মিলিয়নারদের পেশাঃ SOFTWARE ENGINEERING
(ক্যারিয়ার নির্বাচনে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতঃ করনীয়)

চলতি বছরের শুরুতে যখন জেসেন হুয়াং Nvidia ‘এর বর্তমান সিইও তাদের সর্বশেষ প্রোডাক্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানান — “Software Is Eating the World, but AI Is Going to Eat Software.” কথাটি শুনে আমরা নেহায়েত উড়িয়ে দিতে পারি। সফটওয়্যার আর A.I এর মধ্যে যুদ্ধ তার মাঝে আমাদের কি? তাছাড়া এদেশে ডিজিটাল নামের ধাপ্পা চললেও এর তকমা ঠিকঠাক লাগেনি এখনও। সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি নিয়েই ভাবা যাচ্ছে না A.I তো অনেক দুর।
এরপর বছরের মধ্যখানে এসে ইয়েল ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ যবেষক দল জানায়, ২০৬২ সাল নাগাদ শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মদক্ষতায় Artificial Intelligence (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)’র মানুষকে ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ ভাগ। তার মানে স্টিভেন স্পিলবার্গ ২০০১ এ নির্মিত A.I মুভিতে ২০০০ বছর মানুষের পৃথিবী বেদখলের যে কল্পনা করেছেন বাস্তবে তা মাত্র ৪৫ বছর দূরে ! পৃথিবীতে মানুষের আধিপত্য হারানোর সম্ভাবনা ৫০-৫০ । এবারও আমাদের চিন্তিত হবার কিছু নেই, পৃথিবী যাবে যাক। তবে সারাবিশ্বে এ ব্যাপারটি একেবারে বোম ফাটার মত অবস্থা।
Read Career In Software Testing From Medium Blog
ধরুন আজ থেকে ৪০ বছর পর পৃথিবী মানুষের নেই। তখন চাকরির বিজ্ঞপ্তি কেমন হতে পারে একবার কল্পনা করে দেখুন ? বড় ছোট কোন কোম্পানিই তখন আর মানুষ কর্মীর নিয়োগ দিবে না। সেলস, ডিজাইন, ডেভেলপার প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট হয়ে উঠবে রোবট কেন্দ্রিক ভাবা যায় ! একেবারে স্বজনপ্রীতির বাইরে, No Gender Discrimination আর সবশেষে কোটাপদ্ধতি থেকে মুক্তি। মনে হয় এদেশের জন্য ভালোই কি বলেন? দেশ থেকে বৈষম্য দুর হবে , একেবারে সবাই বেকার।
A.I সম্পর্কে জানতে ভিডিও দেখতে পারেন।
এখন থেকে ৪০ বছর পেরিয়ে আমাদের আর চাকরী খোজার অবস্থা থাকবে না,পৃথিবী ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। পৃথিবী ও কর্মপদ বেদখল হবার আগ পর্যন্ত অন্তত আমাদের এর সম্পূর্ণ সুখ ও সমৃদ্ধি ভোগ করে যাওয়া চাই। যা করার জন্য আমাদের প্রথম প্রয়োজন হচ্ছে অর্থ। কোন পথে পরিশ্রম করলে ভাল অর্থ উপার্জন করা যাবে তা না জানলে কিন্তু মুশকিল। একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি”। আসলে কি তাই ? প্রবাদটি যদি সম্পূর্ণ সত্য হত তাহলে সৌভাগ্য সবার আগে হানা দিত দিনমজুরদের ঘরে। আর দেশের বড় বড় অট্টালিকাগুলো হতো তাদের অধীন। পরিশ্রমের সাথে কর্মদক্ষতা ও জ্ঞানের প্রতিফলন না ঘটলে কখনোই সফল হওয়া যায় না। তাহলে এখন আমাদের এমন একটি পেশা বেঁচে নিতে হবে যেখানে পরিশ্রম করলে সর্বোচ্চ সফলতা আসবে।
