হেমেরা

মেসা-১

পূবদিকের জানালায় রোদ এসে পড়েছে। তাপ নিরোধক কাঁচ ভেদ করে রোদের তাপ ভেতরে আসতে পারছে না। অনেকখানি বিরক্তি নিয়ে জানালার দিকে এগিয়ে গেল মেসা। রোদ মেসার পছন্দ নয়। রোদকে সে ঘৃণা করে। পার্কের চত্ত্বরে ছোট শিশুদের খেলা দেখে মেসা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। একদিন মেসাও এই শিশুদের মত রোদে খেলা করত। সেদিন যে কত অতীতে ছিল তা মেসা মনে করতে পারে না। তার নামটিও ঠিক মেসা নয়। সে জানে না কে তার নাম মেসা রেখেছে। তবে তার গলায় মেসা লেখা লকেটটার কারণে মানুষজন তাকে মেসা বলে ডাকে।

“হতচ্ছাড়া হুডটা আবার আজকে গায়ে জড়াতে হবে”- মনে মনে ভাবে মেসা। হুডের আড়ালে লুকিয়ে চলা মেসার একদম পছন্দ নয়।

“আংকেল মেসা! চল ডিস্ক ছোড়াছুঁড়ি খেলি!” -প্রায় মেসার উপরে ঝাপিয়ে পড়ে ছোট্ট নিরিয়া। হুডের হাতার কাছে কিছু অংশ উপরে উঠে যায়। অনাবৃত চামড়ায় হঠাৎ রোদের স্পর্শে জ্বলুনি অনুভব করে মেসা। ধবধবে সাদা চামড়াটুকু হাল্কা গোলাপি থেকে গাঢ় হয়ে ওঠার আগেই ঢেকে ফেলে।

“এখন না নিরিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটু ঘুরে আসি তারপর আমরা খেলব।”

“না না চল আংকেল এখনি চল”। নাছোড়বান্দা হয়ে মেসাকে টানতে থাকে নিরিয়া। টপ করে নিরিয়াকে ঘাড়ে তুলে একপাক ঘুরিয়ে ফেলে মেসা। নিরিয়াকে অনেক পছন্দ করে সে। ছোট্ট নিরিয়াকে দেখলেই তার যেন কার কথা মনে হয় সে জানে না। কার কথা মনে হয় এরকম একটি লকেট গলায় ঝুলানো থাকলে খুব ভাল হত।

“কি বলেছি তোমাকে নিরিয়া?” কপট সুর করে বলে সে, “বেশি দুষ্টুমি করলে এই ছুঁড়ে দিব, ওই লেকের ওপারে গিয়ে পড়বে”।

খিলখিল করে হেসে উঠে নিরিয়া। সে জানে মেসা তাকে কখনোই ছুঁড়ে দিবে না। “ঠিক আছে আংকেল, কিন্তু ফিরে এসে আমার সাথে খেলতে হবে তোমায়।” মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে নিরিয়া বাচ্চাদের ভিড়ের দিকে ছুটে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে হাঁটা ধরে মেসা। রোদ পছন্দ করে না মেসা। কিন্তু পার্কের সবুজ ঘাসের উপরে জমে থাকা শিশিরে ঠিকরে আসা আলো তার ভাল লাগে। অনেক বছর আগে প্রায় সারাটা বছর জুড়ে দিন শুরু হত এরকম ঝলমলে রোদে। উজ্জ্বল সকালের নগরী ছিল হেমেরা। এরকম উজ্জ্বল সকাল এখন কালেভদ্রে দেখা যায়। বেশিরভাগ দিনে সূর্য লুকিয়ে থাকে হলদেটে মেঘের আড়ালে।

