জিহাদ ও শহীদের ফজিলত সম্পর্কিত দশটি সহীহ হাদিস
.
১) আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রশ্ন করা হলঃ হে আল্লাহর রাসূল, কোন কাজ জিহাদের সমতুল্য হতে পারে? তিনি বললেনঃ “তোমরা তা করতে পারবে না”। তারা দুই অথবা তিনবার একই প্রশ্ন করল। প্রতি বারই তিনি বললেনঃ “তোমরা তা করতে পারবে না”। তৃতীয় বারে তিনি বললেনঃ “আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় জিহাদকারী লোকের সাথে এমন লোকের তুলনা হতে পারে যে লোক অক্লান্তভাবে নামায-রোজায় ব্যস্ত থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ তা’আলার পথের মুজাহিদ ফিরে না আসে”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬১৯]
.
২) আনাস ইবনু মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “আমার পথে জিহাদকারীর জন্য আমি নিজেই যামিন। আমি তার জীবনটা নিয়ে নিলে তবে তাকে জান্নাতের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেই। আমি তাকে (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) ফিরিয়ে আনলে তবে তাকে সাওয়াব বা গানীমাত সহ ফিরিয়ে আনি”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬২০]
.
৩) খুরাইম ইবনু ফাতিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় কিছু ব্যয় করে (এর বিনিময়ে) তার জন্য সাতশত গুণ সাওয়াব লেখা হয়”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬২৫]
.
৪) মুআয ইবনু জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যে মুসলমান লোক আল্লাহ তা’আলার পথে উষ্ট্রীর দুইবার দুধ দোহনের মধ্যবর্তী (সময়ের পরিমাণ) সময় জিহাদ করল তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে গেছে। আল্লাহ তা’আলার পথে যে লোক আহত হল অথবা আঘাতপ্রাপ্ত হল, এই জখম কিয়ামতের দিবসে আরো তাজা হয়ে উপস্থিত হবে। এই জখমের রং জাফরানের মত হবে এবং এর ঘ্রাণ কস্তুরীর মত সুগন্ধময় হবে”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬৫৭]
.
৫) আবু নাজীহ আস সুলামী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় যে লোক তীর ছুড়লো তার জন্য রয়েছে একটি গোলাম মুক্ত করার অনুরূপ সাওয়াব”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬৩৮]
.
৬) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা’আলার পথে মৃত্যুবরণ করা সকল পাপের কাফফারা হয়ে যায়”। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বললেনঃ ঋণ ব্যতীত (তা ক্ষমা করা হয় না)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “ঋণ ব্যতীত”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬৪০]
.
৭) কা’ব ইবনু মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “সবুজ পাখির মধ্যে শহীদদের রূহ অবস্থান করে। তারা জান্নাতের বৃক্ষ সমূহের ফল ভক্ষণ করে”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬৪১]
.
৮) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা’আলার নিকট সঞ্চিত সাওয়াবের অধিকারী যে কোন বান্দার মৃত্যুর পর তাকে পৃথিবী এবং এর সকল কিছু দিলেও সে আবার পৃথিবীতে চলে আসা পছন্দ করবে না। কিন্তু যখন শহীদ ব্যক্তি শাহাদাত লাভের ফযিলত ও মর্যাদা প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পাবে তখন সে আবার দুনিয়াতে আসতে আগ্রহী হবে, যাতে সে আবার আল্লাহ তা’আলার পথে শহীদ হতে পারে”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬৪৩]
.
৯) মিকদাব ইবনু মা’দীকারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “শহীদের জন্য আল্লাহ তা’আলার নিকট ছয়টি পুরস্কার বা সুযোগ আছে। তাঁর প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সাথে সাথে তাঁকে ক্ষমা করা হয়, তাঁকে তাঁর জান্নাতের বাসস্থান দেখানো হয়, কবরের আযাব হতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়, সে কঠিন ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে, তাঁর মাথায় মর্মর পাথর খচিত মর্যাদার টুপি পরিয়ে দেওয়া হবে। এর এক একটি পাথর দুনিয়া ও তাঁর মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। তার সাথে টানা টানা আয়তলোচনা বাহাত্তর জন জান্নাতী হূরকে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁর সত্তরজন নিকটাত্মীয়ের জন্য তাঁর সুপারিশ কবুল করা হবে”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬৬৩]
.
১০) আবু হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় একটি সকালের অথবা একটি বিকালের ব্যয় পৃথিবী ও তার মধ্যকার সব কিছু হতে উত্তম”। [জামে আত তিরমিজি, অধ্যায়ঃ জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬৪৯]