MuslimChecklist
Published in

MuslimChecklist

কুরআন পড়ি বুঝে বুঝেঃ সূরা আন-নাবা

Photo by v2osk on Unsplash

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিনিয়ত অগণিত নিয়ামত ভোগ করে চলেছি। এর মধ্যে বেশ কিছু নিয়ামত আছে যেগুলার তুলনা করার মত কোন মাপকাঠি আমাদের মনের জানালায় জানা নাই। এমনই এক মহা নেয়ামত মানব জাতির ইহকালীন ও পরকালিন জীবনের একমাত্র সঠিক ও নির্ভুল জীবন বিধান মহা গ্রন্থ আল কুরআন।

আমরা অনেকেই কুরআন পড়তে জানি তবে আরবি আমাদের মাতৃ ভাষা না হওয়ায় বুঝতে পারি না। আল্লাহর অশেষ ইচ্ছাই যদিও আমাদের হাতে এখন বাংলা তরজমা সহ কুরআনের কপি বিদ্যমান। তবু নিল বইয়ের ভাসমান জগতে ভাসতে ভাসতে আল্লাহর অপার নেয়ামতে পরিপূর্ণ শান্তিপূর্ণ জীবনের একমাত্র পথ নির্দেশনা খানা খুলে দেখার সময়ের বড্ড অভাব অনুভব করি। আমরা অনেকেই অবশ্য প্রতি নিয়ত বই খানা খুলে দেখার অনেক ইচ্ছা পোষণ করি কিন্তু ভিনদেশি ভাষার সেই মহা গ্রন্থ খানা খুলে দেখতে কোথাই যেন বাধে।

কারণ টা অনেক টা এরকম যে, সুর করে পড়তে বা মধুর সুরের কোন বক্তার পড়া শুনতে ভালোই লাগে তবে বিনোদনের কিছুই তো নাই। অনেকেই আবার ভাবে, টেনে টেনে আরবি রিহারশাল দিয়ে কি করবো তার চেয়ে বরং একখানা অন্য কোন আত্মউন্নয়ন বা বিনদোন মূলক বই পড়ি এতে করে মনের ও মননের খোরাক মিটবে।

আসলে কুরআন যে কতটা সহজ ও প্রাঞ্চল ভাষায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের জন্য নাযিল করেছেন তা আমরা বেশির ভাগ মানুষ জানিই না। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

সূরা আলা কামার (৫৪), আয়াত নং-২২

“আমি কুরআন কে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?”

সূরা আল-কামার (সূরা নং-৫৪, আয়াত নং-২২)

সুবহানআল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা নিজেই যখন বলছেন যে, আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তোমরা উপদেশ নিতে পারো, সেখানে আমরা কেন কঠিন ভাবছি? আমাদের মালিক কি আমাদের কথা না ভেবেই একটা কথা বলে দিয়েছেন? নাউজুবিল্লাহ এমন টা ভাবাও অনুচিত। তাহলে আমাদের অবশ্যই ভাবা উচিৎ যে, মহা গ্রন্থ আল কুরআন অবশ্যই খুবই সহজ সরল। এর ভাষা খুবই নরম। এর অর্থ খুবই প্রাঞ্চল। এর উপদেশ সমূহ খুবই সোজা সাপটা। এর নিষেধ সমূহ খুবই ধরা বাঁধা। এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ আমাদের নেই, এর বাইরে কোন জগতও আমাদের সামনে নেই।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতিয়মান হয় যে, আমাদের কে আল কুরআন বুঝে বুঝে পড়তে হবে, কুরআন থেকে উপদেশ নিতে হবে। সেই উপদেশ সমূহ আমাদের জীবনে প্রয়োগ করার মাধ্যমে নিজেদের কে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। তাছাড়া দুনিয়ায় সাময়িক অবকাশ পেলেও পরকালে কোন রক্ষা নাই। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

“কিভাবে তোমরা আল্লাহকে অস্বীকার করছ? অথচ তোমরা নির্জীব ছিলে, পরে তিনিই তোমাদেরকে জীবন দান করেছেন, এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, পরে আবার জীবিত করবেন, অবশেষে তোমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে।”

সূরা আল বাকারা (সূরা নং-২, আয়াত নং-২৮)

সুতরাং আল্লাহর হাত থেকে বাঁচার কোন উপায় আমাদের নেই। তিনিই আমাদের সৃষ্টিকর্তা, তিনিই আমাদের রিজিক দাতা, তিনিই আমাদের প্রতিপালন কারী, আর তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন স্থল। তবে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

‘তোমরা ভয় কর না, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি।’

সূরা আত তাহা (সূরা নং-২০, আয়াত নং-৪৬)

খুব আপনজন ছাড়া কে এভাবে বলে যে, তুমি ভয় করোনা, আমি তোমার সাথেই আছি। তোমাকে দেখে রাখছি। সুবহানআল্লাহ। আল্লাহর নিয়ামত রাজীর, আল্লাহর অপার করুণার, মহা মহিমের অতুলনীয় ভালোবাসার কোন তুলনা হয় না। তবুও কি করে আমরা সেই মহান রবের অবাধ্যতা করি। তাইতো আল্লাহ পাক আমাদের কে সাবধান করে দিয়ে বলেছেনঃ

