মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার

ডোনেট। অর ডোনেট ইওর প্রোফাইল। ইটস দ্যা লিস্ট ইউ ক্যান ডু!

১.

আমি আগে ভাবতাম টাকাপয়সা বা জিনিসপত্রই কেবল দান করা যায়। চ্যারিটির উদ্দেশে বা অন্য কোন মহৎ কাজে। সেটা যে আসলে সত্যি না, সেটা কয়েক বছর আগে টের পেয়েছি। আগে মানুষের কাছে ফেইসবুক ছিল না, স্মার্টফোন ছিল না, ইন্টারনেটের এরকম রমরমা অবস্থাও ছিল না। মানুষ পত্রিকা পড়ে নাহয় টিভি দেখে দেশের খোঁজখবর জানতে পারতো। এখনকার অবস্থাটা আসলে সেরকম না। এই জেনারেশনের তরুণদের কথা যদি বলি, তারা সম্ভবত সবার আগে কোন একটা খবর পায় ল্যাপটপে নাহয় স্মার্টফোনে ফেইসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে। আমি বাংলাদেশের কথাই বলতেসি, নাহয় টুইটারের কথাও এই প্রসঙ্গে চলে আসতো। উন্নত দেশগুলিতে ফেইসবুকের মতো টুইটারও খুব জনপ্রিয়। টুইটারের মাধ্যমে যেকোনো খবর খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে -এটা আমরা অনেকবার দেখেছি। রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়, তখন জিনিসটা টুইটারের “ট্রেন্ডিং” নামের একটা লিস্টে চলেও আসে -সবাই সেই লিস্ট থেকে তখন আরো দ্রুত ওই বিষয়টা নিয়ে আপডেট জানতে পারে।

এই ফিচারগুলি এখন ফেইসবুকেও আছে। গত কয়েকমাসে ফেইসবুক আসলে টুইটারের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম-ফ্রেন্ডলি ফিচার অ্যাডপ্ট করেছে, কিছু নতুন ফিচার তৈরি করেছে। সাংবাদিকরা যাতে টুইটার ছেড়ে ফেইসবুক বেশি করে ব্যবহার করতে শুরু করে, সেজন্য অনেক সাংবাদিকের প্রোফাইল ভেরিফায়েড করে দিয়েছে, যাতে করে ভেরিফায়েড প্রোফাইলের জন্য ফেইসবুকের যে এক্সক্লুসিভ অ্যাপ — ফেইসবুক মেনশনস, সেটা তাঁরা ইউজ করার সুযোগ পান।

যা বলছিলাম, সেটা হচ্ছে ফেইসবুকের নেয়া স্টেপগুলির জন্যই হোক, তরুণ প্রজন্মের নিজেদের আগ্রহের কারণেই হোক, ফেইসবুক এখন একটা নিউজ হাবের মতো কাজ করছে। যেকোন খবর পাওয়ার ওয়ান স্টপ শপের মতো বলা চলে। আমার বাবা এখনো সকাল বেলা প্রথম আলোই পড়েন, আমি আজকে কতোদিন সকাল বেলা পত্রিকা হাতে নেই নাই -ঠিক মনে করতে পারতেসি না! (আব্বুর জন্য কিছুদিন আগে একটা স্মার্টফোন কেনা হয়েছে, আমাদের বাসায় ওয়াইফাই আছে, কিন্তু তারপরেও আমার মনে হয় না আব্বু সহসা কাগজের পত্রিকা বাদ দিয়ে অনলাইনে পত্রিকা পড়া শুরু করবে!) তো ফেইসবুকের মাধ্যমে মানুষের কাছে কোন একটা জিনিসের খবর পৌঁছে দেয়া এখন অনেক সহজ দেখে, প্রচারণার জন্য, সেটা যে জিনিসেরই হোক, ফেইসবুকের কোন বিকল্প আসলে এই মূহুর্তে নাই। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার থেকেও, ফেইসবুকে কোন একটা জিনিস শেয়ার দিলে দ্রুত মানুষের চোখে পড়ে।

২.

