যে ৭ টি কারনে Java অবসরে যাবে না

জনপ্রিয় এই প্রোগ্রামিং ভাষার ‘অবসর’ নামক এই অপবাদ প্রতিহত করতে যে বৈশিষ্ট্য গুলো সবার জানা অত্যাবশ্যকীয়।

Fuchsia এবং Kotlin এর আবির্ভাবের ফলে Java’র ভবিষ্যৎ সত্যিই আজ প্রশ্নবিদ্ধ। কারন, এদের ব্যাপকতা Java’র সাথে সাংঘর্ষিক। যাই হোক নিচের ৭ টি বৈশিষ্ট্য Java’কে রূপ দিয়েছে সমৃদ্ধশালী এক প্রোগ্রামিং ভাষায়।
যেকারণে জাভা অবসরে যাবেনা

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তায়ঃ

প্রত্যেকটি প্রোগ্রামিং ভাষাকেই তার জনপ্রিয়তা ও চাহিদা অনুসারে বিচার করা হয়। পৃথিবী বিখ্যাত, নেদারল্যান্ডস’র প্রোগ্রামিং শিল্প গোষ্ঠী TIOBE Index এর দেওয়া এক সূচক অনুযায়ী, Java’র নতুনত্ব এবং গুণমান পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও গত প্রায় ১৫ বছর ধরে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষাগুলোর মধ্যে একটি এবং মজার বিষয় ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এটি শীর্ষস্থান দখল করে রয়েছে। TIOBE Index আরও বলে যে, Java শুধু একটি প্রোগামিং ভাষাই নয়, এটি একটি প্লাটফর্ম। এরই ধারাবাহিকতায়, GoJava’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ১০ মিলিয়ন ডেভেলপার, ১৫ বিলিয়ন ডিভাইস এবং ৫ মিলিয়ন ছাত্র Java’র উপর নির্ভরশীল। তবে আরও অবাক করা বিষয়, ক্লাউড কম্পিউটিং- এর উন্নয়নেও Java’র অবস্থান এক নাম্বারে।

প্রযুক্তিগত সুবিধায়ঃ

বিশ্ব সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য মতে, Java কেরিয়ার চালু করার জন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে, মানব-থেকে-ডিজিটাল ইন্টারফেসগুলি অন্বেষণ করা সহ সর্বত্র উদ্ভাবনের প্ল্যাটফর্মও কিন্তু এই ভাষারই দখলে। এজন্যই GoJava তো বলেই দিয়েছে, “Java আমাদের ডিজিটাল লাইফস্টাইলের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে”।

Java’র সাফল্যের একটি বড় অংশ হচ্ছে, এটি স্থানীয়ভাবে নিজেকে বিকশিত করতে পেরেছে। বাণিজ্যিক ও ওপেন সোর্স লাইব্রেরির প্রচুর সরবরাহ Java’কে আরও সহজেই অন্যান্য প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে আলাদা করে দিয়েছে। আরও মজার বিষয় বাইট কোড( byte code) হিসাবে, Java তে কম্পাইল করা লাইব্রেরির জন্য ক্রস-প্ল্যাটফর্ম পোর্টেবিলিটি সুবিধা রয়েছে।এই বৈশিষ্টের কারনেই, Java এক নির্ভরযগ্য প্রোগ্রামিং ভাষায় পরিণত হয়েছে।

No.1 মোবাইল প্ল্যাটফর্মটিও জাভা’র দখলেঃ

মোবাইল প্ল্যাটফর্ম বলতে যে নামটি প্রথমেই আমাদের মাথায় চলে আসে তা হল Google এর Android OS এবং বর্তমানে, এই অ্যান্ড্রয়েডই হচ্ছে বিশ্বের নাম্বার ওয়ান মোবাইল প্ল্যাটফর্ম। তবে সবচেয়ে মজার বিষয়, অ্যান্ড্রয়েডের এই মোবাইল প্ল্যাটফর্মটি প্রতিযোগিতামূলক রাখার জন্য নির্ভর করতে হয়, Java-run অ্যাপ্লিকেশন এবং এর অবকাঠামোর উপরই। জেনে রাখা ভালো, বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বাজারে অ্যান্ড্রয়েডের দখল প্রায় ৮২ শতাংশ। এজন্যই মূলত, Java মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের মূল ভিত্তি।

