ভাষাংবুরুর লেখা

পূর্বকথা-

কোনো এক জ্যোৎস্নায় ব্যস্ত রাত্রে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলো ভাষাংবুরুর অঞ্চল। সাঁওতালে আকুল বুলবুল জীবনকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যে আলো এসে হাঁটছে নদীতে তার নাভির পরের কোনো স্থানে ঔজ্জ্বল্য চঞ্চল হয়ে আছে দেখে আমি ফের শস্য মোহ নিয়ে অনুরূপ আলোটির জমি ও জমির রক্তগুলি আমি জরীপ করছি, দস্তাবেজ যা আছে তা অনুভূত নিজস্ব মানুষের চেহারায়, আমি আচমকা চোখের দরজা খুলে দেখি, একি, নাভি, নদী, শস্য, জমি, জমির রক্ত সমস্ত কিছু এক সমগ্র হয়ে গেছে। সমগ্র আলোর এক অক্লান্ত আমার চারিদিকে!!
ক্ষণিকের জন্য স্মৃতি আসে গেল জন্মবতী বছর সে এক মাহেন্দ্রমর্মক্ষণে আমি পদ্মভুবনে পুঁথি ও নরম আলোর গন্ধে বড্ডো বুঁদ ছিলাম। পাশে ছিলো নীলিমার ফুল, যাকে অস্ফূটে বলি “উঁহু উঁহু নীলোৎপল নীলবাসি এভাবে হয় না। ঈষৎ আরো ঈষৎ হয়ে যাও তার”। প্রচণ্ড গরমে সে কেঁপেছিলো….

ভাষাংবুরুর তুমি-

ধরে নাও তুমি সকালে এক অতিকায় ঘরে ফেরা পিঠে নিয়ে বাইরে গেছো, রাস্তায় ছড়াতে ছড়াতে। এবার ফিরছো সন্ধায় ওই ঘরে ফেরা গুটিয়ে নিতে নিতে, কুড়িয়ে নিতে নিতে, তোমার কোঁচড় উপচে পড়ছে, তুমি গেট পেরোলে, বাঁক ছাড়ালে, আর একটু ঘরে ফেরা তুলে নিয়ে দরজার পাল্লা দুটো যে চরম খাঁজ খাঁজ রেখে নির্লজ্জ অশ্লীলের মতো দণ্ডায়মান সঙ্গম হয়ে আছে, তাদের ফাঁক করে ভেতর আর বাহিরের মধ্যে উষ্ণ আলিঙ্গন করিয়ে শেষ ঘরে ফেরা যা একটা চাবির মতো দেখতে তাকে কুড়িয়ে তুমি মানুষ বাই মেঝে এরকম একটা ভগাংশ হয়ে বাসী হয়ে যাবে। গৃহ বাসি হয়ে পড়ে আছে, তুমি তাতে বাসী হতে যাবে, আর যাওয়ার পথে নিমতলা থেকে কয়েক কিলো চন্দ্রবিন্দু তুলে নিয়ে ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে তাতে একেবারে কূঞ্জবন যেন। সব বাঁশী হয়ে যাবে, গোপিনী গোপিনী কিলবিল করছে বাতাসে। আজু কি আনন্দ, আজু কি আনন্দ, ঝুলনে ঝুলত, শ্যামর চন্দ।

