একজন-

ফেসবুক ডি এ্যাক্টিভেট রেখেছিলাম খানিকক্ষণ… হ্যাঁ, আই কোর সিটি…. যাক গে… ওতে এখন আর আমার করনীয় কিছু নেই, বাদ দে… আমি এইরকম সিচুয়েশানগুলোতে আমাকে একটু ভয়ংকর আমানবিক দেখায়, লোকজন নির্বিকার ভাব টায় চমকে যায়

আসলে প্রচণ্ড রকম যুক্তির মানুষ তো, তাই দু:খ কষ্টের আগেও যুক্তি খুঁজে নি, হাহাহা

একজন-

এখন আমি যদি ভয়ংকর দুশ্চিন্তা করে জেগে থাকি তাহলে কি ওখানে মানুষটির বাঁচার সম্ভাবনা বাড়বে? বাড়বে না… তো সুতরাং দুশ্চিন্তা না করে কোনো সৃষ্টি বা লেখার কাজ করাই বেটার

আজকে একটা লেখা আনবো, আমার পরের প্রোজেক্টটা কিরকম হবে কি জাতীয় তার ছবি ফুটে উঠেছে… ভাষাংবুরু বলে যেটা শুরু করেছি… ওই প্রোজেক্ট টা হচ্ছে ক্রিয়েটিভ কো অপারেটিভ — সৃষ্টিপোসৃষ্টি

আরেকজন-

Tumoar bhetor ekhon ki cholchhe seta bojha ar ekta manusher pokkhe oamsomvov…asole erokomobosthy manush jukti khoje jokhon tar kichhu korar thake na… Mon take boka banananor chesta kore…

একজন-

সবটাই ঠিক বলেছিয, শুধু বোকা বানানোর চেষ্টা টা ছাড়া… আগে বানাতাম নিজেকে বোকা, এখন আর বানাই না… তার উপায়টা খুঁজে পেয়েছি

সেটা হচ্ছে যেকোনো সিচুয়েশান বা পরিস্থিতি একটা সার্টেন নাম্বার অফ মানুষের জন্য প্রযোজ্য বা বরাদ্দ থাকে

আমরা যখনই তেমন কোনো সিচুয়েশানে, অস্থির হই, আশ্রয় খুঁজি

ত্রান খুঁজি

এই খুঁজতে গিয়ে পাগলের মতো একটা পয়েন্টে কি খুঁজছি সেটাই ভুলে যাই

মানে ধর একটা সিচুয়েশানে, কেউ মারা গেল, আমার ভয়ংকর কষ্ট হলো, আমি চাইলাম ভাগ করতে, কেন।চাইলাম? না যাতে কষ্টটা কমে, তাই তো?

বেসিক জায়গা একদম, একটা এ্যামাউন্ট অফ কষ্কট বা পেইন আমি নিজে বিয়ার করতে পারছি না, তাই ভাগ করে নিচ্ছি

দেখবি মানুষ কি করে, এই জায়গাটাই ভুলে যায়, সে হয় একসাথে অনেকের সাথে ভাগ করতে চায়, শোক সহ্য করতে পারে না

আল্টিমেটলি কি করে, না যা ছিলো বিষাদ সেটাকে বিলাপে পরিনত করে

কারন যেকোন বিষাদ এক নির্দ্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের জন্য প্রযোজ্য… তার বেশী মানুষকে ইনভলভ করলে বিষাদের বেসিক কেমিস্ট্রি বদলে যাবে

আরেকজন-

আমিও একটা জিনিস এ খুব বিশ্বাসী , যে কষ্ট ভাগ করার জিনিস নয় বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে। এমনিতেই মানুষ কোট পড়া কঙ্কালের মতো ঘুরে বেড়ায়, চশমা ভরে উঠলেও পোকাকে দোষ দেয়। কেউ এখন নিজের কষ্টের প্রতি conscious নয়। তাদের সাথে নিজের কষ্ট ভাগ করে কি হবে বলো !

একজন-

আসলে আমরা না নিজেদেরকে খুব সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চাই না যেমন ধর মৃত্যুসংবাদ বহু মানুষকে দেওয়া নিয়ম… অনেক লোকে আসা, শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে, নীচু স্বরে কথা বলে, কিন্তু কেন?

কি সেই কারন? একজনের প্রিয়জন বিয়োগ হয়েছে, তার সেই কষ্ট কখনোই অফিসের কলিগ ছুঁতে পারবে না, তবু সে আসে

সাদা কাপড় পরে মৃদু স্বরে কথা বলে, বা পাশে এসে দাঁড়ায়.. এই যে পাশে দাঁড়ানো মানে কি? কেন পাশে দাঁড়ানো? ওপরে দাঁড়ানো বা নীচে দাঁড়ানো নয়?