এইটুকু ভূমিকা ছিল। যে কথাটা বলার জন্য আসলে এতোক্ষণ ধরে শিবের গীত গাইলাম, সেটা হচ্ছে মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার। অনেকেই হয়তো জানেন যে, দেশের স্কুলে পড়ুয়া শিশুকিশোরদের হাতেকলমে বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি একটা ল্যাবরেটরি বানাচ্ছে। জিনবিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নামে এই ল্যাবরেটরিতে থাকবে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং ইলেকট্রনিক্স ও রোবটিক্সের আলাদা আলাদা ল্যাব।

২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলের সদস্যরা। আইজেএসও তে মোট ১০০ নাম্বারের পরীক্ষা হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম্বার থাকে ব্যবহারিক পরীক্ষায়। আমরা যদি মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার গড়ে তুলতে পারি, আইজেএসও এর জন্য বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি নেয়া তখন অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ব্যাপারটা চিন্তা করলেই আমার ভীষণ আনন্দ আর উত্তেজনা হয়। আমাদের নিজেদের একটা ল্যাব হবে। যেই ল্যাবে আমরা যখনতখন যেয়ে কিছু একটা টেস্ট করে দেখতে মনে চাইল, সেটা করে দেখতে পারবো। আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে যে বাংলাদেশ দল যাবে, তারা এই ল্যাবে এক্সপেরিমেন্ট করবে। স্কুলের কোন একটা ছেলে বা মেয়ে বিজ্ঞান কংগ্রেসের প্রজেক্টের জন্য যে এক্সপেরিমেন্টটা স্কুলের টিচারের চোখ রাঙানির ভয়ে স্কুলের ল্যাবে করতে পারছে না, নাহয় স্যারকে বলতে সাহস পাচ্ছে না, সে এই ল্যাবে এসে নিজে নিজে সেটা করে যাবে। স্কুলের বাচ্চাদের জন্য আমরা যখন কোন এক্সপেরিমেন্ট দেখানোর প্রোগ্রাম করবো, এই ল্যাবে বসেই সব টেস্ট করবো, নতুন এক্সপেরিমেন্ট তৈরি করবো, মাঝেমাঝে দুই-একটা বিস্ফোরণও এই ল্যাবে ঘটিয়ে ফেলবো। এই সবই আমাদের স্বপ্ন। অনেকদিনের স্বপ্ন। মাকসুদুল আলমের মতো বিজ্ঞানীরা তো এই দেশে এভাবেই তৈরি হবে। জিনবিজ্ঞানি মাকসুদুল আলমের নামে এই ল্যাবে বাচ্চাকাচ্চারা যে শুধু এক্সপেরিমেন্ট করবে, তা না, তারা স্বপ্ন দেখবে। তারা স্বপ্ন দেখবে একজন গবেষক হওয়ার, সত্যিকারের বিজ্ঞানী হওয়ার।

তো, আমরা ল্যাব করার জন্য একটা জায়গা পেয়েছি। ফারসীম স্যার এর বাসার নিচতলায় ৪০০ স্কয়ার ফিটের একটা ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটটা এখন খালি। হুম, আসলেই খালি। ল্যাবের সফিসটিকেটেড সব যন্ত্রপাতি আমরা কিনে নিয়ে গিয়ে সব ঠিকঠাকভাবে সেট আপ করলে তারপরেই না আমাদের স্বপ্নের ল্যাবটা দাঁড়াবে। এই ল্যাব তৈরির জন্য যেসব ইনস্ট্রুমেন্ট প্রয়োজন হবে, সেসব কেনার জন্য প্রায় চার লাখ টাকা প্রয়োজন। এতো টাকা আমরা কোথায় পাবো?