“ব্রজেশ্বর” ব্রজেশ্বর“ বলে তুমি ডাকবে নিজের বুকের ভেতরে, ওখানে রয়েছেন খোদাইচাঁদ নামে এক ছোট্ট পাথরের দেউল, রাধাকান্ত জীউর। মনে পড়ে তোমার, হৃদয়দানি নামে একটি গ্রাম, পাঁজর থেকে নেমে যেতে হয় ধমনীরোড ধরে দশ মিনিটের হাঁটা, লালপুকুর, তারপর বাঁদিকে ঘুরে একটা ঘর। ওই ঘরটা দূর থেকে দেখলেই বোঝা যায় ঘরটার খুন উন্মাদ ব্যক্তিত্ব আর ধ্বকধ্বক করে ডাকছে সবাইকে যে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে। বহুদিন অবধি লোকে জানতো ওটা একটা পাগলী, তারপর একদিন যখন আমি পাগলীর দরজা খুলে ঢুকে পড়তে পারলাম, এবং দেখলাম ভেতরে সমস্ত জলের তৈরী খাট বিছানা বালিস, কুঁজো, আলু, পটল, বেগুন রাখা আছে। তারপর আমি থাকতাম, লোকে তখন বুঝতে পারলো ওটা একটা পাগলী না, ওটা একটা পাগলের ঘর। তারপর তো সময় যায়, দিন যায় সব্বার শেষে মালপত্র গুছিয়ে তারিখ যায়। ত এমনি যেতে যেতে, আমিও তো থাকছিলাম খুব ঘরে, কোনদিন কাকাতুয়া কাকাতুয়া খেলছি ঘরের বোতামদের সাথে, ঠোঁট দিয়ে কামড়ে। কোনদিন পালং শাক, লেটুস পাতা নিয়ে এসে খুব সবুজী করছি। লোকে জানতো পাগলী, তারপর আমাকে থাকতে দেখে জানলো ঘর। এবারে যেসব ঘর খুব চাপা চাপা হয়,ভূমিকম্পে দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে অনড় বসে থাকে। চোখে শোঁ শোঁ করে নেমে যায় কূয়ো। মানুষের শারীরবৃত্তীয় চক্রের মতো ঘরটারো জাগরণ হতো। তবে কবেকার আকূলউদাস পাগলী থেকে ঘর হয়েছে, তাই অনিয়মিত ছিলো চক্র। কিন্তু জাগরণ ঘুরে ঘুরে আসতো। জাগরণের গায়ে জঙ্গলের তৈরী জামা। আমি দেখতাম ঘরটা মাঝে মাঝে মনে চেপে বেরিয়ে যেত ।

ভাষাংবুরুর উপকথা-

মনের মতো ঘরের কথা এখানে কেউ ভাবে না। কারন ঘরের মতো মন কি আর মানুষের হয়? ওই একজায়গায় স্থির থেকে অবিরল স্থান আর ত্রান ঢেলে চলেছে, সে কি কোনো এক মানুষের কাজ? তাই বলে যেন ভেবো না সবাই এখানে থেমে যায়। এই ভাষাংবুরুর দেশে সব লোক বড়ো হয়ে দরজা হতে চায়। মনের ভেতরে পাল্লা গজায়। বাইরের পাল্লা নয়, ভেতরের পাল্লা গজানোর কাজ করে। তাকিয়ে থাকে একদৃষ্টিতে নিজের ভেতরে। দেখে মনের কীর্তিকলাপ। সে বড়ো আমোদের ব্যাপার। এক আঙুলি মন, কি যেন ভীষণ বীর এই ভাবে পাল্লার সাথে পাল্লা দেবে বলে আরেক পাল্লা তৈরী করে, চুপচাপ এদিক ওদিক দেখে নেয় কেউ দেখছে কিনা। ভাষাংবুরুর লোকের দারুণ মজা নিয়ে দেখে তার গোপন কীর্তিকলাপ। নিজের ভেতরে তাকিয়ে থাকে একমনে, মুখে মিচিক দুষ্টুমি। মাঝে মাঝে দুষ্টুমি করে মাথার মধ্যে একটা ফিসফিস চালিয়ে দেয়। আর মন তৎক্ষনাৎ ছেনি বাটালি র‍্যাঁদা ইত্যাদি লুকিয়ে ভদ্রসভ্য হয়ে “এঁজ্ঞে, গাঁওবুড়ারে মনে করছিলেন বুঝি, এঁজ্ঞে”। আর ভাষাংবুরুর লোকেরা হেসে কুটিপাটি।