কেউ কখনো জিজ্ঞেস করেনা কেন চালু হয়েছে এই প্রথা

কেউ ভাবে ভাগ করে নিতে… কেউ সহমর্মী হতে হতে চায়, কিন্তু কেন? সহমর্মী হলে কি মরা লোক বেঁচে উঠবে? উঠবে না

এর কারন অনেক গভীরে

শোক মানুষকে উন্মাদ করতে পারে… তাই শোক প্রকাশের শব্দ বিলাপ প্রলাপের অনেক কাছাকাছি

এক থাকে শোক, আরেকটা বিষাদ আরেক্ট উদাস

ফলে যাতে মানুষ সেই উন্মাদনায় আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারে, তাই মানুষ শোককে বিষাদে কনভার্ট করে

আর নিজেকে উদাসে… উদাস মানে উত্তরের দাস… আমি উত্তর খুঁজছি, যে উত্তর খুঁজে পাইনি, তার দাস হয়ে আছি

আর এই শোক থেকে বিষাদ আনতে লাগে নির্জন

মানুষকে নিজের শোক সহ একান্ত হতে হয়, একা হতে নেই, একান্ত হতে হয়, একার অন্তে যে বিন্দু সেখানে যেতে হয়

আর তাই লাগে নির্জন, একা থেকে একান্ত অবধি যে রাস্তা তার নাম নির্জন

আরেকজন -

পাশে আছি, সেরে যাবে , সাবধানে যেও, এসব আর শুনতে ভালো লাগে না। আরে বাবা আমাকে গাড়ি বা ট্রেন যেভাবে নিয়ে যাবে সেভাবেই না যাবো। অনেকে মানুষকে সুই ভাগে ভাগ করে দেয় ইমোশনাল আর ইন্টাললেকটুয়াল। আমি মনে করি কেউ যদি ইমোশনাল না হয় তাহলে তার পক্ষে ইন্টাললেক্টওয়াল হওয়া নিরামিষ বিরিয়ানির মতো। ইমোশন ওভার হয়ে গেলে সে অন্য একটা dimension এই চলে যায়, কিন্তু এমন একটা সময় আসে যখন তার মাথায় স্ট্রাইক করে , একি আমি কেনো কাঁদছি ? কেনো হাসছি? তখন তার ভেতরে থাকা সমস্ত স্মৃতি, অবজেক্টিভ এলিমেন্ট গুলোতে লজিক খাটাতে শুরু করে, একেবারে মানবিক উপায়ে,…. অনেকে ভাবে সে ইন্টাললেক্টওয়াল জন্য তার কোনো কষ্ট হয়না.. আমার তো তাদের উপর বেশি খারাপ লাগে

এবার নির্জন কি করে হবে? একজন মারা গেল, আমার স্বজন, আমি তার সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলে চলে গেলাম তা তো হয় না

একজন-

এক্সাক্টলি, তুই যেটা বলছিস এর নাম কনশাসনেস, কনশাসনেস পার হয়ে গেলে সেটা হয় ওভার কনশাসনেস, অতিসচেতন, সেটি আবার ভীষণ ক্ষতিকর

তো সেইজন্য ওই গোল্ডেন রেশিও বা ব্যালেন্সটার প্রয়োজন হয়… শোকের ফলে বিষাদে আসতে না হয়… তা হলে প্রমাদে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

আসতে হয়, না হয় লিখেছি আগেরটায় ভুল করে

শোকের পর নির্জন হলেই মানুষ প্রকৃত বিষাদ অনুভব করে

সেই বিষাদ মানুষকে প্রমাদ আক্রান্ত বা উন্মাদ হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়, আর এই নির্জন হওয়ার প্রথা থেকে এই বহু মানুষের আসা… জনহীন স্থানে নির্জন বসত করে, নির্জনে জনহীন বসত করে না… লোকে খুব গুলিয়ে ফেলে দুটো, নির্জনের অনেক স্রষ্টার মধ্যে একটা স্রষ্টা হচ্ছে জনহীনতা

তাই প্রথাটি রয়েছ্ব, যেহেতু শোকে আক্রান্ত মানুষ সঙ্গে সঙ্গে কোনো জনহীন স্থানে যেতে পারে না, তাই জন নিজে আসে তার কাছে

যাতে অনেক মানুষের ভিড়ে তার একলা বোধ, সে বোধ করে এত মানুষ আসছে, এরা কেউ তার শোক ছুঁতে পারছে না, তখনই সে নির্জন হতে থাকে

ওইজন্যই আমাদের প্রথা মৃত্যুবাড়িতে গিয়ে বলা “ আমি তো আর আপনার কষ্ট বা বেদনা টা বোধ করতে পারবো না, তবু বলি শক্ত থাকবে না” মানে যা হয় বলা হয় ফর্মাল