এবার দেখা যাক, বিভিন্ন সময়ের বেশিরভাগ সফল হওয়া পেশা গুলো কি কি ছিল? এখন থেকে যদি দু’শ বছর আগের মানুষের জীবিকা নির্বাহ করার পদ্ধতি পর্যালোচনা করি তাহলে আমরা কি দেখতে পাই? শিল্পবিপ্লবের আগে মানুষের তখন জীবিকার ধরন কিন্তু আজকের মত ছিল না । দু’শ বছর আগে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত কৃষিকাজ করে। তখনকার সময় হয়ত শুধু পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ছিল। অথচ দু’শ বছর পর এসে পৃথিবীতে কৃষিকাজে নির্ভরশীল মানুষ মাত্র ২ শতাংশ। তাহলে কি ৯৮% মানুষ কৃষি বিমুখ হয়ে গেছে অথবা কৃষির প্রয়োজন ফুরিয়েছে? তা নয় কিন্তু এর মানে হচ্ছে কৃষির আধুনিকায়ন ঘটেছে। মাত্র ২% মানুষের কৃষিতে সম্পৃক্ততা সমগ্র মানব জাতির কৃষিজ প্রয়োজন মিটাচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে বাকি ৯৮% মানুষ কি করছে, সেচ্ছায় বেকারত্ব বরণ করেছে? নিশ্চয়ই অন্য কোন পেশায় জড়াচ্ছে, তাই তো ।

ঊনিশ শতকের শেষের দিকে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করে যেসব দেশ তাদের মধ্যে আমেরিকা অন্যতম। আমেরিকায় তখনকার ১০০জন মিলিয়নারের আয়ের উৎস খেয়াল করলে দেখবেন তাদের মধ্যে সিংহভাগই ছিলেন আইনপেশার লোক আর সামান্য সংখ্যক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। ১০০ বছরের ব্যবধানে মানুষের পেশাদারিত্বে গতিপথ কৃষি থেকে আইন ব্যবসায় বদলানো লক্ষনীয়।
বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনকুবের ব্যক্তিটি সেদেশের হলেও তার পেশা কিন্তু মোটেও আইন কিংবা গার্মেন্টস ব্যবসা নয়। শুধু তিনিই নন বর্তমানে আমেরিকার বেশিরভাগ ধনাঢ্য ব্যক্তিদের প্রায় সবাই এ দুই পেশার বাইরের লোক।
তাহলে ব্যাপারটি কি দাড়াচ্ছে ? সময় ও প্রয়োজন নিত্য নতুন পেশার উদ্ভব ঘটায় । যেহেতু সময়ের সাথে মানুষের জীবন ধরন বদলে যাচ্ছে সেহেতু একটা পেশাই সবসময় আপনাকে সফলতা এনে দিবে না। সাফল্যের চুড়ায় পৌছতে চাইলে অবশ্যই যুগোপযোগী পেশা নির্বাচন করতে হবে। বুদ্ধিমানরা তাই করে বলে তারা আজ সফল। আজ থেকে ১০ বছর আগে যে পেশায় মানুষ বেশী সফল হতে পেরেছে অর্থ -পতিপত্ত্বি এনেছে বর্তমান সময়ে এসে কিন্তু তারা তা পারছে না। আবার আগামী ১০ বছর পর কিন্তু তা একই রকম থাকবে না।
এখন সবার কাছে জিজ্ঞাসা মিলিনয়ার হতে চাইলে আমাকে কোন পেশা গ্রহন করা উচিৎ ?
