ক্যারিয়ার ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: আপনার মতামত কী?

“তুমি কী হতে চাও? ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার?”

ছোটবেলা থেকে এ প্রশ্নটা শোনে নি — এমন ছেলে-মেয়ে বাংলাদেশে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। আমাদের সমাজে এ মনোভাব অনেকটা প্রথার মতো যে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া ভালো জীবিকা নির্বাহের কোন উপায় নেই। আমাদের মোটামুটি সব প্রজন্মই এ প্যাঁড়ার মধ্যেই বড় হয়েছে।

আমাদের জাহাজ

দেশ গঠনে অন্য অনেক পেশার মানুষের মতোই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজনীয়। কিন্তু আগামীকাল বাংলাদেশের সব ছেলেমেয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলে আমরা ইউএস-ইউরোপ হয়ে যাবো না। দেশ-সমাজ বিশাল এক জাহাজের মতো। হাজার হাজার কলকব্জা দিয়েই এটা চলে; ইঞ্জিন আর চিমনী যেমন থাকা লাগবে, তেমনি নোঙর আর দূরবীনও দরকার। হুট করে একদিন জাহাজের সব যাত্রী “আমরা কেবল নোঙর আর ইঞ্জিন চাই” বলে চিৎকার করে উঠলে জাহাজের আর চলা লাগবে না।

আমাদের সমাজের এখন একই অবস্থা। আমরা জানিনা দেশের জাহাজ চলে কীভাবে। টুকটাক জানলেও আমরা কেও কালি-ধুলো মাখা চিমনী চাই না, বা দূরবীনে চোখ রেখে ভবিষ্যতের দূরদর্শী পরিকল্পনা করতেও আগ্রহী হই না। আমাদের জাহাজ আছে ঠিকই, কিন্তু দুনিয়ার অন্যান্য জাহাজের তুলনায় ধীর গতির। যেনতেন জাহাজ না তাও; ১৭ কোটি যাত্রীর জাহাজ! আমাদের চেয়ে বড় জাহাজ সারা দুনিয়ায় আছেই কেবল হাতেগোনা কয়েকটা।

যেমন চলে আমাদের জাহাজ

আমাদের জাহাজ যে কতটা ধীর গতির, সে ব্যাপারে ইদানিং কিছু তথ্য উঠে আসছে।

১. সুদীর্ঘ সময় ধরে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬% হয়েও আমাদের অর্থনৈতিক বৈষম্য তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

বৈষম্যের সূচক গিনি কোইফিসিয়েন্ট ১০০-এর কাছাকাছি অর্থ হচ্ছে সে দেশে ধনী-গরিবের সর্বোচ্চ বৈষম্য বিরাজ করছে। ১৯৮০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত আমাদের গিনি কোইফিসিয়েন্ট ২৩ থেকে বেড়ে আজ ৩৫ ছুঁই ছুঁই। অর্থাৎ একদিকে খুব অল্প কিছু মানুষ এ প্রবৃদ্ধি ভোগ করছে। অন্যদিকে গরিবরা দিন দিন আধুনিক গরিব হয়েছেন।

২. নলেজ ইকোনমি ইন্ডেক্সে ২০১২ সালের রিপোর্টে ১৪৫ টি দেশের মধ্যে আমরা ১৩০তম। কেবল এশিয়া, ক্যারিবিয়ান ও সাব সাহারান আফ্রিকার দরিদ্রতম দেশগুলো রয়েছে আমাদের পরে! ১৯৯৫ সালে এ ইন্ডেক্সে আমাদের পয়েন্ট ১০-এ ২.৪৭ থাকলেও ২০১২ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১.৪৯-এ। সম্প্রতি এডিবির রিপোর্টে (Innovative Asia: Advancing the Knowledge-based Economy ২০১৪) আমরা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ২৮টি দেশের মধ্যে ২৭তম; অল্পের জন্য মায়ানমার আমাদের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে।

নলেজ ইকোনমি ইন্ডেক্স বলে দেয় সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য উপযোগী কিনা।

৩. আরেকটু যোগ করি। ১৪ বছর আগে বাংলাদেশের শিক্ষায় জিডিপির বরাদ্দ ছিলো ২.২%, যা কমে গত দুই বছরে নেমে এসেছে ১.৯ শতাংশে। ২০১৬ সালের ওয়ার্ল্ড ডেভ ইন্ডিকেটর অনু্যায়ী শিক্ষায় বিনিয়োগে ১৬১ দেশের মধ্যে আমাদের র‍্যাংক ১৫৫তম।