বিশাল হলঘরে মাত্র পনেরজন শিক্ষার্থী। তাদের ন’জনই আবার বৃদ্ধ প্রফেসরের কথার সুরের সাথে মাথা দুলিয়ে ঝিমাচ্ছে। লেখাপড়ার এই প্রক্রিয়াটি মেসার খুব মান্ধাতা আর অচল মনে হয়। চারপাশে এত আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও লেখাপড়ায় কেন তা লাগলো না ব্যাপারটি বেশ খাপছাড়া। প্রফেসর হিডলফ প্রাচীন সাহিত্যের কিছু একটা পড়াচ্ছেন। কি পড়াচ্ছেন তা জানতে আগ্রহ হয় না মেসার। মাঝেমাঝে সে প্রফেসর হিডলফের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। মুখে হাল্কা গোঁফের রেখাওয়ালা তরুণ হিডলফ প্রতিদিন তৃতীয় সারির ঠিক কোনার জায়গাটায় বসত। কি যেন নাম মেয়েটার মনে করার চেষ্টা করে মেসা। কুরিয়েন। হিডলফ বলতো কুরিয়েনের চুল থেকে অনেক সুন্দর ঘ্রাণ আসে। মেসা শুনেছে বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছে কুরিয়েন। নিঃসঙ্গ হিডলফের এখন প্রাচীন সাহিত্য ছাড়া আর কিছু নেই। হয়তো তার মতই বিষণ্ণ এই বৃদ্ধের জীবন। চারপাশে তাকিয়ে জেগে থাকা শিক্ষার্থীদের চালচলন দেখে মেসা। মানুষের চালচলন দেখে তার প্রকৃতি বের করা মেসার কাছে অনেক আনন্দের কাজ মনে হয়। প্রথম সারিতে একাই বসে থাকা ছেলেটা আজ প্রচুর পরিমাণে দুগ্ধজাত খাবার খেয়ে এসেছে। খাবারের ঘ্রাণ মেসার ভাল লাগে না। মনযোগ সরিয়ে নেয় ধূসর চুলের ছেলেটার দিকে। হিডলফের সাথে প্রায় প্রতিদিনই তর্ক করে ছেলেটা। ছেলেটার নাম জানে না এখনো। আজকে কেন জানি প্রথম থেকেই ধূসর চুলওয়ালা চুপ করে বসে আছে। মনে হয় সে এখানে উপস্থিত থেকেও নেই। অন্যকোন জগতের বাসিন্দা। ভাল করে লক্ষ্য করে মেসা। ধূসর চুলওয়ালার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা দ্রুত চলছে। মানসিক চাপে ভুগছে ছেলেটা। কি মানসিক চাপ সেটা বের করতে ইচ্ছে করছে না । আগ্রহের কেন্দ্রে এখন নতুন চশমিশ মেয়েটি। মেসার মনে হয় চশমিশ অনেক জটিল একটি চরিত্র। তার উপরটা আর ভেতরটা এক নয়। ভেতরেও বোধহয় একাধিক স্তর। চশমিশ খুব ভাল করে সারা দুনিয়াকে তার উপরের স্তরটি দেখিয়েই বিশ্বাস করিয়ে ফেলে। কারো সাথে ঝগড়া তো দূরের কথা, এমনিতে গায়ে পড়ে কারো সাথে কথাও বলে না। কিন্তু মেসা ভাবে চশমিশের সাথে কেউ লাগতে গেলে তার কপালে খারাবি আছে। একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে। ক্রিং ক্রিং বেল বেজে ওঠে। হাঁফ ছাড়লো মেসা।

পার্কে এসে বাচ্চাদের ভিড়ে নিরিয়াকে খোঁজার চেষ্টা করল। নিরিয়াকে কথা দিয়েছিল বিকেলে তার সাথে খেলবে। কিন্তু নিরিয়াকে খুঁজে পায় না। হয়ত বাচ্চা মেয়েটা ভুলে গেছে। রাতে একবার নিরিয়াদের বাড়ি যেয়ে দেখা দিয়ে আসবে। নাহলে আগামীকাল সকালে আবার কথা দিয়ে কথা না রাখার জন্যে মেসাকেই দোষ দিবে। ঘরে বসে মেসা অতীতের কিছু ছবি বের করে। হাতের ইশারায় দেয়ালের উপর একটা একটা করে ছবি বদলাচ্ছে। পুরনো একটা ছবিতে এসে থেমে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলঘরটির ছবি। এক কোনে দাঁড়িয়ে আছে মেসা। ঠিক মাঝখানে হিডলফ আর কুরিয়েন। অজানা কারণে মেসা এই যুগলটিকে অনেক পছন্দ করত। হিডলফের জন্যে সে আসলেই অনেক দুঃখ অনুভব করে। দিনের আলো স্তিমিত হয়ে আসছে। নিরিয়াদের বাড়ির দিকে যাওয়া দরকার।

নিরিয়াদের বাড়িটা হেমেরা নগরীর এক কোনার দিকে, আর ব্লকের চার নম্বর বাড়ি। বাড়ির সামনে আট-দশজন নারী-পুরুষ জমা হয়েছে। কোন মেয়ে মানুষের ফুঁপিয়ে কাঁদার আওয়াজ আসছে। কন্ঠটা মেসার পরিচিত। নিরিয়ার মা সুকি। ঘিরে থাকা মানুষগুলোর কেউ বা সুকিকে সান্ত্বনা দিচ্ছে, কেউ কেউ আবার নানানরকম প্রশ্ন করে চলেছে। সুকি কোনকিছুরই জবাব না দিয়ে মুখে হাত চাপা দিয়ে কেঁদে চলেছে শুধু। কি হয়েছে ঘটনাটা মেসার জানার দরকার। কাছে এগিয়ে গিয়ে সুকির কাঁধে হাত রাখে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে নিরিয়াদের বাড়ির বিকেল বেলা। সুকি রান্নাঘরে স্যুপ তৈরি করছে।