দ্রুততায়,নির্ভরযোগ্যতায় ও কর্মক্ষমতায়ঃ

২১ শতকের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রত্যাশা করে যে, তাদের ইন্টারনেট যেন যথোপযুক্ত, রিয়েল-টাইম তথ্য এবং নিমেষই কাজ করার দক্ষতা রাখে। GoJava এর দেওয়া তথ্য মতে, Twitter তাদের মুল অবকাঠামো Ruby থেকে JVM’এ স্থানান্তরিত করে, যার ফলশ্রুতিতে Twitter প্রতিদিন ৪০০ মিলিয়নের বেশি টুইটকে সামলাতে পারছে। আপনারা জেনে আরও বেশি অবাক হবেন যে, Internet Live Stats এর দেওয়া এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, Twitter প্রতি সেকেন্ডে ৬০০০, প্রতি মিনিটে ৩৫০,০০০ এবং প্রতি বছর প্রায় ২০০ বিলিয়ন টুইট পোস্ট করার সক্ষমতা রাখে। মূলত, JVM’এর এ দ্রুততা ও কর্মক্ষমতার কারনেই, Java পৃথিবীর দ্রুততম প্রোগ্রামিং ভাষাগুলোর মধ্যে একটি।

শক্তিশালী মালিকানায়ঃ

টেক জায়েন্ট কোম্পানি যেমন, Google, Oracle, IBM, the Apache Software Foundation, Facebook, Spotify, eBay এদের মতই Java’র মালিকানাও প্রযুক্তিবিদদের দ্বারা বিশ্বব্যাপী সমর্থিত। Infoworld এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীব্যাপী প্রায় ৫০০ কোম্পানি তাদের ৯০ শতাংশ কাজ করে Java’র মাধ্যমে। এই ভাষার ব্যাপকতা ব্যাংক, মিডিয়া এবং স্থানীয়, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাজেও বিদ্যমান।

সামঞ্জস্যতায় জাভা’ই সেরাঃ

প্রতিনিয়ত Java ডেভেলপারেরা এর সুরক্ষা নিশ্চিত করেন তাদের মূল্যবান সময় এবং প্রচেষ্ঠা উৎসর্গ করার মাধ্যমে। মূলত এরই ফলশ্রুতিতে একটি বিশেষ সংস্করণের জন্য Java’য় লিখিত কোড নতুন সংস্করণে Hiccups across ছাড়াই সঞ্চালিত হয়। এই সামঞ্জস্যের ফলেই Java ডেভেলপারদের কাছে অন্যতম এক প্রোগ্রামিং ভাষা।

সৃজনশীলতায় জাভাঃ

Java তার প্ল্যাটফর্ম জুড়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা সমর্থন করার ক্ষমতা রাখে এবং মজার বিষয় Java ক্লাউড কম্পিউটিং কে সমর্থন করার সাথে সাথেই এটি একটি কার্যকরী প্রোগ্রামিং ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে।

আপনারা জেনে আরও খুশি হবেন যে, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত Java Community Process (JCP) একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যা আগ্রহী দলগুলোকে Java’র মানসম্মত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের উন্নয়ন করার সমর্থন দেয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই Java’কে আধুনিক ওয়েবের জগতে আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া এবং সেই সাথে এর ব্যাপক উন্নয়ন ও ডেভেলপারদের নানা ভাবে সহায়তা করা সম্ভব হয়। এটি এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মান নির্ধারণ এবং সম্প্রদায় তৈরি করে যা অন্য কোথাও নেই। তাই Java’র এই প্রাতিষ্ঠানটিকে, সৃজনশীলতা উদ্ভাবনের মানদণ্ড বলে আখ্যায়িত করা হয়।

উপরের ৭ টি বৈশিষ্ট্যই বলে দিচ্ছে যে Java’র ব্যাপকতা কত উচ্চ মাত্রার। তাই Java’র অবসর শুধু স্বপ্নমাত্র!
লিখাটি ইংরেজিতে পড়তে চাইলে ক্লিক করুন এখানে

তথ্যসূত্রঃ

উইকিপিডিয়া, WTOP, Go Java, Internet Live Stats

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.