স্থবির বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্ম সংস্থান- সীমাহীন বেকারত্বে টাইম বোম্ব প্রজন্ম

আজকে বনিক বার্তায় ভালো একটা রিপোর্ট এসেছে যে, বহুজাতিক কোম্পানির চেয়ে দেশী কোম্পানি গুলো কর্ম সংস্থানে এগিয়ে আছে।

আজকে বনিক বার্তায় ভালো একটা রিপোর্ট এসেছে যে, বহুজাতিক কোম্পানির চেয়ে দেশী কোম্পানি গুলো কর্ম সংস্থানে এগিয়ে আছে।

রিপোর্টটায় অনেক গুলো দেখার বিষয় আছে। অনেক গুলো বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের রেফারেন্সে দেখানো হয়েছে গ্রামীণ ফোন বা ক্যামিকাল বাজারজাত এবং উতপাদক প্রতিষ্ঠানে লিন্ডস অথবা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এর মত প্রতিষ্ঠান গুলোর উৎপাদন এবং বিপনন বাড়লেও তাদের দ্বারা কর্ম সংস্থান সেভাবে বাড়েনি।

এখানে গ্রামীণ ফোনের উদাহরনটা খুব খেয়াল করতে হবে। গ্রামীণ ফোন এবং টেলিকম সেক্টরের বাকি প্রতিষ্ঠান গুলোর আমাদের জিডিপিতে বড় একটা অংশ যোগ করেছে।

এই যোগটা প্রতিবছরই বাড়ছে এবং এই প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে বলা হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

কিন্ত, এমন উচ্চ মাত্রার প্রবৃদ্ধি যদি পর্যাপ্ত কর্ম সংস্থান যোগ না করে তাহলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বলা দাবী করা হচ্ছে তা দেশের মানুষের জন্যে প্রকৃত মঙ্গল বয়ে আঞ্ছে কিনা সেই প্রশ্ন রয়ে যায়।

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটির ৩ হাজার ৮৮৭ জন স্থায়ী কর্মী থাকলেও ২০১৫ সাল শেষে তা ৩ হাজার দুজনে নেমে এসেছে। যদিও কোম্পানিটির বার্ষিক টার্নওভার ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

ঠিক একই ভাবে লিন্ডস, বিএটি এবং বারজার পেইন্ট সহ বেশ কিছু উদাহরন দেখিয়ে দেখানো হয়েছে বিগত পাঁচ বছরে এই প্রতিষ্ঠান গুলোর টার্ন ওভার বাড়লেও কর্ম সংস্থান বাড়ে নাই।

তাছাড়া বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত বহুজাতিক কোম্পানি বাদে নতুন কোম্পানি তেমন কোন প্রতিষ্ঠান আসে নাই।যদিও প্রতিষ্ঠান গুলো সঙ্গত ভাবেই দাবী করতে পারে যে সরাসরি কর্মসংস্থান কমলেও তাদের প্রবৃদ্ধির কারণে, পরোক্ষ কর্ম সংস্থান বেড়েছে।

কিন্ত সেই দাবী গ্রহণ করলেও, আজকে প্রশ্ন রয়ে যায়। সেই পরোক্ষ কর্ম সংস্থানে মেধা ভিত্তিক গ্রাজুয়েটদের কর্ম সংস্থান কত টুকু হয়েছে।

এবং এর থেকে আমরা বুঝতে পারি আজকে কেন নতুন গ্রাজুয়েটদের জন্যে পর্যাপ্ত কর্মের সুযোগ নেই।

প্রাইভেট সেকটরে সম্মান জনক বেতনে চাকুরীর সুযোগের সাথে রিয়েল এস্টেট এস্টেট সহ শহুরে, মফস্বল এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অর্থনীতির সরাসরি সংযোগ আছ কর্ম সংস্থানের মাধ্যমে- সংযোগ কৃষি, সার্ভিস সেকটর সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ।

এবং নতুন গ্রাজুয়েটরা যদি মেধা ভিত্তিক চাকুরীর সুযোগ না পায় তবে প্রশ্ন রয়ে যায় কি কারণে এতো বছর ধরে, এতো কষ্ট করে, পিতা মাতার এতো সাধনায় পড়া লেখা করলো।

এবং এইটা একটা অত্যন্ত আশংকা জনক পরিস্থিতি যার থেকে মুক্তির উপায় আমাদের খুজতে হবে।

প্রতি বছর সরকারী ইউনিভার্সিট এবং প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে কয়েক লক্ষ টাকা খরছ করে নতুন মুখে গ্রাজুয়েশান শেষ করছে তাদের জীবনটা কিভাবে কাটবে ? তারা কিভাবে সংসার জীবনে প্রবেশ করবে কিভাবে পরিবারকে সাপোর্ট দিবে।

এই প্রশ্ন গুলো নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যাথা নাই, সরকার এক প্রবৃদ্ধি প্রবৃদ্ধির গান গেয়ে দেশের নতুন কর্ম সংস্থানের অভাবের এই সমস্যাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে যাচ্ছে এবং তাতে কোন গুরুত্তই দিচ্ছেনা।

https://www.youtube.com/watch?v=Tlf00NT6mig

কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারের নিজের তথ্য মতে বিগত ২ বছরে মাত্র ৬ লাখ কর্ম সংস্থানে হয়েছে যেখানে প্রতি বছর ২৭ লক্ষ মানুষ কর্ম জীবনে প্রবেশ করে যদি সেইটা লেবার ফরসে দেখানো হয়না।

এই প্রজন্মের হতাশা থেকে এখন নিয়মিত সংবাদ পাচ্ছি, ভালো চাকুরী যোগার করতে না পেরে যুবকেরা আত্ম হত্যা করেছে। গণ কবরে ঠাই হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালেশিয়া বা থাইল্যান্ডের যাওয়ার মত ঝুঁকি নিচ্ছে।

এই বাস্তবতা গুলোকে স্বীকার করে নিয়ে বাংলাদেশে কর্ম সংস্থান বাড়ানোর উদ্যগ নেয়া না হলে, এই বেকার প্রজন্ম একটা জীবন্ত টাইম বম্ব হয়ে উঠেছে যা যে কোন মুহূর্তেই বিস্ফোরিত হবে।

Like what you read? Give Zia Hassan a round of applause.

From a quick cheer to a standing ovation, clap to show how much you enjoyed this story.