এই গাঁওবুড়া মন, দরজা হওয়া বড়ো হয়ে। এসব কিন্তু এমনি এমনি নয়। খুব বেশী চাঁদ আগের কথা নয়, যখন গাঁওখেকো হুমো হঠাৎ এসে হাজির হয়েছিলো। সেই হুমো না খেত মানুষ, না খেত কুঁকড়া, না খেত ছাগল, শুধু গাঁওগুলা গপাগপ খেয়ে নিতো। কেউ দেখতে পেত না আর গাঁও দের। এক দুজন বলতো তারা নাকি দেখেছে অমুক কুচুড়ের পারে মাধুভুখারের গাঁও এক মস্তো বাবুমানুষ হয়ে বাড়ি বানিয়েছে বটেক। তা গাঁও এ লোকে ঘর করে, গাঁও নিজে ঘর করে এমন কেউ কখনো দেখেছে না শুনেছে? তবে সময় তো ছিলো বড়ো খারাপ। তাই ভাষাংবুরুর লোকেরা সবাই করলো কি নিজেরা একটা করে গাঁও ঢুকিয়ে নিলো নিজের ভেতর। ভাষাংবুরুর যতো লোক, সবার ভেতরে একটা করে গাঁও। বাইরে থেকে দেখবে তুমি লোক। তা বুদ্ধিটা দিয়েছিলো সেই কালিয়া সর্দার, যে কিনা গাঁওখেকো হুমোর খেয়ে নেওয়া গাঁওকে দেখেছিলো কুচুড়ের ধারে নিজের মস্তো বাবু হয়ে বসে থাকতে। সে বললে গাঁও যদি বাবুমশাই হয়ে ঘর হাঁকিয়ে লোক হতে পারে, তবে আমাদের লোকগুলাই বা কেন গাঁও হতে পারবে না? ভারি ভালো বুদ্ধি। সবাই নিজের ভেতরে এক একটা গাঁও ঢুকিয়ে আর একটা গাঁও বিছিয়ে তাতে রাত্রে ঘুমোলো। রাত্রে এসে হুমো গাঁওখেকো সেই গাঁও খেয়ে চলে গেল, ভাষাংবুরুর লোকেরা সেই খেয়ে যাওয়া গাঁও এর ফাঁকায় আলো বাতাসের মতো ভেসে ভেসে শুরু করলো তাদের নতুন জীবন। সবার ভেতরে তো একটা গাঁও রয়েছে। এক একদিন এক এক জায়গায় এক একজনের গাঁও খুলে বিছিয়ে পাতা হয়, তাতে সব লোকেরা বসে, কুঁকড়া লড়াই করে, হিসাম হিসাম হুমসি হুমসি নাচ নাচে, হাঁড়িয়া খায় দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এই যে লোকের ভেতরে থাকা গাঁও তাকে খুলে তার ভেতরে ঘর বাড়ি বিছিয়ে থাকা কি সহজ কথা রে ভাই। তখনই তো বোঝে সব ভাষাংবুরুর লোক যে তাদের বড়ো হয়ে দরজা হতে হবে। দারুণ দু পাল্লা দরজা কাঁঠাল থেকে সেগুন করতে হবে নিজের ভেতর। আর মানুষ যখন পুরোটাই দরজা হয়ে যায়, তখন সেই দরজা নিজের আগুপিছু আশপাশ বাড়িয়ে বাড়িয়ে একটা ঘর হয়ে যায়। ভাষাংবুরুর লোকেরা জানে মানুষ থেকে ঘর হওয়া যায় না, আপাদমস্তক দরজা হতে হয় প্রথমে। তা এবার গাঁও গুলো ভেতরে রেখে ভাষাংবুরুর লোকেরা যখন ভাসছিলো, তখন একজন নিজের ভেতরে তাকিয়ে দেখে মনের কাণ্ডকারখানা। ভেতরে একটা গাঁও জলজ্যান্ত, সেখানে মনের কি ভারিক্কী ভরকম। গম্ভীর মুখে হাঁটে, উনুই তালাও দের কাছে গিয়ে “ভালো আছিস তো জল, কিছু লাগলে বলবি” যেন কতো ক্ষমতা তার। যেন ওই মনই গাঁওর গাঁওবুড়া। সেই থেকে মনকে গাঁওবুড়া বলে ডাকা হয়। ভারি লজ্জা পায় মন, খুব খুশীও হয়। যেন গাঁওবুড়া হলে তার কতো ওজন হবে। ভাষাংবুরুর দেশে যা কিছু পাল্লা হয়, সব ভেতরে। মাঝে মাঝে শোনা যায় কেউ হয়তো হুঙ্কার দিয়ে বলে “সব কটাকে কাটি ফেলবো আজ। শালা হারামজাদা”। যে দিয়েছে সে তো বটেই, বাকিরা হই হই করে দৌড়ে আসে, “আরে দুখুয়ার ভেতরে গাঁওবুড়া রঙ্গ শুরু করছে”, দুখুয়া তো বটেই, সবাই তার ভেতরে একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখে ওই এক আঙুলি মনের কি আষ্ফালন ভেতর গাঁও এর কুঁকড়া দের ওপর। ওরা চুপ দেখে আর হাসি চেপে চেপে মরে যায়।