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব, ফলে আমি তাকে বানিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।

সূরা আল ইনশান (সূরা নং-৭৬, আয়াত নং-২)

আল্লাহ পাক আমাদের কে পরিক্ষা করবেন, আসলে এই দুনিয়ার জীবনে মানুষের জন্য এক পরিক্ষা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে যে যেমন লিখবে হাশরের ময়দানে তাকে তেমন ফলাফল দেয়া হবে। হিসাব খুবই সিম্পল তবে আমরা এই সহজ হিসেব কে বস্তুবাদি দুনিয়ার চোখ দিয়ে দেখতে করে অনেক কঠিন করে ফেলেছি। তাই তো আমাদের কে বুঝে বুঝে আল কুরআন পাঠ করতে হবে। ইহা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন জীবন গঠন করতে হবে, যা এই দুনিয়ায় শান্তিময় ও পরকালেও নির্ঝঞ্ঝাট। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহজ সরল জীবন যাপনের তৌফিক দান করুন। আমীন।

বুঝে বুঝে কুরআন পাঠ সিরিজের প্রথম পর্বে আমরা আলোচনা করবো সূরা আন নাবা সম্পর্কে।

সূরা পরিচিতিঃ

নামঃ আন নাবা

ক্রমিক নং- ৭২

আয়াত সংখ্যাঃ ৪০

ইহা একটি মাক্কি সূরা (অর্থাৎ রাসুল (সঃ) এর নবুয়তের প্রথম দিকে মক্কায় এই সূরা নাযিল হয়)।

সূরা আন নাবা অনলাইনে শুনতে নিচের ভিডিও টি দেখতে পারেন।

অনলাইনে পড়তে চাইলে ভিজিট করুনঃ

https://quran.com/78/

বাংলা অনুবাদ, তিলাওয়াত ও তাফসীর সহ একত্রে দেখতে নিচের লিংক ভিজিট করুনঃ

মোবাইল আপে পড়তে চাইলে নিচের কুরআন আপটি আপনার মোবাইলে ইন্সটল করে ফেলুনঃ

কুরআন মাজিদ নিয়ে গুগল প্লে স্টোরে অনেক আপ আছে তবে এটি আমার পছন্দের। আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোন আপ ব্যবহার করতে পারেন।

বিষয়বস্তু আলোচনাঃ

আমি কোন ইসলামি আলোচক নই, তাই বেশী কিছু বলার চেষ্টা করবো না। বিস্তারিত জানতে নিচের লিংক গুলো ভিজিট করতে পারেন। নিজে পবিত্র কুরআন খানা খুলে দেখতে পারেন। সর্বোপরি ভালো আলেম ওলামা দের তাফসীর ও ব্যাখ্যা মূলক আলোচনা শুনতে, পড়তে বা দেখতে পারেন।

আলোচ্য সূরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আন নাবা অর্থাৎ এক মহা সংবাদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। আয়াত সমূহের বাংলা অর্থঃ

১। তারা একে অন্যের কাছে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?

২। সে মহা সংবাদের বিষয়ে কি তারা প্রশ্ন করছে?

৩। যে বিষয়ে তারা নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে।

৪। কখনই নয়, শীঘ্রই তারা জানতে পারবে;

৫। আবার বলছি কখনই নয়, শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।

৬। আমি কি জমিনকে বিছানাস্বরূপ করিনি?

৭। এবং পাহাড়সমূহকে পেরেকস্বরূপ?

৮। আর আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়।

৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ঃ

আর তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্ৰাম, এবং রাত্রিকে করেছি আবরণ। আর দিবসকে জীবিকা অর্জনের মাধ্যম করে দিয়েছি; আর নির্মাণ করেছি তোমাদের উপর সাতটি মজবুত আসমান এবং সৃষ্টি করেছি একটি দীপ্তমান প্রদীপ এবং বর্ষণ করেছি পরিপূর্ণ মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টির পানি, যাতে তা দ্বারা আমরা উৎপন্ন করি শস্য, উদ্ভিদ এবং বৃক্ষাদিতে পরিপূর্ণ বাগানসমূহ।

১৭, ১৮, ১৯, ২০ঃ

নিশ্চয়ই বিচারের দিন একটি নির্ধারিত সময়; যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে আসবে, আর আকাশ উন্মুক্ত করা হবে, ফলে তা হবে বহু দ্বারবিশিষ্ট এবং পাহাড়সমূহকে চলমান করা হবে, ফলে সেগুলো হয়ে যাবে মরীচিকা।

২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫ঃ

নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওঁৎ পেতে রয়েছে; সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল হিসেবে, সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে। সেখানে তারা কোন প্রকার শীতলতার স্বাদও গ্রহণ করতে পারবে না, আর না কোন পানীয় বস্তুরও; ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ব্যতীত;

