এসএসএফ কাহিনী (২)

গতকালকের কাহিনী লেখা শেষ না হতে হতেই আজকে আরেকখান কাহিনী হয়ে গেলো…

আজকে কানেক্টিং স্টার্টআপ বাংলাদেশের গালা রাউন্ড ছিলো। এই কানেক্টিং স্টার্টআপ প্রোগ্রাম ব্যাপক প্রেসার দিয়েছে, আমার ম্যানেজ করা প্রজেক্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন এটাকে বলা চলে। একদম স্ক্র্যাচ থেকে প্ল্যান করে জিনিষটাকে আজকের শেইপে নিয়ে আসা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যপার ছিলো। সারা দেশ থেকে ৪৩৭টা প্রজেক্ট হান্ট করে সেখান থেকে টপ ৫০ তে নিয়ে এসে আজকে তাদের পুরস্কৃত করা হয়। আর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয় সাহেব। দেশের এই পরিস্থিতিতে উনাকে চিফ গেস্ট করে একটা অনুষ্ঠানে আনা একটা যে কত বড় দায়িত্বের ব্যাপার সেটা শুধুমাত্র অর্গানাইজাররা জানেন।

এর মধ্যে ঠুস করে এক মিটিং-এ স্টেট মিনিস্টার পলক স্যার ডিসিশান দেন যে ৪৩৭ টা প্রজেক্টের সবাইকে এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে হবে। যদিও উনার মূল ইচ্ছা ছিলো দেশের স্টার্টআপ ড্রাইভের ব্যাপকতাকে তুলে ধরা, কিন্তু সিকিউরিটির দিক থেকে যে এটা একটা মহা ভুল এটা কারো মাথাতেই ছিলো না। যাই হোক, এই ৪৩৭ টা স্টার্টআপের সবাইকে আইসিটি ডিভিশান থেকে দাওয়াত দেয়া হলো, কিন্তু ইভেন্টের দিন তাদের আইডেন্টিফাই করে ভেতরে কে ঢুকাবে সেটা নিয়ে ক্যাচাল শুরু হয়ে গেলো। এই প্রোগ্রামের মূল উদ্যোক্তা, বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক অথোরিটির একজন কর্মকর্তা আছে, যিনি চিল্লাবে বেশি, কাজ কখনই করবে না, সে আরও ঝামেলা শুরু করলো। আমি মোটামুটি বুঝতে পারলাম আমার খবর আছে। কারণ এদেরকে আমি চিনিনা, কিন্তু এদের আইডেন্টিফাই করার মহা রিস্ক যে আমার মাথায় আসছে বুঝতে পারছিলাম।

অনুষ্ঠানের দিনে এসএসএফ এসে সকালে সুইপিং করলো, আর যেটা হওয়ার কথা, তারা মহা টাইট দিলো। একে তো কাউকে ঢুকতে দিবেনা, তার উপরে ফোন নিতে দিবেনা। এবং এই স্টার্টআপ গুলোর মেম্বারদের কে-ও অথোরাইজেশান ছাড়া ঢুকতে দিবেনা!! দেশের যেই অবস্থা, এই অবস্থায় কাউকে বিশ্বাস করাও কঠিন। এর মধ্যে ৯:৩০টা বাজে, মাননীয় আইসিটি এ্যাডভাইসার এসে পৌছাবেন ১০:০০টায়, মানুষকে তো ঢুকাতে হবে!! এর মধ্যে মাননীয় স্টেট মিনিস্টার পর্যন্ত দৌড়াচ্ছেন যাতে সব ঠিক থাকে। হাই টেক পার্ক-এর ঐ কর্মকর্তা চাচ্ছেন আমাকে ফাসাতে, এর মধ্যে সামি ভাইয়া আমাকে কল দিয়ে বললেন, “শাফায়েত এই জিনিষটা করো।” এখন সামি ভাইয়া বললে আমার জন্য ব্যাপারতা অন্য রকম, উনি আমাকে বললে আমি লোহাও চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারবো। এক বারের জন্য চিন্তা করলাম, তারপরে আল্লাহ’র নাম নিয়ে শুরু করলাম মানুষকে “আইডেন্টিফাই” করা, যেখানে স্টার্ট আপগুলো মেম্বার থেকে শুরু করে এ্যাম্বাসেডর, বিভিন্ন হাই লেভেল স্টেকহোল্ডার পর্যন্ত রয়েছে। এদের ৮০% কেই আমি চিনিনা, জাস্ট গাট ফিলিং থেকে এদের আইডেন্টিফাই করলাম। এক পর্যায়ে এসএসএফ এর সেকেন্ড ইন কমান্ড আমাকে বললেন, “একটা কিছু সমস্যা হলে আপনাকে ধরবো শাফায়েত।” আমার মনে হলো যে যা হওয়ার হবে, আই ইউল বি এ ম্যান টুডে।

যাই হোক, এই চরম সিকিউরিটির মধ্যে এতোগুলা অচেনা মানুষকে ঢুকানো, এবং আমার সাহায্যের জন্য একটা মানুষ ও না থাকার সময় এসএসএফের ইন চার্জ শফিক ভাইয়ার বিহেভিয়ার এতোই ফ্রেন্ডলি ছিলো, বলার বাইরে। মাথা ঠান্ডা রেখে সিকিউরিটি এনশিওর করা আর আমাকে ফুল অথোরিটি দিয়ে আবার আমাকে যেভাবে সাহায্য করে মানুষকে ঢুকানো হলো, তাতে আমার কনফিডেন্স অনেক বেড়ে গিয়েছিলো। আজকে এতোই টাইট সিকিউরিটি ছিলো, যে আনীর ভাইয়ের ছোট ভাই, মৃদুল ভাইয়া, যে কিনা সজীব ওয়াজেদ জয়-এর বন্ধু, কানেক্টিং স্টার্টআপের একজন উইনার, তাকেও ঢুকতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। কিন্তু আবারো এসএসএফ আমাকে ট্রাস্ট করে, যেভাবে আমার রেফারেন্সে সব উইনারদেরকে ঢুকতে সাহায্য করেছেন, আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।

যাই হোক, আজকের অনুষ্ঠান বেশ সুন্দর ছিলো। নিজের তৈরী করা একটা প্রজেক্টের হ্যাপী এন্ডিং দেখা গেলো। অনুষ্ঠানের শেষে উইনার স্টার্টআপগুলোর কাছে একটু রিকগনিশান পেয়ে, আর হিমিকা আপু আর সামি ভাইয়ার কাছ থেকে দু’টা থ্যাংকস পেয়ে মনের সব কষ্ট দূরে চলে গেছে।

Honorable Guests of the event with the Jury Board Members of Connecting StartUps Bangladesh

And thank you SSF. I feel like a man now. A man with balls.

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.