“মা! আমি আংকেল মেসার সাথে খেলতে যাচ্ছি।” — নিরিয়ার গলা।

“ঠিক আছে সোনামনি। কিন্তু দিনের আলো থাকতেই ফিরে আসতে হবে।”

“তুমি দেখো আংকেল মেসাই আমাকে ঘাড়ে করে রেখে যাবে হি হি।” হাসি না থামতেই ভয়ার্ত চিৎকার করে ওঠে নিরিয়া, “মা!”

দরজার দিকে ছুটে যাচ্ছে সুকি। মেসা সুকির প্রতিটি হৃদস্পন্দন টের পাচ্ছে। সুকির হৃৎপিণ্ডটা যেন তার গলা দিয়ে এখনি বেরিয়ে আসবে। নিরিয়ার কোন চিহ্ন নেই। দরজার কাছে কোন ধস্তাধস্তির চিহ্নও নেই। শুধু নিরিয়ার খেলার বলটি তখনো পড়ে আছে। সুকির চারপাশটা অন্ধকার হয়ে আসছে। সে জ্ঞান হারাচ্ছে।

সুকির কাঁধ থেকে হাত সরিয়ে নিল মেসা। মেয়েকে হারিয়ে ফেলার ধাক্কায় জ্ঞান হারায় সুকি। তার কিছুটা মেসাকেও স্পর্শ করেছে। মাথার ভেতরটা ঝিমঝিম করছে। আর কারো দিকে তাকায় না মেসা। মাথার হুডটা তুলে দিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসে। নিরিয়াকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে হবে।

হেমেরার প্রতিটা ইঞ্চি ধরে ধরে নিরিয়াকে খুঁজবে মেসা। চোখের পলকে একটা বাড়ির ছাদে উঠে পড়ে। রোডলাইটের মৃদু আলোতে হুড পরা মেসার অবয়ব ভৌতিক কোন সত্ত্বা মনে হয়। মেসা বুকভরে বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়। নিরিয়ার শরীরের গন্ধ তার চেনা। এদিকটাতে কোন খোঁজ নেই। দ্রুত একটার পর একটা ছাদ পেরিয়ে যায় মেসা। একটার পর একটা ব্লক, একটার পর একটা সেক্টর পেরিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা সেক্টরের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে চারদিকের বাতাসে নিরিয়ার শরীরের গন্ধ সনাক্ত করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। একে একে সাতাশটি সেক্টরে অনুসন্ধান শেষ। পনের মিনিট পেরিয়ে গেছে। এখনো নিরিয়াকে খুঁজে পায়নি। কিছুক্ষণ ভাবে। মেসা ঠিক করল এবার ব্লক ব্লক ধরে সে নিরিয়াকে খুঁজবে। ছুটে চলেছে মেসা। উত্তরদিকের বারোটি সেক্টরের প্রতিটি ব্লক খোঁজা শেষ। হতাশা বলে কোন অনুভূতির সাথে মেসা পরিচিত নয়। কিন্তু নিরিয়াকে খুঁজে না পেল তার কাছে প্রতিটা দিন খাপছাড়া মনে হবে। তের নম্বর সেক্টরের এন ব্লক। কয়েকটা কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কাউকে তাড়া করছে ওগুলো। মেসা এগিয়ে গেল। উষ্কখুষ্ক চুলের উদ্ভ্রান্ত একজন মেয়ে মানুষ। সুকির বয়সী। মেয়ে মানুষটি মাটিতে পড়ে আছে। হাউন্ডগুলো মেয়ে মানুষটির গায়ের উপরে উঠে বসেছে। ছুটে যায় মেসা। জ্বলজ্বলে রক্তলাল চোখে হাউন্ডগুলোর চোখের দিকে তাকায়। কিছুক্ষণের জন্যে স্থির হয়ে যায় ওগুলো। হিংস্র গরর শব্দ মিনিটের মধ্যে কুঁই কুঁই এ পরিণত হল। হাউন্ডগুলো মেয়ে মানুষটিকে ছেড়ে দিয়েছে আগেই। এবার উলটোদিকে ঘুরে দৌড়ে পালিয়ে গেল। পড়ে থাকা মেয়ে মানুষটির কাছে যায় মেসা। কোন আঘাত লাগেনি তবে তার চোখমুখে এখনো আতঙ্কের ছাপ। ভয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে রেখেছে আর অসংলগ্ন কথা বলে চলেছে। মেসা মেয়ে মানুষটিকে টেনে দাঁড় করায়। মেয়ে মানুষটি আরেকজন মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ খুলে। মেসাকে দেখে বলে ওঠে —