মেডেল এবং সার্টিফিকেট নিয়ে আইজেএসওর মঞ্চে ফারহান। প্রথমবার আইজেএসও তে অংশ নিয়েই বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। যারা বাংলাদেশকে এরকম একটা গর্ব করার মতো জায়গায় দেখতে চান, তারা নিশ্চয়ই মাকসুদুল আলম ল্যাবের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন! একটা ভালো বিজ্ঞানাগার থাকলে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড এবং বিজ্ঞান মেলাগুলোর জন্য আমাদের ছেলেমেয়েদের প্রস্তুতি নিতে কী সুবিধাই না হবে!

সেজন্য আমরা ঠিক করেছি যে, সবার কাছে, দেশ-বিদেশের মানুষদের কাছে, যারা দেশকে নিয়ে ভাবেন, যারা চান যে ছেলেমেয়েরা হাতেকলমে বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাক, বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে তারা খুব ছোট ক্লাস থেকেই কাজ করুক, নিজেরা পেপার লিখে পাবলিশ করে ফেলুক, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভবনা নিয়ে, অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কার থেকে দূরে থেকে বেড়ে উঠুক, গুগল কিংবা ইন্টেলের বিজ্ঞান মেলায় আমাদের পাশের দেশের ছেলে বা মেয়েটার মতোই পুরষ্কার জিতে বুক ফুলিয়ে ঘরে ফিরুক, বাংলাদেশের নামটা সারা পৃথিবীর মানুষকে অন্যভাবে, বুকে গর্ব নিয়ে জানার সুযোগ করে দিক, আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড, ফিজিক্স অলিম্পিয়াড, বায়োলজি অলিম্পিয়াড কিংবা কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডে স্বর্ণের মেডেল জিতুক — এরকম মানুষদের কাছে ল্যাবটা গড়ে তোলার জন্য সাহায্য চাইবো। যে মানুষটা এই দেশটাকে ভালোবাসে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে এই দেশটাকে উন্নত একটা জায়গায় দেখতে চায়, তার কাছে সাহায্য চাইবো। তো, আমরা যেহেতু পত্রিকায় বিশাল বিজ্ঞাপন দিতে পারবো না, কারওয়ান বাজারের বিশাল বিলবোর্ডও ভাড়া নিতে পারবো না, তাহলে সাহায্য চাওয়ার উপায়টা কী? এই ল্যাবটার খবর মানুষের কাছে পৌছাবো কীভাবে?

একটা উপায় আছে। হুম, সেটা হচ্ছে ফেইসবুক। শিবের গীত মনে হয় এখন একটু প্রাসঙ্গিক হয়েছে!

৩.

মাকসুদুল আলম সায়েন্স ল্যাবরেটরির জন্য আমরা ফেইসবুকে একটা ক্রাউডফান্ডিং এর ইভেন্ট খুললাম এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে। ক্রাউড ফান্ডিং ব্যাপারটা হচ্ছে কোন একটা কাজের জন্য অনেক মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নেয়া। আমরা মাকসুদুল আলম ল্যাবের জন্য সেটাই তো করছি। ফেইসবুকে ইভেন্ট খোলার কারণ মনে হয় এখন আর বিস্তারিত বলতে হচ্ছে না –ভূমিকায় পুরো ব্যাপারটা তো বলেছি আগেই। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া ছাড়াই অনেক বেশি মানুষের কাছ পৌঁছানোর তো আর বিকল্প কোন উপায় নেই। তো, আগেই বলেছিলাম, এই ল্যাবের জন্য যেসব যন্ত্রপাতি, ফার্নিচার লাগবে, সেসব কিনতে প্রায় চার লাখ টাকা লাগবে। একটা বিস্তারিত পরিকল্পনা এখানে পাওয়া যাবে: https://goo.gl/1w19fJ

