ভাষাংবুরুর লেখাগুলি — অজীব লেখার জীবন

আপেল মন্ত্রে ওঠে, ডালিম স্তোত্রে জাগে -

আপনার শোভা হতে সক্ষম একটি লেখার জন্য আমি সেই বিকেল থেকে সমুদ্রে ডুব দিয়ে আছি। আমি না হয়ে অন্য কেউ দিতো কি দেয় কি দেবে না, এটিকে আমি নির্দ্বিধায় অপ্রযোজ্য পৃথিবীতে ঢুকিয়ে দিলাম। আসলে কাহিনীতো আপনারই তাই আপনার জানা। মণিমাণিক্য খচিত জলের শহরে এক ফকিরের ছিলো উলোঝুলো বসবাস — যার চুলে ডিমের গন্ধ আর চোখে গহীন মাছের সাঁতার। এবং বৈষ্ণবীর ছিলো কোমরের অতলান্ত ঢেউ। তিনি তাঁর কিম্ভূতিনীকে নিবেদন লিখে লিখে আমাদের প্রার্থনার জায়গা সংকুচিত করেছেন। কে যেন শুধালো কি খেয়েছি আমি। হায়, কি করে বোঝাই যতো শুধাও ততো সুধাও খেয়ে ফেলি আমি। আর এই অভিমানী শব্দের লস্করে মারাত্মক জখম জন্মগত নিয়ে যে লুকিয়ে রয়েছে সে ছিলো প্রকৃত সত্যের সুন্দর প্রমিত বদমাশ। আপনার।

অমর্ত্যজন-

অপূর্ব এই অমর্ত্য প্রয়োগ… আমি লাফিয়ে বন্ধ করি আলো আর তাকাই এই বাক্যটির দিকে ফের…… দেখি জোছোনার চৌষট্টি কলা অপরূপ বিভঙ্গে শরীরী শরীরী আওয়াজে ডাকে…… পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তাকে শিস বলে মনে হয়……
বা পৃথিবীর সমস্ত নদীদের আহ্‌গুলোএকসাথে বাঁধিয়ে রাখলি তুই আকাশে সামান্য অমর্ত্য লেখা লিখে

ডালিম মন্ত্রে জাগে, আপেল স্তোত্রে ওঠে-

এই যে সন্ধ্যে আজ চাঁদ ওঠাবে নাকি সর্বাধিক বড়ো, আর সর্বোত্তম ক্ষ্যাপা হয়ে যাবে আজ পৃথিবীর সমস্ত আহত। এরকম গুঞ্জরণে একটি লোহাকন্যা আলমারি দেখি বয়ে বয়ে আনছে তার অন্দরের যতো যতো যতো জখম বোতাম

ওগুলো যে অতি কি বলবো, মানে লেখার যে প্রানীয়তা, লেখার ভেতরে যে নানারকম ঘন্টা, শাঁখের আওয়াজ, নানা ধূপের গন্ধ সব মিলিয়ে একটা ইন্দ্রিয়াতীত জিনিস, তোর লেখাতে যা আমি মুগ্ধ মানে আক্ষরিক গুণ্মুগ্ধ হয়ে পেতাম। পৃথিবীতে যখনই কোথাও কোনো এক ঘটনের প্রাণীয় লেখা হয়। জানাস নিজেকে, তার থেকে হাজার লক্ষ মাইল দূরে নিশ্চিত কোথাও একটা মায়ের কিনারায় অঘোর শিশুটি ঘুমের গোলাপে হেসে ওঠে। তাকে ঘিরে সময় জলের মতো সহজ, আর বাতাস পৃথিবীর পেলব অট্টালিকা ভেসে আছে। যখনই কোথাও কোনো লেখাটির দিকে পূর্ব্ব লেখার লোক হেঁটে এলো, অগোছালো ভাসা ভাসা,দিগ্‌বিদিকের গায়ে পথের দাগ কেটে। নিশ্চিত জেনে রাখ সে সময় পৃথিবীতে কোথাও না কোথাও তো আকাশ গর্ভবতী। পরের মুহূর্তটি পূর্ব্বের জরায়ু থেকে সূর্য ছিঁড়ে আনা,আর রূপসী রক্তে ভাসা দেবী সকালশালিনী। কোথাও লেখাটির সর্বশেষ যতিটি বর্ণালী যার প্রান্তে লোকটি আলোতে লাগলো মানে ভুবনে কোথাও না কোথাও অন্ধকার ভেঙে একটা মানুষ হেসে উঠবেই।

বস্তুত লেখাটি মানুষ করলি তুই। এই গাঢ় বাক্যটি বুঝলি বালম। চমকালি বুঝি? হা হা তার নাম শ্রীমতী বুঝলি বালম, দেখতে চাঁদের আর্ধেক। যখনই কোন কারন ছাড়াই হঠাৎ মনের মধ্যে মুচকি ঢুকলো, জানবি তখন কোথাও না কোথাও একটা লেখাতে শ্রীমান দারুনবরন নামলেন। তাক করলেন। তাকে তাকানো করলেন শ্রীমতী বুঝলি বালম। ভুবন তাকালেই লেখা এক আনন্দ,বাক্য স্বর্গের অভ্যেস, শব্দ সম্পর্কে গন্ধর্ব তার। একে মেরে ওকে কেটে তাকে বিরোধাভাসে রেখে যে দূরসম্পর্কের অন্য জন্মায় তার প্রভাটি এখানে মনের প্রবাসী কাঁচ খোঁজে,বেলজিয়ান কিরণেরা ছিটকে উঠছে ক্ষুব্ধসঞ্চারে, দু কথা শুনিয়ে নক্ষত্রে জটিল আকাশ,ক্ষত্রিয় খ্যাতি হাতে তালিকা জড়বস্তুর, সাজে যে আসে সে কখনোই লেখা নয়। সে এক কালপুরুষের যার হাতের ক্ষমতার নীচে সারমেয় দেখা যায় যে রাতের অতিকায়, এটুকুই মাত্র, সে তো লেখা নয়, নক্ষত্র ক্ষমতার রূপরেখা। রাতের লেখাটি থাকে সহজ অন্ধকারে, যেখানে আলো এক আহত সরলরখা,চাঁদের কন্ঠস্বরখানি পূর্ণিমা তার দানায় দানায় যেসব ঈশ্বরী পোকার কণিকা থোকায় থোকায় জমে আছে জোনাকীমঞ্জরী। হতে পারে না। রূপদুগ্ধ গলা অন্য নামের যোকোনো কারোর সাথে কথা বললেই আমার ভেতর থেকে মখমলের কিংখাব খুলে হাজার সূর্যের ধারের মতো একটা ভাষা বেরিয়ে আসে।

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.