আরেকজন-

জনহীন আর থাকলো কোথায় ? দুদিন ফোন অফ রাখলেই , ফোনের ওপর থেকে অনেকে বলে “কিরে মরে গিয়েছিলি নাকি ?” তারা ইন্টালেক্ দেখতে গিয়ে ভাবে না যে কতটা বোকা নয় “বোকাচোদা” প্রমান করে ফেলে,

এগুলো ঝাট জ্বালিয়ে দেয়

একজন-

কেউ শোক ভাগ করে নিতে আসে না, মানুষ আসে এই কারনেই যে দেখো আমি চেষ্টা করছি তাও তোমার শোক ছুঁতে পারছি না… এত লোকের মধ্যে একমাত্র “ভাগ্যহীন” তুমি, এখান থেকেই সেই প্রথার উদ্ভব… মানুষকে দিনে একলা থাকতে দিতে হয়, আরে একলা থাকবে কি করে? যদি না একলা থাকা আর একলা না থাকা দুটো ডিসটিংক্ট জায়গা তৈরী হয়

- কিন্তু প্রথা মানতে মানতে আমরাও বিশ্বাস করতে শুরু করি ভাগ করে নিচ্ছি… বরং উলটো, এটা জানাতেই আসা যে দেখো আমি চাইলেও পারবো না ভাগ নিতে

আরেকজন-

এখন কার সবথেকে বড় প্যারাডক্স আমি বুঝি যে সবার সবার দরকার , কিন্তু কারোর সাথে কোনো দরকার নেই

একজন-

তখনই মানুষ প্রকৃত নির্জন হয় আর শোক থেকে বিষাদ জন্মায়

সেখান মানুষ হয় উত্তরের দাস বা উদাস

আরেকজন-

আমি বলবো উন্মাদ দাস ,

একজন-

এখনকার সবচেয়ে বড়ো প্যারাডক্স হচ্ছে মানুষ ভুল করতে শেখে না, যেন ঠিক করাটাই হলো শেখা, আর যা নাশেখার সেটাই ভুল

ভুল করতে শেখে না বলে, একসময় গিয়ে যা শিখতে পারে না, তাকেই ভুল ভাবে

যে দাসের আর কোনো দরকার নেই, শেকলে বাধা থেকে থেকে উন্মাদ হয়ে গেছে, যার আর কোনো সারপ্লাস ভালু নেই

মানে নেই বলতে নেইই

ভুল করা না শিখলে মানুষ নিজেকে ভুল ভাবতেও শেখে না

কিছুই নেই

আমি ভুল, এই ভাবনা সৎ ভাবে আসা এটা সোজা কথা নয়.. ভুল এক গভীর উপলব্ধির জিনিস

ওই জন্য পুরানে সর্বত্র অনুশোচনা একধরনের তপস্যা, যে তপস্যার শেষে রত্নাকর বাল্মীকি হয়

আমরা অনুশোচনার মানেটাই এত সঙ্কীর্ণ করে নিয়েছি যে শোচনীয় আর অনুশোচনীয় ঘটনার মধ্যে কোনো তফাত রাখি না

চরম রেওয়াজ লাগে, শিক্ষা লাগে নিজেকে ভুল বা নিজের দোষ উপলব্ধি করার…. তাই সর্বত্র দোষ বা ভুলের পর নির্বাসন ইত্যাদি অভিশাপের প্রথা ছিলো আগে… ওগুলো শাস্তি নয়, ওগুলো ছিলো ওই দোষ বা ভুলের গভীরে গিয়ে উপলব্ধি

যুধিষ্ঠির সহ পাণ্ডবদের ১৩ বছরের বনবাসে যেতে হয়েছিলো, আমরা ভেবে নি ওটা অন্যায় হয়েছিলো ওদের সাথে, শকুনির চক্রান্ত.. এ্যাকচুয়ালি বেদব্যাস ওটা স্পষ্ট করে দেখিয়েছিলেন, দ্যুতক্রীড়ায় সমাধান করতে চেয়ে যুধিষ্ঠির যে ভুল করেছিলেন, তার উপলব্ধির জন্য ওই চৌদ্দ বছর লেগেছিলো, প্রকৃত উপলব্ধি

প্রকৃত সত্যটা বোঝা যে ভাগ্য কর্মের মধ্যে রয়েছে, কর্মের মধ্যে দিয়ে যে সাফল্য আসে তাই সৌভাগ্য, আর কর্ম ছাড়াই সাফল্যের রাস্তা নিতে গেলে আসে দুর্ভাগ্য

আরেকজন-

বাসুদেবও এর বাইরে নয়।

একজন-

মহাভারত পিওর কনশাসনেসের আখ্যান

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.