“আমার তিশানকে দেখেছো? আমার তিশান!” মেসার হুড টেনে ধরে —

“কোথায় আমার তিশান? কোথায় লুকিয়ে রেখেছো?” মেয়ে মানুষটি উত্তেজিত হয়ে মেসার শরীরে হাত দিয়ে আঘাত করতে থাকে। মেয়ে মানুষটির কপালে মেসা তার হাতের তালু স্পর্শ করে। মেয়ে মানুষটি শান্ত হয়ে যায়। মেয়ে মানুষটির নাম জেসি। তিশান তার ছেলে।

“মামনী, বাসায় চল” — জেসির কাপড় টেনে ধরে আকুল গলায় বলে তিশান।

“আরেকটু বাবা। এই দুটো প্যাকেজিং শেষ করেই আমরা বাসায় যাব।” — ছেলেকে আশ্বস্ত করে জেসি। আজকেও অন্ধকার হয়ে এল। ছোট বাচ্চাটাকে স্কুলের পর বাসায় রাখতে পারলে ভাল হতো। কাজের জায়গায় তিশানকে রাখা জেসির উর্ধ্বতন একদম পছন্দ করে না। সময় সুযোগ পেলেই দু চারটা বাঁকা কথা শুনিয়ে যায়। দুই একদিনের মধ্যেই এর একটা সমাধান বের করতে হবে।

“চল বাবা আমরা এখন বাসায় যাবো।” — তিশানের হাত ধরে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়।

“পাখি উড়ে পোকা উড়ে, গাড়ির চাকা বন বন ঘুরে। হি হি হি” — হাঁটতে হাঁটতে আপনমনে ছড়া কেটে চলেছে তিশান। ওর আদুল মুখের বুলিগুলো জেসির অনেক ভাল লাগে। তিশানই তার জীবনের সবকিছু।

রাস্তাটা বেশ আঁধারে। শুধু একটি কালো রঙের আরভি দাঁড়ানো একপাশে। গাড়িটির স্টেরিও থেক উদ্দাম হেভি মেটাল গানের আওয়াজ ভেসে আসছে। গাড়িটা পার হবার সময় জেসির কানে তীক্ষ্ণ আওয়াজ আঘাত হানে। তিশান একটা ভয়ার্ত চিৎকার দেয়। শব্দের তীব্রতায় জেসি তিশানের হাত ছেড়ে নিজের কান চেপে ধরে। ছায়ার মত কয়েকটা লোক আরভি থেকে বেরিয়ে আসে। কানে হাত চেপে মাটিতে শুয়ে পড়েছে তিশান। জেসি তিশানকে কাছে টানার চেষ্টা করতে গিয়ে হাত ছেড়ে দেয়। তীক্ষ্ণ শব্দ। কেউ যেন কানের পর্দায় সুঁই দিয়ে গুঁতো দিচ্ছে। ছায়ার মত লোকগুলো তিশানকে তুলে নিয়ে আরভির ভিতরে নিয়ে গেল। জেসি গলা ছেড়ে চিৎকার করে লোকগুলোকে থামতে বলে। হেভি মেটাল গানের আওয়াজে সেই শব্দ ঢাকা পড়ে যায়। জেসি হাজার চেষ্টা করেও আর নড়তে পারছে না। শরীরের পেশিগুলো মানছে না। সারা শরীর কাঁপছে। দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে আসে। আরভিটা দূরে সরে যায় আর তীক্ষ্ণ শব্দটি আস্তে আস্তে ক্ষীণ হতে থাকে। কান থেকে হাত সরিয়ে জেসি উঠে দাঁড়ায়। এলোমেলো পায়ে আরভির পেছনে পেছনে দৌড়ানোর বৃথা চেষ্টা করে। কিন্তু জেসির চোখ আর মানছে না। রাজ্যের ঘুম ভর করছে দু’চোখে। জেসি পড়ে যাচ্ছে। মাটিতে মাথাটা ঠুকে যাওয়ার আগেই জেসিকে ধরে ফেললো মেসা।

পরের পর্ব

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.