ল্যাবে আসলে অনেক রকম দেয়ার মতো জিনিস আছে। ল্যাবের জন্য আপনি সরাসরি টাকা যেমন দিতে পারেন, তেমনি আপনার কাছে যদি আগে থেকেই কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি থাকে, যেমন ধরা যাক মাইক্রোস্কোপ, স্লাইড ক্যালিপার্স, স্ক্রু গজ, আরডুইনো বোর্ড, মাল্টিমিটার, প্রিজম, ম্যাগনিফায়িং গ্লাস –এইসবও আপনি দিতে পারেন। কোন বিজ্ঞানের বইও দিতে পারেন, ল্যাব ম্যানুয়াল কিংবা ল্যাবে কাজ করা নিয়ে কোন বই থাকলে সেটাও দিতে পারেন। বাসায় হয়তো কোন অব্যবহৃত ফার্নিচার, যেমন টেবিল, চেয়ার, টুল এইসব আছে। এগুলিও দিতে পারেন, ল্যাবে কাজে লাগবে। ল্যাবে যন্ত্রপাতি রাখার জন্য আলমিরা, শেলফ –এইসব দরকার। পুরানো কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, স্ক্যানার এইসবও আমাদের লাগবে। এগুলি দিতে পারেন। আমাদের ল্যাবটা হবে মিরপুরের পশ্চিম মনিপুরে। আপনি যদি ইন্টারনেট কানেকশন দেয়ার ব্যবসা করেন, মানে আইএসপি হন, তাহলে হয়তো এক বছরের ইন্টারনেট কানেকশনের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। ইন্টারনেটের ব্যাপারটা বেশ জরুরি, ল্যাবে ইন্টারনেট কানেকশন সবসময়ই থাকা দরকার।

মোদ্দা কথা, মাকসুদুল আলম ল্যাব তৈরিতে সাহায্য করার জন্য আসলে অনেকগুলি ক্ষেত্র আছে ছোটবড়, আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করতে পারেন। দশ টাকাও দিতে পারেন, দশ হাজার কিংবা দুই লাখ টাকাও দিতে পারেন। আমি জানি যে আমার ফ্রেন্ড লিস্টে অনেকেই আছেন, যাঁদের জন্য এই অংকের টাকাটা আসলে কিছুই না। কিন্তু এই ল্যাবটা দাঁড়া হলে আমাদের পিচ্চিগুলিকে আসলে কেউ আর আটকিয়ে রাখতে পারবে না বিজ্ঞানের পরীক্ষানিরীক্ষাগুলি করা থেকে। এতোদিন তাদের মনে যেসব এক্সপেরিমেন্ট করার চিন্তা জমে ছিল, সব চাইলে দুম করে বাস্তবে তারা করে ফেলে আনন্দ নিয়ে বিজ্ঞানের বইতে ডুব দিতে পারবে। আমাদের আইজেএসও টিমের জন্যেও ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার একটা ভালো ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

মাকসুদুল আলম ল্যাবের জন্য টাকা পাঠানোর জন্য কয়েকটা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আপনি বিকাশে টাকা পাঠাতে পারেন। বিদেশে থাকলে পেপাল দিয়ে পাঠাতে পারেন। এছাড়া এসপিএসবির ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও টাকা জমা দিতে পারেন। পেমেন্টের পদ্ধতির বিস্তারিত আপনি এসপিএসবির ওয়েবসাইট এবং ক্রাউডফান্ডিং এর ইভেন্টের ডেসক্রিপশনে পাবেন, নাহয় চাইলে নিচের ছবিটার কিউআর কোডটা স্ক্যান করতে পারেন। আমি এখানে বিস্তারিত লিখছি না।

টাকা পাঠানোর পদ্ধতিগুলি বিস্তারিত জানার জন্য ছবির বামপাশের কিউআর কোডটি স্ক্যান করুন।

ফেইসবুকের কথায় ফিরে আসি। ক্রাউডফান্ডিং এর ইভেন্টটার মেয়াদ ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। ফেইসবুকের কোন একটা আজব সিস্টেমের কারণে এটার মেয়াদ বাড়ানো যাচ্ছে না। তো, ইভেন্ট শেষ হয়ে গেলেই তো আর আমাদের ফান্ড জোগাড় হয়ে যাচ্ছে না। কাজেই এই ক্যাম্পেইনটা চালু রাখার জন্য, এবং এসপিএসবির আর কয়েকটা মেজর কাজের মতো, মাকসুদুল আলম ল্যাবের জন্য আমাদেরকে সম্ভবত একটা ফেইসবুক পেইজ খুলতে হবে। সেটা খোলা হলে আমি লেখাটা এডিট করে লিংক যোগ করে দিব।