২৬। এটাই উপযুক্ত প্রতিফল

২৭। নিশ্চয়ই তারা হিসাব-নিকাশের আকাঙ্ক্ষা করত না।

২৮। এবং আমার আয়াতসমূহ তারা পরোপুরি অবিশ্বাস করেছিল।

২৯। আর আমি সব কিছুই লিখিতভাবে সংরক্ষিত রেখেছি।

৩০। অতএব এখন তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ কর, আর আমি তো তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করতে থাকব।

৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬ঃ

নিশ্চয়ই মুত্তাক্বীদের জন্য রয়েছে সাফল্য, উদ্যানসমূহ ও নানাবিধ আঙ্গুর, (আরও আছে) সমবয়স্কা, পূর্ণ যৌবনা তরুণী। এবং (শরাবে) পরিপূর্ণ পানপাত্র। তারা সেথায় শুনবেনা কোন প্রকার নিরর্থক কথা, আর না কোন মিথ্যা বাক্য, এটা তোমার‎ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যথোচিত দান, পুরস্কাররূপে।

৩৭। যিনি প্রতিপালক আসমান জমিন এবং এ’দুয়ের মধ্যে অবস্থিত সবকিছুর, যিনি পরম দয়ালু; তাঁর সমীপে তারা আবেদন-নিবেদন করতে পারবে না

৩৮। সেদিন রূহ ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন, সে ব্যতীত অন্য কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সঠিক কথা বলবে।

৩৯। এ দিবস সুুনিশ্চিত সত্য। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করুক।

৪০। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক আসন্ন আযাবের ভয় প্রদর্শন করছি; সেদিন মানুষ দেখবে যা সে নিজ হাতে আগে পাঠিয়েছিল। আর কাফির ব্যক্তি বলবে : হায়! যদি আমি মাটি হয়ে যেতাম।

মূল সূরা টি কিয়ামত দিবসকে নিয়ে হলেও এখানে কয়কটি ভাগ রয়েছেঃ

প্রথমে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওরা যা নিয়ে কানাঘুষা করছে তা অতি সন্নিকটে।

অতঃপর বলেছেন যে, সেদিন কি কি হবে

অতঃপর অভিশপ্ত জাহান্নাম বাসিদের জন্য কঠিন আজাবের বর্ণনা দিয়েছেন।

অতঃপর সুসংবাদ প্রাপ্ত জান্নাতিদের জন্য পুরস্কারের বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন ইহা আসবেই আসবে। পালানোর কোন পথ নেই। একমাত্র পথ হচ্ছে আল্লাহর বিধান মেনে আল্লাহর ক্ষমা প্রাপ্তদের দলভুক্ত হওয়া।

এই সূরা সম্পর্কে আরও সুন্দর সুন্দর ব্যাখ্যা মূলক আলোচনা বিস্তারিত জানতে নিচের লিংক গুলো ভিজিট করুনঃ

উপসংহারঃ

আমি নিছক এক গুনাহগার বান্দা। রবের নিয়মত রাজীর যথাযথ প্রশংসা করতে না পেরেও অগণিত নিয়ামত ভোগ করে চলেছি। রাতে এবং দিনে রবের সন্তুষ্টি অর্জনের মত ভালো কিছু করতে না পারলেও অসন্তুষ্টি অর্জন করে চলেছি প্রতি নিয়ত। সহধর্মীনীর পিড়াপিড়িতে পড়তে বসলাম। নিজে যা জানলাম তা দ্বীনি ভাই বোনদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার তাড়নায় এই অকাল পক্ক লিখা লিখলাম। ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধরিয়ে দিয়ে সংশোধন করতে সাহায্য করবেন। এই প্রত্যাশা রইলো।

সর্বোপরি আপনার কাছে আকুল আবেদন, আমার পরিবারকে আপনার প্রার্থনায় শামিল করবেন। যাতে আল্লাহ তায়ালা আপনাদের পাশাপাশি আমাদের কেউ কবুল করেন। আমীন।

আমার সম্পর্কেঃ

আমি মোঃ জামাল উদ্দিন, প্রতিনিয়ত শিখছি এবং যা কিছু শিখছি তা আপনাদের সাথে লেখালেখির মাধ্যমে শেয়ার করার চেষ্টা করছি। কাজ করছি সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে। আমার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন https://jaamaalxyz.github.io ওয়েবসাইটে এবং প্রায় সবগুলো জনপ্রিয় সোশ্যাল সাইটে আমাকে পাবেন jaamaalxyz ইউজারনামে।

--

--

--

A daily checklist for an ideal Muslim life style regarding Quran & Sunnah

Get the Medium app

A button that says 'Download on the App Store', and if clicked it will lead you to the iOS App store
A button that says 'Get it on, Google Play', and if clicked it will lead you to the Google Play store
Md. Jamal Uddin

Md. Jamal Uddin

Sharing my own views about life and tech — https://jaamaalxyz.github.io

More from Medium

grocery runs

#AlumoftheWeek — Catherine M. Gitau, AIMS AMMI ‘20

Understanding the evolution of “research impact”