যুদ্ধরত কাফির জাতির সাথে মুসলিমদের আচরণ বিধান

.

১৯৫৬ সালে মিশর ও ইসরাঈলের মাঝে সুয়েজ খাল নিয়ে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে ইসরাঈলের সাথে দুটি কাফির রাষ্ট্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সও ছিল এবং পুরো যুদ্ধে তারা ইহুদিদের মূল সাহায্যকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ঐতিহাসিক এ যুদ্ধে যুদ্ধরত কাফির রাষ্ট্রগুলোর পুরুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সাথে মুসলিমদের কিরূপ আচরণ করা উচিত এবং তাদের ক্ষেত্রে কিরূপ কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত তা শাইখ আহমাদ শাকির রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ

.

ব্রিটিশরা সুয়েজ ও এর সংলগ্ন এলাকাতে কি করেছে তা আমরা দেখেছি। তারা সাধারণ নিরপরাধ জনগণকে হত্যা করেছে। নারী শিশুদের বিরুদ্ধে শঠ আচরণ করেছে। পুলিশ অফিসার ও বিচারকদের উপর আক্রমণ করেছে। বস্তুত ছোট অথবা বড় কেউই এদের আগ্রাসন থেকে ছাড় পায় নি।

.

তারা শত্রুতার সাথেই এর ঘোষণা দিয়েছে। তাদের এ ঘোষণা স্পষ্ট ও খোলামেলা। কোন সন্দেহের অবকাশ, ভদ্রতা কিংবা এড়িয়ে যাবার কৌশল ছাড়াই। তাই এ কারণে ওদের রক্ত ও সম্পদ মুসলিমদের জন্য হালাল। বিশ্বের যে কোন দেশের প্রত্যেক মুসলিমের উপর এটি ফরজ যে, তারা ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে এবং ওদের (পুরুষদেরকে) হত্যা করবে, যেখানেই ওরা থাকুক না কেন, বেসামরিক কিংবা সামরিক যাই হোক। কারণ তারা সবাই শত্রু এবং তাদের সবাই যোদ্ধা ও সৈনিক। তারা প্রতিনিয়ত ধোঁকাবাজি ও আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

.

বস্তুত তাদের নারী ও শিশুগুলো ইসমাইলিয়া, সুয়েজ এবং বার সাইদের মুসলিম পথচারীদের সাথে কোন ধরনের লজ্জা-শরম ও অস্বস্তিবোধ ছাড়াই চরমপন্থায় হিংস্রতার বুলি ছুড়েছে। এরা এক কাপুরুষোচিত জাতি। যেখানে তারা শক্তিশালী যোদ্ধা দেখতে পায় সেখান থেকে পিছু হটে, আর যেখানে বিলাসিতা ও দূর্বলতা দেখে সেখানেই অগ্রগামী হয়। তাই তাদের সামনে দূর্বল হওয়া বা ওদেরকে কোমলতা দেখানো এবং ক্ষমা করে দেওয়া মুসলিমদের জন্য অবৈধ।

.

“আর তাদেরকে হত্যা করো যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে”। [সূরা বাকারা, আয়াত ১৯১]

.

আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে যুদ্ধে নারীদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। এ নিষিদ্ধতা একটি সুস্পষ্ট কারণের সাথে সংযুক্ত, তা হলো তারা যোদ্ধা নয়। এ জন্যই দেখা যায়, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সময়কার এক যুদ্ধে নারীদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল এবং তিনি বললেন, “সে তো যুদ্ধ করতে আসে নি”। এভাবেই তিনি ওদের নারীদের হত্যা নিষিদ্ধ করেন।

.

কিন্তু এখন তাদের নারীরা সৈনিক, যারা তাদের পুরুষদের পাশাপাশি যুদ্ধ করছে। আবার সৈনিক নয় এমন নারীরা পুরুষের মত আচরণ করছে। ওরা কোন ধরনের বাঁধা ও ভীতি ছাড়াই মুসলিমদের গুলি করে। তাই ওদের হত্যা করা হালাল। শুধু তাই নয় বরং নিজ দ্বীন, প্রাণ ও ভূমি প্রতিরক্ষার জন্যে তা হলো ফরজ। সে সব দূর্বল নারীরা যারা কিছুই করতে সক্ষম নয় তারা এ মাস’আলার আওতাভূক্ত নয়।

.

এই হুকুম ওদের এমন স্বল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা এখনও বয়ঃসন্ধিকালে উপনীত হয় নি। এভাবে ওদের দূর্বল, রুগ্ন ও বৃদ্ধদের মাঝে যারাই যুদ্ধ করে বা আগ্রাসন চালায় তাদের হত্যা করা হয়। আর যারা এমনটি করে না, কারো জন্য উচিত নয় তাদের ক্ষতি করা। কিন্তু ওদের এবং ওদের নারীদের বন্দি হিসেবে রাখা যেতে পারে।

.

সূত্রঃ যুদ্ধরত কুফফার জাতির সঙ্গে মুসলিমদের আচরণ-বিধান

.

আল মুহাদ্দিস শাইখ আহমাদ শাকির আল মিশরি রহিমাহুল্লাহ