৪. দেশের ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ২৫ শতাংশ তরুণ নিষ্ক্রিয়। তারা কর্মবাজারে নেই, শিক্ষায় নেই, নিচ্ছেন না প্রশিক্ষণও। এদের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ। আর দেশের উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি (তথ্যসূত্রঃ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চের (সিডার) ‘কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার পর্যালোচনা, ২০১৭’)। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার।

চলছে জাহাজ যাদের হাতে

এ তো গেলো ধীর গতির জাহাজের তথ্য। লাগামহীন অধঃপতন আমাদের পুরো জাহাজকে বিকল করে রেখেছে। অথচ দেশ ৬% জিডিপি বৃদ্ধির মোহে অন্ধ হয়ে আছে! এ বিকল জাহাজ চালানোর জন্য মানুষও নেই আমাদের। তাই দেশের কলকব্জা চালাতে আমরা মানুষ ধরে আনছি আরেক জাহাজ থেকে। কথাগুলো ফুটে উঠেছে আব্দুল মান্নানের বাংলা ট্রিবিঊনের কলামে (জানুয়ারি ১৫, ২০১৭)।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কমপক্ষে চার লাখ বিদেশি চাকরি করছেন। যাদের মধ্যে বৈধভাবে কাজ করছেন বিশ হাজারের মতো। এই বিদেশিরা, বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে পাঠাচ্ছেন। চার লাখ মানুষ পাঁচ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছেন। পারার কারণ হলো, তাদের যে কর্মদক্ষতা আছে, তা আমাদের দেশের ‘উচ্চশিক্ষিতদের’ মধ্যে নেই। অথচ যে আশি লাখ বাংলাদেশি বিদেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন, তার পরিমাণ বছরে গড়ে পনের বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ফিলিপাইনের ত্রিশ লাখ শ্রমিক বিদেশ থেকে বাংলাদেশের তিনগুণ অর্থ নিজ দেশে পাঠাচ্ছেন। এর প্রধান কারণ ফিলিপাইন থেকে যারা বাইরে কাজ নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের কর্মদক্ষতা আমাদের দেশের মানুষের চেয়ে অনেক বেশি আর তারা ইংরেজি ও আরবিতে কথা বলতে পারেন। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কমপক্ষে চার লাখ বিদেশি চাকরি করছেন। যাদের মধ্যে বৈধভাবে কাজ করছেন বিশ হাজারের মতো। এই বিদেশিরা, বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে পাঠাচ্ছেন। চার লাখ মানুষ পাঁচ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছেন। পারার কারণ হলো, তাদের যে কর্মদক্ষতা আছে, তা আমাদের দেশের ‘উচ্চশিক্ষিতদের’ মধ্যে নেই। অথচ যে আশি লাখ বাংলাদেশি বিদেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন, তার পরিমাণ বছরে গড়ে পনের বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ফিলিপাইনের ত্রিশ লাখ শ্রমিক বিদেশ থেকে বাংলাদেশের তিনগুণ অর্থ নিজ দেশে পাঠাচ্ছেন। এর প্রধান কারণ ফিলিপাইন থেকে যারা বাইরে কাজ নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের কর্মদক্ষতা আমাদের দেশের মানুষের চেয়ে অনেক বেশি আর তারা ইংরেজি ও আরবিতে কথা বলতে পারেন। ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এক পরিসংখ্যানে দেখিয়েছে, বাংলাদেশে শতকরা ৪৭ ভাগ গ্রাজুয়েট হয় বেকার, না হয় তিনি যে কর্মে নিযুক্ত এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট হওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না তার।

এ মুহূর্তে ইউরোপের সবচেয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী ও বেকারত্বের হার কম যেসব দেশে — জার্মানী, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, এদের মিল কোথায় জানেন? সরকারের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় জনবলের সমান বন্টন! সবার তো অফিস চাকরী লাগবে না, সবার জন্য সে পরিমাণ অফিসও তো নেই; কিন্তু কল কারখানা প্রচুর আছে, সম পরিমাণ বেতন আছে, সাথে আছে সম্মান।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে সেরা দ্বৈত শিক্ষা ব্যবস্থা হয়তো জার্মানির। সে দেশের ৫০ ভাগ তরুণ কোন না কোন কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের ৭০ ভাগ তরুণ কারিগরি শিক্ষায় নিয়োজিত (তথ্যসূত্রঃ PwC Young Workers Index October 2016)। সেখানে সবাই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার নয়। অনেকেই নার্স বা টেকনিশিয়ান বা কারখানার মেকানিক।