এই এক ভাষাংবুরুর দেশ। কখনো কখনো গাঁওবুড়ার রস চাপে। লোকগুলো কিচ্ছু না বলে চুপটি উঁকি মারে ভেতরে। দেখে গাঁওবুড়া মন কেমন বাবুখানি সেজে হলুদঝোরা ফুলের গাছের সামনে দাঁড়িয়ে পার্ট বলছে যেন

ভাষাংবুরুর গাঁওবুড়ার রসিক লচক-

“আমি এক সাঁওতাল সাঁওতাল গন্ধের কালি, বড়ো ভরক্কম আর সে নিজের জীবনটি সোনার নিবের মতো একাগ্র করে পৃথিবীতে কতো কিইই না লিখে চলেছে লিখেই চলেছে…… কখনো পদ্মবন থেকে ফুটে ওঠা অক্লান্ত ঘাটে আর সারা পায়ে কাদার জাজিম, থপ্পাস হাতির মতো ফেলছে থুড়ি লিখেছে পদক্ষেপ, কখনো মাটি আলো করে নম্রতায় নামিয়ে রাখছে দৃষ্টি…… এইসব লেখার কালি তো সেই আমি চলাচাঞ্চল্য উজল সুজল প্রজাতির…… দোয়াতে বন্ধ ছিলাম কতো কতো কাল, তুমি এসে নিয়েছো আমায়, “নাও” বলে একটা বাঁশির করতে দিয়েছো, ভরে নিজের ভেতরে যেন প্রতিটি দিনের সাথে এই নীল মলাট গ্রহ খাতাটিতে তুমি হাজিবাজি লিখে যাবে আমি অল্প অল্প করে টুসুভাদুরঙা কোনো বর্ণ হয়ে প্লুত ও পালিত হবো অকাতর মাটির অবলীলা ছড়ানো রয়েছে…… রথ এক কালির প্রগতি…… পৃথিবীতে লিখে চলেছো এক একটা অপূর্ব দোয়েলগন্ধী, লিখছো কিভাবে সময় থেকে নাও বুলবুলি চুমুকের গিলে নেওয়া আলো……লিখেছো কিভাবে খড় কুটো ছেঁড়া পুঁতি চিরকূট ইত্যাদি কুড়িয়ে কুড়িয়ে, কি অসীম সম্পদ যেন এক মনে কোঁচড়ে ভরে নিয়ে আসে তোমার ক্ষ্যাপা কালিখানি…… ওহে গো আমার কলম, তোমার তো ঝর্ণায় বানানো চরণ দুখানি, বোকা মেয়ে কিচ্ছু না বুঝেই ভাবে খুব ভয় পেয়ে গেছি তাই হাঁটুটি কাঁপছে…… ওই তিরতির রোগা নদীঠোঁটে দুল ছিলো। দুলছিলো শ্যামর চন্দ পাশে আজু আনন্দ, তাকালেই যে কি ভীষণ ফাল্গুনবোধ যারই দৃষ্টি এসে নামত ওখান…… এবার এই যে ঠোঁটভর্তি উপচোনো ফালগুণ আর তার ঝুলঞ্চ ঝুলা…… এতে ভীষণ হিংসে হলো রাগ হলো যতো বৈশাখবতী জৈষ্ঠবান মানুষেরা আছে…… বেচারা ঠোঁটের ফাল্গুন, তার একমাত্র বন্ধু মনের আপন, তার অন্যমনস্ক ঘোরাফেরা পিয়ানো ভঙ্গিতে যেন সন্ধ্যে নয় সাঁঝ ব্রিগ্র্যাঞ্জা নামে কেউ আসে তার বাড়ি…… এত রূপ আর জাদু তো মানুষ সইতে পারে না, তাই সেই ভরক্কম ফাল্গুনকে ঠোঁট সহ ধরলো একদিন……ফালগুনের ঠোঁটের আলোজল”

