ক্যারিয়ার গড়তে একটি লক্ষ্যই যথেষ্ট

সবার প্রত্যাশা একটি উজ্জল ক্যারিয়ার। কিন্তু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া একটি উজ্জল ক্যারিয়ার গড়া কিভাবে সম্ভব ?

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট থেকে বলছি, লক্ষ্য করলে দেখা যায় দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০০ ভাগের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী কোন লক্ষ্য ছাড়াই তাদের পড়াশুনা চালাচ্ছে। সবার প্রত্যাশা উজ্জল একটি ক্যারিয়ার। কিন্তু সুনিদির্ষ্ট লক্ষ্য ছাড়া একটি উজ্জল ক্যারিয়ার গড়া কিভাবে সম্ভব ?


বেশ কিছু বছর আগে কথা তমাল, টিটু, সজিব ও ইমরান এসএসসি(SSC) পরীক্ষা শেষ করেছে, সবাই বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্র। পরীক্ষা শেষে অনেক পরিকল্পনা কি করবে তারা এ সময় টা । বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু ইমরানের চিন্তা ভাবনা আলাদা সে এই সময়টা কাজে লাগাতে চায়। এ দিকে অভিভাবকরাও চাচ্ছে তারা এ সময়ে কিছু শিখুক । তাই তাদের একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি করতে পরামর্শ দিলো এবং সেখানে মাইক্রোসফট অফিস কোর্সে ভর্তি হলো ।

তমাল, টিটু, সজিব ও ইমরান সহ তাদের ব্যাচে ২০ জন ভর্তি হলো। শুরু হয়ে গেলো ট্রেনিং। দুই সপ্তাহ ক্লাস চলার পর উপস্থিতি ১০ এ এসে নামলো। এর মাঝে ইমরান কম্পিউটার কিনে ফেলেছে, এখন সে ভালো একটা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেকশন খুজছে। তমাল ও টিটুর বাসায় আগে থেকেই কম্পিটার ছিলো, কিন্তু তাদের সময় টা কাটতো মুভি ও গেমস এর পেছনে। আর সজিব এর অভিমত হলো এ গুলো ভালো লাগে না শুধু সার্টিফিকেট টা নিতে হবে। কিন্তু ইমরান ছিলো সবার থেকে আলাদা সে ট্রেইনার দের বিভিন্ন প্রশ্ন করতো এবং নিজে বাসায় বসে ইন্টারনেটে অনেক সময় স্টাডি করতো।

হঠাৎ একদিন ইমরান পরিচিত হলো ওয়েব প্রোগ্রামিং এর সাথে , এর মাঝে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কি এটাও সে বুঝে ফেলেছে। সে HTML শিখা শুরু করে দিলো…
তারপর ৩ মাস ট্রেইনিং শেষে এসএসসির রেজাল্ট ও হয়ে গেলো তারা ৪ জনই A+ পেলো। বিভিন্ন কলেজে ভর্তিও হলো ।

ইমরান একটি সরকারি কলেজে ভর্তি হলো , কিন্তু এর মাঝে সে ঝুকে গেছে প্রোগ্রামিং এর দিকে। সে HTML, CSS, Bootstrap, JavaScript নিজের দখলে নিয়ে নিলো। প্রথম বর্ষ শেষ! পড়াশোনারও চাপ বাড়ছে সে সময় ভাগ করে নিলো । রাতে তার পড়াশুনা শেষ করার পর PHP শেখা শুরু করে দিলো। এদিকে দেখতে দেখতে HSC ফাইনাল শুরু হয়ে গেলো সবাই চিন্তিত ক্যারিয়ার নিয়ে। ইমরান ঠিক করে ফেললো সে CSE করবে।

কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া তো অনেক কঠিন আবার প্রাইভেটেও অনেক টাকার প্রয়োজন।

ইমরান মধ্যবিত্ত পরিবারে ছেলে ; পরীক্ষা শেষে কোচিং এ ভর্তি হয়ে গেলো। এর মাঝে ইমরান প্রজেক্ট বানিয়ে ফেলেছে বেশ কয়েকটা। ফেসবুক ও টুইটারে অনেক ডেভেলপার দের সাথে তার যোগাযোগ ও আছে। তাদের পরামর্শে সে নিজস্ব একটা ওয়েব সাইট বানালো ও খুব সুন্দর করে একটা পোর্টফলিও তৈরী করে ফেললো।

রেজাল্ট বের হলো; ইমরান একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে CSE তে ভর্তি হলো। একদিন সে একটি জব সার্কুলার দেখলো জুনিয়র ওয়েব ডেভেলপার পদে, এপ্লাই করলো। কোম্পানি ইমরানের প্রজেক্ট ও পোর্টফলিও দেখে তাকে নিয়ে নিলো।

শুরু হলো ইমরান এর পথ চলা। গ্র্যাজুয়েশন শেষ! ইমরানের সব বন্ধুরা এখন ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করছে কে কি করবে আর এদিকে ইমরানের ঝুলিতে রয়েছে ৪ বছরেরও বেশী অভিজ্ঞতা। PHP এর Zend সার্টিফিকেট ও সে নিজের দখলে নিয়েছে। একটা কর্পোরেট কোম্পানি তে টিম লিডার হিসেবে জয়েন করছে। পাশাপাশি নিজে আউটসোর্সিং করছে তার সফটওয়ার ফার্মের মধ্য‌ে দিয়ে।


ইমরানের কোন টাকার পুজি ছিলো না। শুধু ছিলো একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য , যা তাকে এই অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। আমরা যারা কম্পিউটার টেকনলজি বা যে সেক্টরেই পড়াশুনা করছি, আমরা কি কোন লক্ষ্য নির্ধারন করেছি ? কি করা দরকার কিভাবে লক্ষ্য ঠিক করে তা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে তা আমরা ইমরানের কাছ থেকে শিখতে পারি।


এতোক্ষণ কষ্ট করে এই লেখা টি পড়ার জন্য ধন্যবাদ ❤

আমি মোহাম্মদ সাদ্দাম হ‌‌োসাইন , বর্তমানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছি।
আমার ফেইসবুক , টুইটার প্রোফাইল!

One clap, two clap, three clap, forty?

By clapping more or less, you can signal to us which stories really stand out.