লেখালেখি

বরাবরের মতই অনিদ্রাতে ভুগছি। বই, মুভি দুটোর ভান্ডারই শেষ। চোখে ঘুম কোনভাবেই আনতে না পেরে কাগজ-কলম নিয়ে বসলাম। কিন্তু কি লিখব?

স্কুলের চৌহদ্দিতে পা রেখেছে, এমন যে কারো কাছেই সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি পেশার একটি হল লেখক হওয়া। আরো স্পষ্ট করে বললে কবি হওয়া। উল্লেখযোগ্য অপর পেশাটি হল ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায় আমার জীবনের লক্ষ্য রচনায় লেখা চিকিৎসক হওয়া। জীবনে প্রত্যেকেই একবার না একবার হলেও লেখালেখির চেস্টা করেছে। এবং অধিকাংশ সময়ই এই চেষ্টাটি শুরু হয় কবিতা লেখার মাধ্যমে। জানিনা মানুষ কেন কবিতা লিখতে এত বেশি আগ্রহী। কারন আশেপাশে যখন কোন কবিতা পাঠকের সন্ধান করি, সেটা মহাকাশের অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের মাঝে প্রাণের সন্ধানের মত কঠিন মনে হয়। মানুষ সম্ভবত লেখালেখিকে সস্তায় জনপ্রিয়তা অর্জনের মাধ্যম ছাড়া অন্যকিছু ভাবেনা। …. যাহ্‌! কলমের কালি শেষ হয়ে গিয়েছিলো, আমার মত ব্যাক্তির কাছে একটা কলমের কালি শেষ হওয়া আকাশে ধূমকেতুর আগমনের মতই বিরল ঘটনা। আশা করি বুঝতে বাকি নেই আমার লেখাপড়ার দৌড় কতদূর। যাহোক লেখালেখি এতটা জনপ্রিয় পেশা হলেও প্রকৃত লেখকদের লেখায় প্রায়ই দেখি লেখালেখি কতটা দুরূহ সে সম্পর্কে আক্ষেপ।

সারাদিন কতশত চিন্তার মধ্যে থাকি, কতশত কথা মনে আসে। একাধীক বিখ্যাত লেখককে বলতে শুনেছি মনে যেটা আসে সেটাই লিখতে। কিন্তু কাগজ-কলম নিয়ে বসলেই চিন্তার দৌড় কেন জানি শামুকের থেকে ধীর হয়ে যায়। লেখকেরা নাকি লেখেন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে মনের কল্পনা মিশিয়ে। সুতরাং আমার মত ঘরকুনো ‘antisocial’ মানুষ লেখার বিষয়বস্তু কেন খুঁজে পায়না, সেটা বুঝতে বেশি কাঠখড় পোড়াতে হয়না। কতরকম লেখককেই লিখতে দেখি, কেউ লেখার জন্য লেখে, কেউ বলার জন্য লেখে, কেউ দেশের জন্য লেখে, কেউ লোকের জন্য লেখে, কেউ নিজের জন্য লেখে আবার কেউ লেখার উদ্দেশ্য পরোয়া না করে আপনমনে লিখে যান। অবশ্যই সৎ-অসৎ আরো অনেক উদ্দেশ্য নিয়েই লোকে লেখে, কিন্তু মন কেন জানি তাদের লেখক বলতে স্বীকার করতে প্রতিবাদ জানায়। এই লেখালেখির কারনে বহু লেখক নন্দিত হয়েছেন, আবার নিন্দিতও হয়েছেন প্রচুর। শাস্তিও পেয়েছেন অসংখ্য লেখক। যেকোন সফল লেখকই একইসাথে নন্দিত এবং নিন্দিত।

কিছুকাল আগেও কোন নতুন লেখকের লেখক হিসেবে স্বীকৃতির মাপকাঠি ছিলো বিভিন্ন স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকায় কবিতা ছাপা হওয়া এবং পরবর্তী ধাপে বইমেলায় একখানা বই প্রকাশ করা। কিন্তু তারও আগে জন ডোনের মত কবিকে কবিতার বই বের করতে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়নি। বিজ্ঞাপনও দিতে হয়নি। মানুষ তার কবিতা একজন আরেকজনকে শোনাত, নিজেদের নোটবইতে লিখে রাখতো। বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যানে সেই যুগের যেন একটা পুনরাবৃতি দেখি। তাই ইন্টারনেটে যতই আবর্জনা আসুক, সুন্দর কিছুর সৃষ্টি হলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনাতেই মুহূর্তে ছড়িয়ে যায়।

অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে মানুষ মতামতও দিতে পারে তৎক্ষণাৎ।

যেকোন লেখারই সমাপ্তি ঘটে নির্দিষ্ট কাঠামো মেনে নিয়মের মাধ্য দিয়ে। তবে যেহেতু আমি লেখক নই, নিয়ম-কানুনের বেড়াজাল আমার না মানলেও চলে। লেখা এখানেই শেষ করছি। আর লিখতে ইচ্ছা করছেনা!

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.