দেবীটি জানিও-

সে এক উজবুকের ধর্ম যার পূজার উপাচারে সশব্দ থাকেন
যে করাল ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয় সে এক নকলধর্ম্ম খেলনা করালীর
যে শব্দ তোমার গলায় নয় বারুদের কন্ঠস্বরে বাজে
যে শব্দের কোনো ফিসফিস নেই, উঁচু নীচু গ্রাম নেই, যে শব্দে মৃদু নেই
ভাষা নেই, সে শব্দ শুধু অমানুষ ধর্মে কোনো মূর্খ মূর্ত্তিখেলার পাশে হয়
আমি জানি শব্দে মূর্ত্ত হয় পাগলিনী, যেমনই পাগলী হোক
আমি জানি সে রূপের প্রতিমা, যেইরূপে খুশি দেখি তাকে
রাত রূপে, আলো রূপে, বা নিজেরই তীব্র অরূপে
সেখানে শব্দ সেই মধুবিন্দু হতে আসে, একবিন্দু মধুশব্দ
যার গর্ভে উৎস জন্মালো, সেই মধুবিন্দু দেখি, সেও একফোঁটা
কালো উন্মাদিনী যার থেকে শব্দ শুরু হলো, তার মধ্যে ডুবে আছে
আকাশ মধুগাঢ় আলোরা মধুকূল মানুষ মধুময় মা টি মধুমতী
পৃথিবী মধুতে আতুর, সেই মধুক্ষরণে ভুবনভোলানো জন্ম অবিরল
চলে, সে জন্মের দাত্রী দাতা নেই, সেই জন্মের কোনো পর নেই
স্বয়ং জন্ম একটি স্রোত, মানুষ মধুময়, বাতাসে মধুবয়, সেই কাল
সেই কালো এক স্বয়ংস্রোতা পূর্ণমধুনদী, তার এক মুহূর্ত স্তব
মুহূর্তগন্ধা এক বোধ পাগলীর নিজস্ব হঠাৎখানি এক রূপ দিয়ে
থামলো প্রতিমা……


এই নিঃশ্বাস নিলে, এখন শব্দ কোরো না, একটি শব্দ মানে
একটি নিঃশ্বাস নিঃশব্দবঞ্চিত হলো, হাওয়ার অনাথ হয়ে চলে গেল
তার ঘরবাড়ি একবিন্দু তোমার, একবিন্দু অট্টালিকা তার
ম্লান কেল্লার ভাষায় খাঁ খাঁ করছে তার রূপ, তার রূপদগ্ধ হও
দেখো সে ঘন কালো গাঢ় অরূপ দরোজা, ভুবন নির্জন ভেবে
অসংকোচে, অকাতরে খুলেছে নিজেকে আর অপারে যাবে এক পা
বাড়িয়ে হঠাৎ…
তোমাকে দেখেই থমকে গেছে…
তোমার সামনে থমকে আছে কপাটখোলা তোমার ভুবন
তোমারই একবিন্দু কি অতিকায় দেখো, সেখানে ক্ষন মহাক্ষন,
মহাক্ষণিকের বর্ণ দাঁড়িয়ে রয়েছে, সমস্ত রঙ মিশে গেছে,
তোমাকে দেখে লজ্জ্বায় মাথা নীচু করা আব্রহ্মাণ্ড আলোটিই কালো
জগতের এক বর্ণ তোমার সামনে থমকে রয়েছে
পরিচয় করো, কেন শব্দ করো? লাজুক সংবেদনে দেখো
হৃদকন্ঠে উচ্চারিত যে শব্দ নিঃশ্বাসের সেইই নিঃশব্দ
কোন ভীষণ ভাষার মতো তাকে আমি দেখি…
কলমের মতো সেই উচ্চারণের কালি
বুক ভরে নাও, দেখো
একমাত্র সেই ভীষণ ভাষায় অসংখ্য শব্দ
মাত্র দুটি শব্দে করা যায়। নিজেক অসংখ্য করো
শব্দ কোরো না


জানিও জানানোর পর-


সেই ভীষণ ভাষায় আমি “দেবীটি জানিও”
বলে বলে নিজের ভেতরে বহু দূর গিয়ে দেখি
সেখানেও রয়েছে নিকট, তমময়ী দেবীটির মতো
রাত্রি রাত্রি গন্ধ যার গায়ে, নিজের ভেতরে বহু বহু দর থেকে
দেখি কূল ও কিনারা সুদূরে সিঁদুরে একাকার
লাল শব্দটিরও পূর্বে নিঃশব্দ লালঞ্চ নিয়ে একটি দীর্ঘ উঠেছে
লেখা বা লোক বা অলোক ঈশ্বরী কবিতা কিছু নয়
একা দীর্ঘ অতিকায়, উদয় ভেঙে তার স্বয়ং গড়ায়
তুমি যেন তোমারই কুসুম এইভাবে কাছে এসো
আমার বা আমিশব্দ, যেকোনো কারোর কাছে
কোনো তফাৎ নেই ও দুজনের মাঝে
সান্দ্র গাঢ় চাল ও চলন নিয়ে নিজের ওপরে ঘনিয়ে ওঠো
দেখি, দেখবে মানুষ অনেক নয়, দেবীর মতোই একজন
আর তারপরে লীনতপ্ত এক লাইন নেমে আসে
একাকার, একলা ঠাকুরের একলাইন ঠাকুরাইন
একটি দীর্ঘ উদিত হলো, কালোর মাধবীবোধের পর
“মধুময় আলোর পাহাড় আমার দেবীটি জানিও” লিখি
সেই যে ভীষণ ভাষায় শব্দ নেই তবু
এক নিঃশব্দ লাজুকে থমকে ঈশ্বরী তার দীর্ঘ ঈ
প্রাণের ভেতরে প্রাণের মায়ের মতো নামে
এ তো সরল ভুবনধর্ম, অলৌকিকের লোভ করো কেন?
ধর্মশূন্য লোক আমি এই অপূর্ব্ব সঞ্চার কালিতে লিখেই জেনেছি……

Like what you read? Give প্রহরাজ a round of applause.

From a quick cheer to a standing ovation, clap to show how much you enjoyed this story.