আমাদের ইচ্ছে মে মাসের ১ তারিখে ল্যাবটা উদ্বোধন করা। জটিল সব বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি দিয়ে ভর্তি একটা ল্যাব উদ্বোধন করে হুড়মুড় করে ভিতরে ঢুকে সব জিনিসপত্র ঘেঁটেঘুটে দেখার একটা ভীষণ ছেলেমানুষি ইচ্ছা আমার ভিতরে আছে। সেটাকে আপাতত অনেক কষ্টে চেপে রেখেছি। সত্যি করে বললে, এই ইচ্ছেটা আসলে আমার একার না। এসপিএসবিতে আমি যাদের সাথে কাজ করি, সবার মনেই আসলে এই ইচ্ছেটা আছে। এই ইচ্ছেটা সত্যি হবে, যদি আপনি এগিয়ে আসেন।

৪.

#SupportMASLab -এই হ্যাশট্যাগটা আপনি মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার সংক্রান্ত পোস্টে ব্যবহার করতে পারেন।

তো এই মূহুর্তে আপনি ল্যাবটার জন্য কী করতে পারেন? ডোনেট করতে পারেন। সেটা তো একটু আগেই বললাম। কিন্তু আপনার যদি কোন কিছু দেয়ার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে? তখন কি আপনি কোনভাবে সাহায্য করতে পারবেন না! পারবেন। কীভাবে? বলছি। যে ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইনটি শুরু হয়েছে, আমরা চাই সেটির খবর সবার কাছে পৌঁছাক। এজন্য কিছু প্রোফাইল পিকচার এবং কাভার ফটো তৈরি করা হয়েছে। এই ছবিগুলো আপনি আপনার প্রোফাইলে ব্যবহার করতে পারেন। একদম প্রথমেই বলছিলাম না, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া ছাড়া অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর একমাত্র বিকল্প উপায় হচ্ছে ফেইসবুক। আপনি টাকা হয়তো ডোনেট করতে পারছেন না, সমস্যা নেই, ডোনেট ইওর প্রোফাইল। আপনি যখন এই ছবিগুলি কাভার এবং প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করবেন, তখন আপনার মাধ্যমেই হয়তো আপনার কোন টাকাপয়সাওয়ালা বন্ধু কিংবা পরিচিত জনের কাছে এই ক্রাউডফান্ডিংয়ের খবরটা পৌঁছাবে। তিনি হয়তো আমাদেরকে তখন সাহায্য করতে পারবেন, মাধ্যমটা কিন্তু আপনিই হবেন তখন। ছবিগুলো এখানে পাবেন: https://goo.gl/jVEiiY । এছাড়া ক্রাউডফান্ডিংয়ের ইভেন্টটাতে আপনার বন্ধুদেরকে ইনভাইট করতে পারেন, ইভেন্টটাকে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

সো, যদি আপনার সামর্থ্য থাকে, সরাসরি সাহায্য করুন। যদি না থাকে, ডোনেট ইওর প্রোফাইল। ইটস দ্যা লিস্ট ইউ ক্যান ডু। আপনার এইটুকু সদিচ্ছাই হয়তো মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার তৈরিতে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। চেষ্টা করতে দোষ কী!


মাকসুদুল আলম ল্যাব নিয়ে মুনির স্যার এর একটা লেখা পাওয়া যাবে এখানে: www.munirhasan.com/maslab । এই সংক্রান্ত যেকোন প্রয়োজনে, কোন কিছু জানার দরকার হলে আপনি ফোন দিতে পারেন ইবরাহিম মুদ্দাসসের (01671159435), খালিদ বিন ইসলাম (01688824507) কিংবা আমাকে (01965958108)। এছাড়া ইমেইল করতে পারেন maslab@spsb.org এই ঠিকানায়।