আর পারে না, ভাষাংবুরুর লোকগুলো হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ে। রামা চেঁচায়, “ওরে থামরে, আর যে পারি না তোর রসে গাছও পা পিছলাই পড়বেক”। আর গাঁওবুড়া মনের যে কি লজ্জ্বা তখন। ওইটুকু এক আঙুলের মতো মন তো, লজ্জ্বায় সোনা হয়ে সটান ঝুরো গাছটায় ঢুকে যায়। লোকগুলো তখন ওদের একা ছেড়ে, বিকেল নাচাতে নাচাতে ফের ভাসতে থাকে বাতাসে আলোর ধুলোর মতো, বড়ো লম্বা টানা টানা দাগ। অকাতরে যারা যেকোনো জানলা, শার্সি, ঘুলঘুলির ফাঁক দিয়ে যার তার ঘরে ঢুকে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। লোকে ভাবে আলো আসছে, আসলে ওগুলো সব ভাষাংবুরুর লোক, নিজের মনের কান্ড দেখে বড়ো আমোদে গুলগুল হয়ে লুটোপুটি খাচ্ছে মেঝেতে।

ভাষাংবুরুর রাজকুমারী-

কিন্তু আমি জানতাম একটা সবকিছু সকালের মতো দিন আসবে। যেদিন এক দিনে বছরের সবকটা ক্ষত একসাথে উদ্যানের মতো দেখাবে, কথা বলবে। আমি দেখবো যেখানে চাকুর দাগ ছিলো, সেখানে মেথী শাগ হয়েছে। যেখানে ছিলো সবুট লাথির স্ট্যাম্প, সেখানে দুলছে সূর্যমুখী। একদিনে হয়ে গেছে। আমার তো কেউ নেই। ওই একজন যাকে লোকে ভাবতো পাগলী তারপর আমি তাকে খুলে ঢুকে যেতে জানতে পারলাম সে ঘর, তারপর আমাকে খুলে ফেললে জানতে পারলাম সে বাগানবতী, তারপর বাগানে কর্কশ মানুষেরা নড়াচড়া করলে আমি হঠাৎ মায়ের ধরা হাতের মতো হারিয়ে গেলাম। আর বাগানবতী বাবার ধরা মুঠোর মতো মিলিয়ে গেল।

লজেন্সের সূত্র অনুসারে আবার যখন মৃদু শ্যাওলার সংবাদ পেলাম তখন যেত গিয়ে দেখি কি কান্ড। ওই উসুমকুসুম ক্ষেপী তো আমার মতো অ আটকানো ভাষাংবুরুর মানুষ। সে করেছে ঘর বা গৃহের বাসী, বাগানের বাসী সব জমিয়ে রেখেছে আর মুঠো মুঠো চন্দ্রবিন্দু ছড়াচ্ছে্‌, আর লীলা গোপীনি নামে এক ফাঁকা তার পরম বন্ধু। সেই প্রথমের কথা গুলি ঘটে এলো, আজু কি আনন্দ, আজু কি আনন্দ, ঝুলনে ঝুলত শ্যামরচন্দ। ঠোঁটে থেকে হেঁটে যাবেন, বৃন্তের কাছে এসে যানবাহন বদলাতে হবে, তারপর ভেতরে ঢুকে আমুলিয়া সফেদ এর মধ্যে দিয়ে হেঁটে হেঁটে গেলে বাঁদিক টার্নিং হৃদয়দানি গ্রাম, তার পাশে বুক জুড়ে ধান গলগল, হইহই করছে। আর এক কোনায় খোদাইচাঁদের দেউল, তাতে রাধাকান্ত জিউর বিগ্রহ। কষ্টিপাথর। 
ভাষাংবুরুর পাগলী তো এক আলোর গন্ধ দিয়ে তৈরী, আতরের টুকরো দিয়ে সাজানো, চিকের আড়াল দেওয়া আগুন, লে-লি-হান নামে চীন দেশের শিখা, তার ছিলো আপেলের মায়ের নিজের হাতে তৈরী গাল। ফু দিয়ে ফোলানো রয়েছে। আর ছিলো স্বর্ণস্ফটিকের হৃদয়, আমি তার বুকটিকে লুকিয়ে ডাকতাম অমৃতসর, স্বর্নমন্দির। আহা অমৃতে সর ভেসে আছে। সে কি আমায় ধরলে বুঝতে পারবে, কবে থেকে সে আমার ঘর ছিলো, আমি সম্পর্কের ছিলাম তার ঘরের ভেতর, আমাকে কি থাবার আঘাতে লাবন্যপ্রভা মাখাবে।

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.