গ্রোথ হ্যাকারদের বাইবেল

কর্পোরেট দুনিয়াতে যার যা পদ সে তাই কাজ করে। স্টার্টআপ দুনিয়াতে আসলে শুরুতে কারও তেমন পদ থাকে না, যে কারণে প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে প্রোডাক্ট ডিজাইন, ওয়্যারহাউজে রং চড়ানো থেকে শুরু করে ফ্লোর ঝাড়ু দেয়া নিত্য নৈমিত্তিক কাজ থাকে কোফাউন্ডারদের । বিষয়টা যত না কষ্টের তত বেশি শিক্ষণীয়ই বলা যায়। স্টার্টআপ দুনিয়াতে মার্কেটিংয়ের জন্য আলাদা লোক কিংবা খাতভিত্তিক লোক নিয়োগ দেয়া একটু ব্যয়সাধ্য কাজ। সেই ব্যয়সাধ্য কাজকেই গ্রোথ হ্যাকাররা অনেক সহজ করে দিয়েছেন বলা যায়। নানান জায়গা থেকে পড়ে যা বুঝলাম, গ্রোথ হ্যাকাররা আসলে প্রথাগত মার্কেটিংয়ের লোক না। এরা একটু প্রোগ্রামিং বোঝে, ডিজাইন থিংকিং নিয়ে জানা শোনা আছে, আবার প্রোডাক্টস ডিজাইন নিয়েও ঘাটাঘাটি করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পলেটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি থেকেও এরা মার্কেটিং আর ব্র্যান্ডিং এলিমেন্টস খুঁজে বের করে।

মুনির হাসান গ্রোথ হ্যাকিং নিয়ে বেশ লেখালেখি করেন এখন। তার পোস্টগুলোও বাংলাতে পড়ার জন্য সুখপাঠ্যই বটে।

এই পোস্টে গ্রোথ হ্যাকাররা যে বইগুলোকে বাইবেল হিসেবে মানেন তার কথাই লিখছি। আমি অবশ্য তিনটে বই পড়েছি এদের মধ্যে, যে কারণে মার্কেটিং নিয়ে ইএমবিএ কোর্সে তেমন আগ্রহ তৈরি হয় নাই আমার। সেই নব্বইয়ের মার্কেটিং আর ফোর পি’স আর কত দিন?

ট্র্যাকশন

গ্যাবরিয়েলে ওয়েইনবার্গ ও জাস্টিন মের্সের বই। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য এই বইতে বুলস আই নামে একটা ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই বইটা পড়লে ট্যাকটিক্যাল how-to’s আর চ্যানেল বাই চ্যানেল ব্রেকডাউন সম্পর্কে বেশ ধারণা পাওয়া যাবে।

গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং

রায়ান হলিডের দারুণ একটা জনপ্রিয় বই। পিআর, মার্কেটিং আর বিজ্ঞাপন দুনিয়া নিয়ে কাঁপানো একটা বই। এই সময়কার মার্কেটিং নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য ফরজ পড়া একটা বই গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং। যে কোন পন্যকে কিভাবে ভাইরাল করা যায় তা নিয়ে বেশ পরিষ্কার ধারণা মিলে বইটি থেকে। হটমেইল থেকে শুরু হয়ে ড্রপবক্স দিয়ে বইটায় বাস্তবের নানান উদাহরণ দিয়ে মার্কেটিং যে আসলে সায়েন্স আর আর্টসের সমন্বয় তাই জানা যাবে বইটা থেকে।

রিওয়ার্ক

এটা গ্রোথ হ্যাকিং রিলেটেড ই না। কিন্তু এই বই পড়লে অন্যের জুতায় দাড়িয়ে কিভাবে দুনিয়া দেখা যায় তা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত জানতে পারবেন।

হুকড

নিল আয়াল ও রায়ান হুভারের বই।

অ্যাডিকটেড প্রোডাক্ট কিভাবে তৈরি করবেন তা সম্পর্কে জানার এই বই। চারটা স্টেপ দেখানো হয়েছে বইটিতে।

কিভাবে নিজের রেস্টুরেন্টে একই কাস্টমারকে চারবার আনবেন?

প্রথম যে কাস্টমারকে দ্বিতীয়বার দোকানে আনতে চান তাকে প্রথমবার খাবার পরিবেশনের পড়ে দ্বিতীয়বার আসার জন্য “ফ্রি আমের জুস”-এর একটি কুপন ধরিয়ে দিন। দ্বিতীয়বার সেই কুপন নিয়ে এলে তাকে সুস্বাদু “ফ্রুট সালাদ” এর একটি কুপন ধরিয়ে দিন। তৃতীয়বার এলে তাকে “যে কোন খাবারে ২০% ছাড়” কুপন ধরিয়ে দিন। প্রতি ১০০ নতুন কাস্টমারের মধ্যে ৭২ জনই ৪বার আপনার দোকানে আসবেই। 
আমের জুস ৪০ টাকা আর ফ্রুট সালাদ ৫০ টাকা যোগ করলে ১০০ টাকা খরচ করে আপনি একজন কাস্টমারকে চারবার আনতে পারছেন। প্রতি ১০০ টাকায় একজন কাস্টমার ৪ বার এলে তার বিক্রয়মূল্য কত হতে পারে তা গুনতে ক্যালকুলেটর লাগবে? 
১০০০ টাকা বিজ্ঞাপন খরচে এখন কিন্তু ১০ জন কাস্টমার আনাও যেখানে কষ্টকর সেখানে এই স্টেপগুলো কাজে লাগাতে পারেন।

আমার ওয়েবসাইটে আপনার ইমেইল লিখলেই প্রতি সোমবার আমি আপনাকে এ ধরণের আরও লেখা পাঠাতে পারবো!

Follow Me: https://twiiter.com/aashaa

Show your support

Clapping shows how much you appreciated Aashaa Zahid Hossain Khan’s story.