যুক্তরাজ্যেও রয়েছে ন্যাশনাল ক্যারিয়ার সার্ভিস। সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করে এমনকি আমাদের পাশের দেশের মোদী সরকার ২০১৫ সালে চালু করেন ন্যাশনাল ক্যারিয়ার সার্ভিস। তিনটি মূলমন্ত্র এর — স্কিল ইন্ডিয়া(কারিগরি শিক্ষা), ডিজিটাল ইন্ডিয়া (তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা) এবং মেড ইন ইন্ডিয়া (উদ্যোক্তাশিক্ষা ও স্টার্টআপ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি)।

মোদীকে আমি নিজেও কিছুটা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখি অতীতে গুজরাটে তার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য। কিন্তু এতটুকু বুঝতে পারি তার দলের বা সরকারের চেতনা এখনো ৪৭-এর দেশ স্বাধীনতায় আটকে নেই; তার চেতনা দেশের ভবিষ্যতে পড়ে আছে। তার সরকারের এমন উদ্যোগে এটাই স্পষ্ট যে তারা বুঝতে পারছে — ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কিছুই হবে না যদি দেশের জনগণ সে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি মেরামতের স্কিল/কারিগরি শিক্ষা না নিতে পারে।

ভারত এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভারতের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জাতীয় দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচি (ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট পলিসি) গ্রহণ করেছে। ২০২২ সাল নাগাদ ৫০ কোটি মানুষকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করার একটি লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে।
“বিপুল সম্ভাবনা ফসকে যাবে দক্ষিণ এশিয়ায়”, প্রথম আলো, ৬ মার্চ ২০১৪

আমাদের “ডিজিটাল বাংলাদেশে” যন্ত্রপাতির ইঞ্জিনিয়ার অনেকাংশে বিদেশী। বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে কাজের অনুমতি পাওয়া ২৬ হাজার বিদেশী দক্ষ কর্মী। এর অধিকাংশই যথাক্রমে ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও চীনের নাগরিক (তথ্যসূত্রঃ “বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিদেশীরা”, দৈনিক সংগ্রাম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)।

যেভাবে জাহাজ মেরামত করতে পারি আমরা

একটা বিষয়ে আমরা সবাই একমত হতে পারি, বহুদিনের অপরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠার ফল হলো এ অচলাবস্থা। জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬% তো আর আজীবন থাকবে না, তাই না? আপনার-আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে সে অর্থ বা সু্যোগ হয়তো বা থাকবে না এ ভঙ্গুর ব্যবস্থা ঠিক করার।

শিক্ষায় যথাযথ বিনিয়োগই একটা দেশকে আগামী দিনে বাঁচাবে, আর কিছুই না। আবার উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া সে উন্নতিও সম্ভব না। দেশে প্রতি বছর কয়েকশ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারই কেবল লাগে না, তার ১০ গুণ বেশি মেকানিক বা টেকনিশিয়ানও লাগে। দেশ উন্নতি করবে সবার মিলিত প্রচেষ্টায়; ডাক্তার, নার্স, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান, আর্কিটেক্ট, ইমাম-পুরোহিত, গবেষক, সৈনিক, দারোগা, ড্রাইভার, খেলোয়াড, কামার-কুমোর, অন্য যেকোন পেশার মানুষ — সবার অংশগ্রহণ জরুরী এ প্রক্রিয়ায়। এখানে দেশে সুশাসনের বিষয়টি চলে আসে। সাথে দরকার আমাদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরির্বতন। প্রথমটার বেলায় অনেকেই নিজের মতো চেতনা উদ্ধারে ব্যস্ত। দ্বিতীয়টার ব্যাপারে আমি অনেকদিন ধরেই ভাবছি, কী করতে পারি আমরা?

ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবার এমন উটকো সংস্কার এত গভীরে আমাদের। ভালো তথ্যের অভাবে এ সংস্কার ডালপালা মেলতে পেরেছে। এমন না যে, আমাদের সবার বাবা-মা তাদের সন্তানের উপর ডাক্তার ইঞ্জিয়ার হবার চাপ দেন। সমস্যা হলো, তাদের বেশিরভাগের কাছে ব্যতিক্রম কিছু করার উপায় জানা নেই। যদি একজন বাবা তাঁর সন্তানের পছন্দের আর্টিস্ট ক্যারিয়ার গঠনের জন্য উৎসাহও দিতে চান, সেক্ষেত্রে ভালো ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পান না। সন্তান কোথায় পড়বে, চলে পড়ে খাওয়ার মতো বেতন পাবে কি না, একজন আর্টিস্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে? শুধু এসব তথ্যের অভাবে তাঁরা অনেকেই সন্তানকে নিরুসাহিত করেন।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও একটি উদ্যোগ

২০১৪ সালে প্যারিসে পড়তে এসে আমার চোখে পড়লো বাচ্চাদের একটি বই — লিভ দে মেতিয়ের বা জব বুক বা পেশার বই। এমনিতে ফ্রান্সে রয়েছে শিক্ষা ও পেশা বিষয়ক তথ্যের জাতীয় অফিস। কিন্তু এ বইটা আমার কাছে বিশাল এক বিস্ময়ের বস্তু। গুপ্তধন খুঁজে পাবার অনুভূতি দিয়েছিলো এ বই! ফ্রেঞ্চ বাচ্চারা আর তাদের পরিবার জানেন, ফ্রান্স দেশ চালাতে কত ধরনের পেশা লাগে, বাচ্চারা চাইলেই কত কী হতে পারে। আর ফরাসীদের কাছে সব কাজ মোটামুটি সমান ও সম্মানীয়। আপাতদৃষ্টিতে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজও যে কীভাবে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে, সেটা উপলব্ধি করে তারা। রাস্তার ক্লিনার ছাড়া পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ভেঙ্গে পড়বে — যেকোন ফরাসি বাচ্চা মাত্রই জানে। ভাবলাম এ বইয়ের অনুবাদ করে বাংলায় লেখবো। মাস্টার্সের পড়াশোনায় তা চাপা পড়লো আপাতত।

বাংলাদেশের শিল্প কারখানায় এ মুহুর্তে কয়েক হাজার বিদেশী টেকনিশিয়ান কাজ করার কারণ হলো ১৭ কোটির এ দেশে সে পরিমাণ দক্ষ জনশক্তি নেই। দেশ ৬% থেকে ৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে কেবল আর ২ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারলে। ঠিক সে মুহুর্তে দেশের আরএমজি, টেক্সটাইল, লেদার ইন্ডাস্ট্রিতে কয়েক হাজার দক্ষ ডিপ্লোমা পাশ টেকনিশিয়ান লাগবে। অথচ দক্ষ জনবল নাকি নেই আমাদের! সব ইউনিভার্সিটি পাশ বেকার! বাংলাদেশের মতো ধুঁকে ধুঁকে চলতে থাকা রোগীটার জন্য একটা ভালো তথ্য কেন্দ্র বা দ্বৈত কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রনয়ণ — এ দুটি মেডিসিনের খুব দরকার।

সবারই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবার অসুস্থ সংস্কারের চক্র, তথ্য প্রাচুর্যের যুগে অভিশাপ হবে আর কত দিন? আর কত ছেলে আত্মহত্যা করবে, স্বপ্ন ভাঙবে, বাবা ছেলের সম্পর্ক নষ্ট হবে? দেশ থেকে আর কত মেধা বাইরে চলে যাবে? বিশাল এ পৃথিবীতে কত কিছু করার আছে, কত কিছু হবার আছে!

২০১৬ সালের দিকে অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম কোন বই লেখার চেয়ে একটা ওয়েবসাইট করতে পারলে হয়তো আরো বেশি মানুষের কাছেই পৌছাতে পারবো। সে প্রচেষ্টায় আমি আর আমার বন্ধুরা মিলে শুরু করতে যাচ্ছি নতুন একটি ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট লঞ্চ করার পরেই বিস্তারিত জানাবো এ ব্যাপারে।

ক্যারিয়ার সম্পর্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঠিক কেমন চিন্তাভাবনা করেন — সে ব্যাপারে আমাদের কিছু তথ্য লাগবে। প্রাথমিক ধাপে খুব ছোট জায়গা থেকে শুরু করতে চাই। আপাতত দেশে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন আর মোটামুটি ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারেন, তাদের মতামত প্রয়োজন আমাদের। উপকার হয় আপনারা নিচের এই অনলাইন সার্ভে পূরণ করে যদি আমাদের সাহায্য করেন।

বিশেষ ছবি কৃতজ্ঞতা: Solidarity Center/Flickr/CC BY 2.0


Originally published at survey.funush.com on April 5, 2017.