এর উত্তর কিন্তু আমাদের আলোচনার শুরুতেই দেয়া আছে। জেসেন হুয়াং বলে দিয়েছেন সফটওয়্যার সব দখল করে নিচ্ছে । তার মানে সফটওয়্যার ডিজাইন ও ডেভেলপিংয়ের কাজই হতে পারে বড় হবার সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা।
ব্যাপারটাকে সেরের উপর শোয়াসের অথবা কৈ এর তেলে কৈ ভাজা যা বলেন আপনারা।
গুগলের সিইও সুন্দার পিচাই তার সম্প্রতি এক ইন্টারভিউতে জানান বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে নিশ্চিত ক্যারিয়ার হচ্ছে প্রোগ্রামিং, প্রোগ্রামারদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে উজ্জল। তার মতে — “ If you want to be a millionaire, It’s better to be a software developer than a pro athlete! ”
একজন অভিজাত ক্রীড়াবিদ প্রচুর উপার্জন করেন এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। এদের মধ্যে বাস্কেটবল ও ফুটবল অ্যাথলিথরা সবচেয়ে বেশী আয় করতে পারে। ফরব’স ২০১৬ এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাস্কেটবল তারকা লিব্রা জেমস মাত্র এক সিজনে আয় করেন ৭৭ মিলিয়ন ডলার(ব্র্যান্ডিংসহ), তার নিকটবর্তী সর্বোচ্চ আয়কারী এলি মানিং ও ক্লেটন কেরশো যথাক্রমে ৪৫ ও ৩২ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। এ কিন্তু অনেক টাকা !! অনেকের বড় হবার একমাত্র স্বপ্নই হচ্ছে প্রো অ্যাথলিট হওয়া। কিন্তু বেশিরভাগই মাঝপথে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
Becoming a Multimillionaire নামের ইনফোগ্রাফিকেে টেক জব সাইট Paysa স্পষ্ট করে দেয় স্পোর্টসম্যানশীপ এর চেয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-ই কেন অর্থ উপার্জন করার জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত ও নিশ্চিত পথ।
Paysa তাদের ইনফোগ্রাফে দেখায় একজন NFL একজন ফুটবলারের গড় ক্যারিয়ার হচ্ছে ৩ বছর বেশী আয় করে থাকে। ঐ সময়ে গড়ে একজন অ্যাথলিট লাইফটাইম ৩.১ মিলিয়ন ডলার (ব্র্যান্ডিং বাদে) আয় করে। এর দিক থেকে NBA এর বাস্কেটবলাররা সৌভাগ্যবান তাদের কর্মকাল ৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আর তাদের গড় আয়ও কিছুটা বেশী লাইফটাইম আর্নিং প্রায় ১২ মিলিয়ন। এটা শুধুমাত্র এলিট প্লেয়ারদের আয় অন্যসব অ্যাথলিটদের আয় অনেক কম লাইফটাইম আর্নিং প্রায় ২.৫ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপারটা সম্পুর্ন আলাদা। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে গ্যাজুয়েট হওয়া ও পরবর্তীতে সফটওয়্যার ডেভেলপিং ক্যারিয়ার গ্রহন করার হার মাত্র ৬০% হলেও তাদের জব প্লেসমেন্টের হার প্রায় ৯৭% একেবারে অসন্তোষজনক নয়। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে তাদের কর্মজীবনের দীর্ঘতা প্রায় ৪০ বছর। তার মানে আমদের এখন থেকে শুরু করলে আমাদের কাছে থেকে পৃথিবী হাতছাড়া হবার আগ পর্যন্ত :P । সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের অ্যানুয়াল স্যালারী বেশী না তাই হয়তো উল্লেখ করা হয় নিই মনে হতে পারে। আসলেই তাই, এ পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গড় আয় ১২৫,৪১৮ ডলার (বাৎসরিক) মাত্র। একজীবনে হয়তো সব চাহিদা মেটানোর জন্য হয়তো যথেষ্ট নয় তবে ৪০ বছর পার করার মত অবস্থা তৈরি হবে।
পেশা হিসেবে সফটওয়্যার ডেভেলপিং নিবেন কি না সিদ্ধান্ত কিন্তু একান্তই আপনার নিজস্ব। আমি হলে অবশ্যই দু’বার ভাবতাম না :P
Infographic from paysa:

ধন্যবাদ।
About Content Creator
Name: Rafayet Hossain
Profession: Certified Lean Six Sigma Black Belt, Big Data Analyst, Professional SQA & Techie
Social Network: LinkedIn Profile
Future Career In Data Science Medium Blog Link https://medium.com/p/c46f8aee3498
