচি দিয়ে তো আর ভর্তা বানানো যায় না, গেলে ওটাও থাকত না।
আমার পয়েন্ট হচ্ছে, কম খাওয়ার অভ্যেস সব ধর্ম ও অধর্মে বলা আছে, তাই বলে যা খাওয়া যায় না, সেগুলো দিয়ে বেল্ট/চিরুনী/অলমোস্ট মাংস বানানো কি ফরয? আমি সাজেক গিয়েছিলাম। ওখানে কিচ্ছু পাওয়া যায় না। মানুষ তিনশ টাকা কেজিতে মুরগি খেতে পায় না, বাঁশের কোড় খায়। খেতে সেই ভাল লেগেছে, নিশ্চই যুগের পর যুগ ধরে খেতে অনেএএএএক ভাল্লাগে ওদের।
মানুষকে বদলানো এত সোজা? নাহ, এত্ত সোজা না। তাই ট্রিকটা হচ্ছে নিজের সন্তানকে একবার ভাল শিক্ষা দিয়ে কোনোমতেই আর সেখান থেকে বের না করা। কাঁঠাল আর গরু দুইই নিষ্পাপ এ গল্পে, কিন্তু মানুষের সব দোষ দেখিয়ে গেলে হবে না। গরুর একটা purpose আছে, মানুষকে বাঁচতে সাহায্য করা, কাঁঠালের তাই। কিন্তু মানুষ গরু ও কাঁঠালের সাথে যেমনটা করে, সবকিছুর সাথেই তা করে। কবি Agent Smith বলেছেন,
It came to me when I tried to classify your species and I realized that you’re not actually mammals. Every mammal on this planet instinctively develops a natural equilibrium with the surrounding environment but you humans do not. You move to an area and you multiply and multiply until every natural resource is consumed and the only way you can survive is to spread to another area.
হুম্মম……… তারপর? তারপর গরু ও কাঁঠাল সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল। কচু করতে লাগল। গরু কাঁঠাল শেষ, খোদা হাফেয। Here’s a dead cow and a dead jackfruit hugging each other:

খোদা হেফয করতে পারেন, মানুষ পারে না। অথচ মানুষের আবিষ্কারের ক্ষমতা কিন্তু স্পষ্টতই অসামান্য। আমাদের সম্পদভিত্তিক হওয়ার দরকার নেই আসলে। আমরা গবেষণাধর্মী প্রাণী। গরুখোঁজা ব্যাপারটা আমাদের রক্তে। তাহলে Overconsumption এর দরকার নাই তো। (বিস্তারিতঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Overconsumption)
ফেসবুক জিনিসটা যে বানাইছে, সে কি নোবেল পাইসে এখনও? কে জানে পাইসে মনে হয়। এটা আসলে শুধু Time consume করে না, that’s not fair. অনেক তথ্য আদান প্রদান হয়, অনেক যোগাযোগ হয়। হয়ত মেসেঞ্জারে বেশি হয়, কিন্তু শুরুটা তো ফেসবুকে। তারপরও আমার প্রায় মনে হয় Time consume হচ্ছে অনেক, ফেসবুক বাদ দিয়ে টুইট কড়ি বা গ্র্যাম কড়ি। কিন্তু ফেসবুক কি আসলেই Time killer? নাকি আমরা সবকিছুকে কাঁঠালের মত করে পেতে চাই? "তুই আমার কাঁঠাল" বলে চামড়া নিয়ে টানাটানি করি।
আপনার সন্তানকে ফেসবুক ব্যবহারে উৎসাহিত করুন, ধমকায়েন না। ধমক আমিও খেয়েছি, খাওয়ার পর ২০ বছর হয়ে গেছে, এখনো আমার রাগ যায়নি, আপনার ছেলেমেয়েরও যাবে না। বরং ঝাড়ি দিতে পারেন, এটা informal বকা, গায়ে লাগে না। যথাঃ
ফেসবুক আসলে গরু বা কাঁঠাল না, এটার সবকিছু নিয়ে চিপার দরকার নাই। শুধু যে অংশটুকু খাওয়া যায় তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাক।
সমাজ কাঁঠাল না, যা অফার করে তার চেয়ে বেশি দিতে পারবে না। বেশি লিখখো না "তুই সমাজ, তুই খারাপ", সমাজ যা তাই। তার বেশি না, কমও না।
তোমার বউ কাঁঠাল না, জামাই হাটের গরু না, সবকিছু দিয়েই বেল্ট বানায়া পরতে যাইও না, ওর যে ব্যাপারটা মিষ্টি, সেটা ভুলে যাবা তাহলে। ভালবাসা গরু না যে, নাকে দড়ি দিবা, আর কাঁঠাল না যে মাথায় ভাইঙ্গে খাবা।
কাঁঠাল একটা ফল, গরু একটা প্রাণী। That’s it. Period. তোমার যা দরকার নাই, তা নিয়ে সময় নষ্ট কইরো না। আর যা প্রাপ্য, তা আদায় করে নিতে শিখ।
P.S Thank you, God, for cows, jackfruits and all these wondrous pieces of the missing puzzle that have not yet shown their beauties.
(সমাপ্ত)
